সর্বশেষ সংবাদ :

বাড়ছে আত্মহত্যার প্রবণতা

স্টাফ রিপোর্টার: সাম্প্রতি রাজশাহীর দুর্গাপুরে একদিনে আটজন আত্মহত্যার চেষ্টা করার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও প্রতিদিনই রাজশহীর কোথাও না কোথাও আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছে। পারিবারিক কলহ, সামাজিক সহিংসতা, মানসিক অবসাদ ও হতাশা এসব আত্মহত্যার প্রধান কারণ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর গবেষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ১০ হাজার থেকে ১৪ হাজার মানুষ আত্মহত্যা করেন। ২০২৩ সালে দেশে ৫১৩ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে, যার মধ্যে ৬১ শতাংশ ছিল নারী শিক্ষার্থী।
আত্মহত্যার পেছনে বহুবিধ কারণ থাকতে পারে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা, বিষন্নতা, উদ্বেগ, বাইপোলার ডিসঅর্ডার, সিজোফ্রেনিয়া ইত্যাদি। পারিবারিক ও সামাজিক চাপ: সম্পর্কের টানাপোড়েন, পারিবারিক কলহ, সহিংসতা, নিঃসঙ্গতা। অর্থনৈতিক সংকট: কর্মসংস্থানের অভাব, ঋণগ্রস্ততা, দারিদ্র্য। শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন: শিশুকালে নির্যাতন, দাম্পত্য নির্যাতন, যৌন হয়রানি। আঘাতমূলক অভিজ্ঞতা: প্রিয়জনের মৃত্যু বা বিচ্ছেদ, শিক্ষা বা ক্যারিয়ারে ব্যর্থতা। মাদকাসক্তি: মাদক ও অ্যালকোহলের প্রতি আসক্তি হতাশা বাড়িয়ে আত্মহত্যার ঝুঁকি বাড়ায়।
কোনো ব্যক্তি আত্মহত্যার চিন্তা করছেন কিনা তা বোঝার জন্য কিছু সাধারণ লক্ষণ রয়েছে যেমন, একাকীত্ব বেছে নেওয়া, স্বাভাবিক কার্যকলাপ থেকে দূরে থাকা। জীবন সম্পর্কে নেতিবাচক কথা বলা। ঘুমের ওষুধ বা বিষাক্ত কিছু সংগ্রহ করা। গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র দান করা, হঠাৎ করে অপ্রত্যাশিতভাবে শান্ত হয়ে যাওয়া। আত্মবিধ্বংসী কাজ করা, যেমন অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, অতিরিক্ত মদ্যপান বা মাদক গ্রহণ।
আত্মহত্যা প্রতিরোধযোগ্য এবং এটি সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে মোকাবিলা করা সম্ভব। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারের উচিত একযোগে কাজ করা। জীবন মূল্যবান এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের মাধ্যমে হতাশা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। সাহায্য চাওয়া কোনো দুর্বলতা নয়, বরং বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন সচেতন পদক্ষেপ।
সম্প্রতি সময়ে দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়েছে। এ বিষয়ে মনোবিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, স্কুল-কলেজে মানসিক স্বাস্থ্য শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানসিক স্বাস্থ্য ও স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে কাউন্সেলিং ব্যবস্থা থাকা উচিত, যাতে শিক্ষার্থীরা তাদের হতাশার সমাধান খুঁজে পায়।
রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থী লিলি বলেন, লেখাপড়া থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানসিক চাপ থাকে প্রচুর। আমার অনেক বন্ধুদের মধ্যেই হতাশা কাজ করে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে।
লিলি আরো বলেন, আত্মহত্যা প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি আত্মহত্যা প্রতিরোধে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা তৈরি করা জরুরি। ব্যক্তি যেন তার মানসিক সমস্যার কথা পরিবার ও বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে শেয়ার করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
রাজশাহী পবা উপজেলার নওহাটা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (ভো.) উচ্চ বিদ্যালয়ের সুপারিনটেনডেন্ট আব্দুল হান্নান চৌধুরী বলেন, যদি কেউ আত্মহত্যার ঝুঁকিতে থাকেন, তবে তাকে দ্রুত মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যেতে হবে। প্রশিক্ষিত মনোবিজ্ঞানী, সাইকোথেরাপিস্ট বা কাউন্সেলরের সহায়তা নিতে হবে। পরিবার ও সামাজিক সহায়তা: পরিবারের সদস্যদের উচিত আত্মহত্যাপ্রবণ ব্যক্তির প্রতি সহানুভূতি দেখানো, তাদের সঙ্গে সময় কাটানো এবং তাদের সমস্যার প্রতি মনোযোগী হওয়া। সামাজিক সংযোগ আত্মহত্যার ঝুঁকি কমায়।
তিনি আরো বলেন, যদি কেউ আত্মহত্যার ইঙ্গিত দেয়, তবে তাকে একা না রাখা এবং তার পাশে থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু বা পরিবারের কাউকে সঙ্গে রাখতে হবে।


প্রকাশিত: March 17, 2025 | সময়: 4:02 am | সুমন শেখ