বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
বড়াইগ্রাম প্রতিনিধি: নাটোরের বড়াইগ্রাম পৌরসভার গোপালপুরে বড়াল নদী পারাপারের জন্য উপর স্থাপিত ব্রিজটি প্রায় দেড় বছর আগে ভেঙ্গে যায়। কিন্তু দীর্ঘদিনেও ব্রিজটি পুনঃনির্মাণের উদ্যোগ না নেয়ায় পৌরসভার কয়েকটি ওয়ার্ডসহ তিনটি ইউনিয়নের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ থানা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাব রেজিষ্ট্রি অফিস, পৌরসভা, বাজারঘাটসহ বিভিন্ন স্কুল কলেজে যাতাযাতে প্রতিনিয়ত সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় ৩০ বছর আগে দুই পাশে মাটি ভরাট করে নদীর মাঝখানে ছোট আকারের ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। ২০২৩ সালের আগষ্ট মাসে বড়াল নদীকে খাল দেখিয়ে বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ খনন কাজ করে। এরপর বর্ষার পানির স্রোতে নীচ থেকে মাটি সরে গিয়ে পাইলিং ছাড়া ব্রিক ওয়াল পদ্ধতিতে নির্মিত ব্রিজটি ভেঙ্গে নদীর মধ্যে ধ্বসে পড়ে।
এতে ভরতপুর, গোপালপুর, বাটরা, তালশো, বাঘাইট, মহানন্দগাছা, কুজাইল, মেরিগাছা, মশিন্দা, দোগাছি, কয়েন, ধানাইদহসহ তিনটি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দাদের থানা সদরে যাতায়াতের একমাত্র পথটি বন্ধ হয়ে যায়। পরে তৎকালীন পৌর মেয়র মাজেদুল বারী নয়নের উদ্যোগে ব্রিজের পাশ দিয়ে একটি কাঠের সাঁকো তৈরি করে নদী পারাপারের ব্যবস্থা করা হয়। এতে ছোট কিছু যানবাহন চলাচল করতে পারলেও বড় যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণরুপে বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে সেটিও নড়বড়ে হয়ে পড়ায় রিক্সা-ভ্যান ও হেঁেট চলা ছাড়া অন্য কোন যানবাহন চলাচল করতে পারে না।
সমাজসেবক আশরাফুল সরকার বলেন, প্রায় ১৭ মাস যাবৎ ভাঙ্গা অবস্থায় থাকলেও নতুনভাবে ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়নি। এতে এলাকার মানুষের চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোবারক হোসেন টিপু বলেন, প্রতিদিন এ পথে শত শত সিএনজি, অটোরিক্সা, অটোভ্যান, ট্রাক-বাস যাতায়াত করে। কিন্তু ব্রিজটি ভেঙ্গে যাওয়ায় বর্তমানে আমাদের এলাকার মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ছাড়াও জরুরী রোগী সরকারি হাসপাতাল বা কোন ক্লিনিকে নেয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
ভরতপুর গ্রামের মাইক্রোবাস চালক মাইকেল জানান, ব্রিজটি পুনঃনির্মাণ না করায় ৮-১০ কিলোমিটার পথ অতিরিক্ত ঘুরে যেতে হয় আমাদেরকে। এতে আমাদের সময় ও ব্যয় দুটোই বেড়ে যায়। জনস্বার্থে দ্রুত ব্রিজটি পুনঃনির্মাণের দাবি জানাই।
উপজেলা প্রকৌশলী রবিউল আলম জানান, রাজশাহী, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এখানে একটি বড় আকারের ব্রিজ নির্মাণের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আশা করছি তাড়াতাড়ি আমরা কাজ শুরু করতে পারবো।