বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
নিয়ামতপুর প্রতিনিধি: জীবিকার তাগিদে উপজেলামুখী হচ্ছে মানুষ। কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রতিদিন গ্রাম থেকে উপজেলা শহরে আসছেন। কেউ উপজেলা শহরে থেকে যায় আবার কেউ কর্ম শেষে সন্ধ্যায় ফিরে যান।
নিয়ামতপুর উপজেলা সদরে দিন দিন বাড়ছে মানুষ। আর মানুষের যোগাযোগের জন্য বাড়ছে বিভিন্ন যানবাহন। ফলে গত এক দশকে উপজেলায় কয়েকগুন মানুষ এবং যানবাহনের সংখ্যা বেড়েছে। কিন্তু রাস্তাঘাট রয়েছে আগের মতই। যদিও রাস্তা নতুন করে সংস্কার হয়েছে তাতে কোন লাভ হয়নি। প্রশস্ত আগের মতই, নেই ফুটপাত। যদিওবা সামান্য ফুটপাত রয়েছে, সেই ফুটপাত দখল করে রেখেছে অস্থায়ী দোকান, স্থায়ী দোকানের মালামাল এবং বাড়ী নির্মাণের সামগ্রী।
অপরকল্পিতভাবে উপজেলা সদরে ব্যাটারি চালিত অটোচার্জার (ইজিবাইক), ও ভ্যান বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন করে কোন রাস্তা তৈরী এবং প্রশস্ত না হওয়ায় বাড়ছে যানজট। এতে একদিকে যেমন সময় নষ্ট হচ্ছে। অপরদিকে বাড়ছে ভোগান্তি। যানবাহনের শব্দে অতিষ্ট উপজেলাবাসী। পরিকল্পিত উপজেলাবাসী ও পথচারিদের ভোগান্তি কমাতে এখনই উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।
রাস্তার দুপাশে ছোট ছোট চায়ের স্টল, পানের স্টলসহ হরেক রকম দোকান গড়ে উঠেছে। এই ঈদের মৌসুমে ঈদের কেনাকাটা, লাচ্চা, সেমাই এর দোকান নিয়ে বসছে রাস্তা দখল করে। খোদ উপজেলা পরিষদের মেইন গেট, থানার প্রাচীরের ধারে, বোর্ডিং মার্কেটের সামনে, অতি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রাস্তা। সেইসব রাস্তায় নেই কোন ফুটপাত। ফলে পাশের দোকানদারদের ক্রেতারা তাদের মটরসাইকেল বা অন্যান্য যানবাহন রাস্তা দখল করেই রেখে দেয়। পুরো উপজেলা সদরে একই চিত্র। উপজেলা সদরে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং এবং অবৈধভাবে চলাচলে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
রাস্তার দুই পাশে স্থায়ী দোকান থাকার পর দোকানের সামনে ফুটপাত দখল করে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীরা তাদের দোকান পরিচালনা করেন। বোর্ডিং মার্কেটের সামনে, থানার প্রাচীর ঘেঁষে ড্রেনের উপর, উপজেলা পরিষদের মেইন গেট, গেটের সামনে, চার মাথার মোড়, তিন মাথার মোড়, নিয়ামতপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে স্থায়ী দোকানীরা তাদের দোকানের সামনের জায়গা দখল করে মালামাল রাখেন।
এতে করে রাস্তায় ভ্যান, রিকশা, সাইকেল, মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ও ছোট যান চলাচল করায় পথচারীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। রাস্তার দুই পাশে দোকানীদের দখলে থাকায় পথচারীরা রা¯স্তর দুই পাশ দিয়ে যেতে পারছেন না। ফলে পথচারীদের এসব যান যাওয়ার পর তাদের হাঁটতে হয় অথবা রাস্তার মাঝেই দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।
নয়ামতপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে সরকারী কাঁচা বাজারের জন্য বরাদ্দ জায়গাটি অবৈধ দখল করে ব্যক্তিগতভাবে ভাড়া দিয়ে দোকান চালাচ্ছে। সব বিষয়ে কর্তপক্ষের কোন নজর নেই।
এ বিষয়ে বাজার সমিতির সভাপতি হায়দার আলী বলেন, আমাদের এখানে শক্তভাবে কোন পদক্ষেপ নেয়া হয় না। তাই যে যার মতো চলছে। আমরা ব্যবসায়ীরা অনেকবার এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি। প্রশাসনিকভাবে জোরালো পদক্ষেপ নেয়া অতি জরুরী।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহেদী হাসান বলেন, এই সমস্যা সমাধানে সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। যানজট নিরসনে তড়িত সমাধান সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সহ ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব নয়। আমরা এ বিষয়ে কাজ করছি। খুব শীঘ্রই সমস্যার কিছুটা হলেও সমাধান করার চেষ্টা করবো।