আদমদীঘিতে ওসির অনিয়মে বিএনপি নেতাদের অভিযোগ

আদমদীঘি প্রতিনিধি: বগুড়ার আদমদীঘি থানার অফিসার ইনচার্জ এসএম মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেবাপ্রত্যাশীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ, অভিযোগপত্রের নেই সুরাহা, ওসির অনুগত অফিসারকে টাকা না দিলে কাজের বিড়ম্বনা সহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী। বৃহস্পতিবার ২০ মার্চ ওসির দ্রুত অপসারণ চেয়ে রাজশাহী উপ-মহা পুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) বরাবর এলাকাবাসীর পক্ষে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন উপজেলার একাধিক বিএনপি নেতা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আদমদীঘিতে থানায় গত কয়েকমাস আগে অফিসার ইনচার্জ হিসেবে যোগদান করেন এসএম মোস্তাফিজুর রহমান। যোগদানের কিছুদিন পর থেকে তিনি জনসাধারণ বিভিন্ন আইনগত বিষয়ে কোন সেবা নিতে গেলে তাদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করে।
অভিযোগ উঠেছে, ভুক্তভোগীরা কোন অভিযোগ দিলে সেটার কোন সুরাহা হয় না। এছাড়াও তার অনুগত অফিসারের মাধ্যমে টাকা না দিলে ওই কজে বিড়ম্বনায় পড়তে হয় ভুক্তভোগীদের। কোন বিষয়ে তাকে অবগত করা হলেও তিনি গুরুত্ব দিতেন না। শুধু তাই নয় জনসাধারণের কাজকর্মে তার সহযোগিতা করার রয়েছে চরম অভাব। এতে প্রতিনিয়ত জনসাধারণগণ আইনগত সেবায় পোহাতে হচ্ছে হয়রানি ও ভোগান্তি।
অথচ ওসির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ অফিসার জনসাধারণদের জন্য আইনগত সেবায় নিয়োজিত। কিন্তু তিনি তা না করে উল্টো জনসাধারণদের সেবা দিতে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। এতে তার এমন আচরণে এলাকার মানুষ অসন্তোষ প্রকাশ করছেন।
ইতোপূর্বে গত ২৪ ফেব্রুয়ারিতে বগুড়া জেলা পুলিশ সুপার বরাবর ওসি মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের বিষয় নিয়ে আদমদীঘি থানায় নাশকতা মামলা বাদী উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি মিজানুর রহমান বাদী হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বর্তমান আদমদীঘি থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান নাশকতা মামলার এজাহারনামীয় আসামীদের গ্রেপ্তারে নেই কোন তৎপরতা। উল্টো তিনি ও তার সহযোগী উপ-পরিদর্শক স্বপন ও আনিছুর রহমান আসামীদের নিকট থেকে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা নিচ্ছেন। বিনিময়ে আসামীদের দিচ্ছেন প্রকাশ্যে ঘোরাফেরার সুযোগ। বিত্তশালীর সঙ্গে যোগাযোগ করে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ ও মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন মামলার বাদী। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে ১৩ মার্চ বিভিন্ন জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এ ঘটনার পর ওসির বিরুদ্ধে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এমন ঘটনার পরও বগুড়া জেলা পুলিশ কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী।
এদিকে কয়েকমাস আগে থানার উপ-পরিদর্শক আনিছুর রহমানকে হাইওয়ে পুলিশে ও হযরত আলীকে শাহজাহানপুর থানায় বদলি করা হলেও নিয়মবহির্ভূতভাবে তাকে এখনো কর্মস্থলে রেখেছেন ওসি মোস্তাফিজুর রহমান।
এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি চুরির ঘটনা ঘটেছে। যার দৃশ্যমান কোন উদ্ধার ও তৎপরতা নেই পুলিশের। সম্প্রতি কদমা গ্রামে গত ৩ মার্চ রাতে কৃষকদের চারটি গরু চুরির ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
এ ব্যাপারে আদমদীঘি থানার অফিসার ইনচার্জ এসএম মোস্তাফিজুর রহমান ছুটিতে থাকায় তার ফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
রাজশাহী উপ-মহা পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ শাহজাহান অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।


প্রকাশিত: মার্চ ২৪, ২০২৫ | সময়: ৩:২৮ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ

আরও খবর