, , ।
ইসলামের মূল ভিত্তি ৫টি। কালেমা, নামাজ, রোজা, হজ ও যাকাত। নামাজ, হজ, যাকাত যেমন ফরজ; ঠিক তেমনি রোজাও ফরজ। এই পাঁচটি ফরজ বিধানের কোনো একটিকে অস্বীকারকারী কাফের। পবিত্র রমজান মাসে ২৯ বা ৩০ দিন সুবহে সাদিকের পূর্ব থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কোনো কিছু পান-আহার ও যৌন সম্ভোগ থেকে বিরত থাকার নামই রোজা। রোজা ফারসি শব্দ। আরবি হচ্ছে সিয়াম। সিয়াম অর্থ বিরত থাকা।
মহানবী (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি শরীয়তের অনুমোদন কিংবা কঠিন ব্যাধি ব্যতীত রমজানের একটি রোজা ছেড়ে দিল, বিনিময়ে সারা বছর রোজা রাখলেও তার ক্ষতিপূরণ হবে না। (মিশকাত) তবে নারীদের জন্য মাসিক স্রাবের সময় ও সন্তান প্রসব পরবর্তী সময়ে রোজা রাখা হারাম। এই রোজা পরবর্তীতে কাজা করে নেওয়াই শরীয়তের বিধান। অপর এক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি মিথ্যা বলাই পরিহার করতে পারলো না, তার পানাহার বর্জনে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই। অনেক রোজাদার এমন আছেন যারা ক্ষুধা-তৃষ্ণা ব্যতীত কিছুই অর্জন করতে পারে না। আবার এমন লোকের সংখ্যাও কম নয় যারা রাত জেগে ইবাদাত করে কিন্তু তাদের এই জাগরণটুকুই সার।
রোজা একমাত্র আল্লাহর জন্য। এর প্রতিদান স্বয়ং আল্লাহ দেবেন। রোজা রেখে অনেকে গীবত করে। এটা অবশ্যই পরিত্যাজ্য। এ প্রসঙ্গে দুই নারীর রোজা বিষয়ে প্রিয়নবী হজরত মোহাম্মদ (সা.) বলেন, তারা হালাল বস্তু বর্জন করে রোজা রেখেছিল বটে, কিন্তু হারাম বস্তু দ্বারা সে রোজা তারা ভেঙে ফেলেছে। উল্লেখ্য, দুই নারী রোজা রেখে গীবত করেছিল।
সেহেরি: রমজান মাসের সেহেরি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অনেকে সেহেরি না খেয়ে রোজা রাখে এটি ঠিক নয়। এ প্রসঙ্গে প্রিয়নবী (সা.) বলেন, তোমরা সেহেরি খাও, কারণ সেহেরিতে যা খাওয়া হয় তাতে বরকত থাকে। অন্য হাদিসে আছে, সাহুরে বরকত আছে। কাজেই কখনও তোমরা সেহেরি খাওয়া ত্যাগ করো না। কিছু খাওয়া না গেলে এক ঢোক পানি হলেও পান করে নাও। কারণ যারা সেহেরি খায় তাদের প্রতি আল্লাহ রহম করেন এবং ফেরেশতারা তাদের জন্য কল্যাণের দোয়া করে।
ইফতার: ইফতার আরবি শব্দ যা অর্থ ভঙ্গ করা। রমজানে ইফতার করাও একটি উল্লেখযোগ্য বিষয়। দিন শেষে যথাসময়ে সূর্য ডোবার পর রোজা ভঙ্গ করা। অন্তত একটি খোরমা বা খেজুর দ্বারা হলেও। রোজাদারকে ইফতার করানো হলে রোজাদারের পরিমাণ সওয়াব পাওয়া যায়। অবশ্য এতে রোজাদারের সওয়াবের কোনো কমতি হবে না। সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে দেরি না করে ইফতার করা উত্তম।
তারাবি: ইফতারের পর তারাবির প্রস্তুতি। তারাবিহ আরবি তারবীহাতুন এর বহুবচন। এর মূল অর্থ বসা। এক সময়ে রমজানের রাতে এশার ফরজের পর বিতর নামাজের আগে যে ২০ রাকাত নামাজ পড়া হয়, তাকে তারাবি বলে। তারাবি নামাজের চার রাকাত পর বিশ্রামের জন্য বসাকে তারাবি বলার প্রচলন শুরু হয়। তারাবির নামাজ নারী-পুরুষ সবার জন্য সুন্নতে মুয়াক্কাদা। দু’রাকাত করে ১০ সালামে ২০ রাকাত নামাজ পড়া হয়। রমজান মাসে তারাবির মধ্যে পুরো কুরআন খতম করা সুন্নতে মুআক্কাদা। তবে সেই কুরআন তেলাওয়াত স্পষ্ট ভাষায় পড়া উচিত। যাতে মুসুল্লিরা বুঝতে পারেন।
আল্লাহ পাক এরশাদ করেন, কুরআন ধীরে ধীরে আবৃত্তি করো। সুতরাং ধীরে ধীরে তারতিলের সঙ্গে কুরআন তেলাওয়াত করা ফরজ। রমজানে তারাবির নামাজে কুরআন শরীফ শুনাইয়া চুক্তির মাধ্যমে এর বিনিময় নেওয়া জায়েজ নাই।
ইতিকাফ: জামে মসজিদে বালেগ পুরুষরা ইতিকাফ করবে। আর নারীরা নিজ বাসস্থানের এক কোণে ইতিকাফ করবে। অত্র মহল্লার যে কোনো একজন যদিও ইতিকাফে বসে তাহলে সবার পক্ষ থেকে এই ফরজে কিফায়া আদায় হয়ে যাবে, আর যদি কেউ ইতিকাফে না বসে তাহলে সবাই গুনাগার হবেন ফরজে কিফায়া আদায় না করার কারণে। ইতিকাফকারী শবে-কদর পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ইতিকাফকারীকে মসজিদের বাইরের লোকজনের সঙ্গে কথা বলা উচিত নয়। একান্ত জরুরি হলে বলা যায় অন্যথায় অযথা কথা বার্তা থেকে বিরত থাকা উচিত।