সর্বশেষ সংবাদ :

উস্কানি ও গভীর ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছে রাবি প্রশাসন : পাঁচ হলে একসঙ্গে কোরআন পোড়ালো দুর্বৃত্তরা, তদন্ত কমিটি

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫টি হলে এক সঙ্গে পবিত্র কোরআন পোড়ানোর ঘটনা ঘটেছে। শনিবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময়ে দুর্বৃত্তরা পবিত্র কোরআন শরীফে অগ্নিসংযোগ করেছে। ন্যক্কারজনক এ ঘটনায় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মোহা. ফরিদ উদ্দিন খানকে আহবায়ক করে ৯ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তদন্ত কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রাথমিক ও সাত কর্মদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
আবাসিক হলগুলো হলো সৈয়দ আমীর আলী হল, শহীদ হবিবুর রহমান হল, মতিহার হল, মাদার বখ্শ হল ও শহীদ জিয়াউর রহমান হল।
উপাচার্য প্রফেসর সালেহ্ হাসান নকীব ঘটনাস্থলগুলো পরিদর্শন করেছেন। তিনি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উপাচার্য সকলকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এই হীন ঘটনা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রদায়িক ও আন্তঃধর্ম সম্প্রীতি নষ্ট করার হীন চক্রান্ত। এই ঘটনাকে পুঁজি করে যাতে সুযোগ-সন্ধানী চক্র কোনো প্রকার সুবিধা গ্রহণ করতে না পারে সে বিষয়ে সকলকে সতর্ক থাকতে বলেন। ঘটনাস্থলগুলো পরিদর্শনকালে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর মোহাম্মদ মাঈন উদ্দীন, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) প্রফেসর মোহা. ফরিদ উদ্দীন খান, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার প্রফেসর ইফতিখারুল আলম মাসউদ, প্রক্টর প্রফেসর মো. মাহবুবুর রহমান, ছাত্র-উপদেষ্টা ড. মো. আমিরুল ইসলাম, জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক প্রফেসর মো. আখতার হোসেন মজুমদার, আইসিটি সেন্টারের পরিচালক প্রফেসর মো. ছাইফুল ইসলাম প্রমুখসহ সংশ্লিষ্ট হলের প্রাধ্যক্ষ ও আবাসিক শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ক্যাম্পাসে কোরআন শরীফ পোড়ানোর ঘটনায় রবিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে জরুরি প্রেস ব্রিফিং করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ্ হাসান নকীব। এ সময় তিনি বলেন, এ ঘটনায় যারাই জড়িত থাকুক তাদের শনাক্ত করতে পারলে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। আমরা ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। এ ঘটনায় অপরাধীদের ছাড় দেয়া হবে না।
বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য ছাত্রছাত্রী ও কর্মচারী-কর্মকর্তাদের প্রতি জানিয়ে উপাচার্য আরও বলেন, এই ন্যাক্কার জনক ঘটনার জন্য যা কিছু করার লাগে আমরা করব। এটা একটি উস্কানি ও গভীর ষড়যন্ত্র। আমরা এই ষড়যন্ত্রে পা না দিয়ে এর সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করতে চাই।
জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর হল, আমির আলী হল, হাবিবুর রহমান হল ও মতিহার হলে চারটি কোরআন শরীফ পোড়ানো হয়। কোরআনগুলো হলের মসজিদে ছিল। সেখান থেকে বের করে নিয়ে গিয়ে হলের মাঝখানে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। তবে কারা এমন ন্যক্কারজনক কাজ করেছে তা এখনো জানা যায়নি।
জড়িতদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনার জন্য দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এমন ঘটনা ঘটিয়ে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির অপচেষ্টার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছেন। সকালে ঘটনা জানাজানি হওয়ার পরই বিকেলে ৩ টায় মানববন্ধনের ঘোষণা দেয় শিক্ষার্থীরা। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বিকেল ৩ টায় মানববন্ধন শুরু করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। মানববন্ধনে বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রশিবির, রাবি শাখার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক বক্তব্য রাখেন। ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসান মিঠুসহ বেশ কয়েকটি ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্ববৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
মানবন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ ও জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক মোখতার হোসেন উপস্থিত থেকে সংহতি জানান ও বক্তব্য রাখেন। এসময় শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ ধৈর্য রাখার পরামর্শ দেন এবং সাম্প্রতিক সম্প্রতি বজায় রাখার আহ্বান জানান।
এরপর বিকাল সাড়ে ৪ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে বিক্ষোভ মিছিলের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ করে শিক্ষার্থীরা। কর্মসূচিতে বিভিন্ন বিভাগের ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষাসহ সকল কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিলো।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ৫টি আবাসিক হলে পবিত্র কোরআন পোড়ানোর ঘটনায় উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট সকলকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখার পরামর্শ দিয়েছে রাবি প্রশাসনের পক্ষ থেকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেকোনো সময় পরিচয়পত্র দেখতে চাইতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।


প্রকাশিত: January 13, 2025 | সময়: 7:28 am | সুমন শেখ