, , ।
বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধি:
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার মিঠাপুর ইউপি চেয়ারম্যান ফিরোজ হোসেন চার মাস থেকে পরিষদে নেই। এতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সেবা নিতে আসা ইউনিয়নের জনসাধারণ। জন্মনিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, ওয়ারিশন সনদ, বিচার-শালিসসহ সকল কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের দিন থেকেই পলাতক ছিলেন মিঠাপুর ইউপি চেয়ারম্যান ফিরোজ হোসেন। এরপর থেকে তিনি আর পরিষদে ঢুকতে পারেননি। কয়েকবার ঢোকার চেষ্টা করলেও স্থানীয় জনগণের তোপের মুখে পড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। বর্তমানে পরিষদের কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। বন্ধ রয়েছে অধিকাংশ সেবা কার্যক্রম। চরম ভোগান্তিতে পরছেন সেবা নিতে আসা এলাকার সাধারণ জনগণ। বিচার-শালিস কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। তবে জন্মনিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্সের স্বাক্ষর তিনি তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ইট ভাটা ও গরুর শেডে বসে করছেন বলে জানা যায়।
গত ২৫ আগস্ট পরিষদের চেয়ারম্যান ফিরোজ হোসেনের বিরুদ্ধে ইউপি সদস্যের সাথে অনৈতিক এবং অসামাজিক আচরণ, গ্রাম পুলিশকে মারপিট, দুর্নীতি, ইউনিয়নের নিরপরাধ মানুষকে আইনি জটিলতায় ফেলে হয়রানি করা, ভিজিএফ এর চাল বিতরণে ব্যাপক দলীয়করণের অভিযোগ এনে ১১ জন ইউপ সদস্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। কয়েকদিন পর সেই অভিযোগ তুলে নিলেও তিনি আর পরিষদে ঢুকতে পারেননি।
মিঠাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. নাহিদ আক্তার জানান, ৫ আগস্টের পর থেকে স্থানীয় জনগণ চেয়ারম্যানকে পরিষদে ঢুকতে দেন না। তবে পরিষদের সই-স্বাক্ষর সংক্রান্ত কোনো বিষয় থাকলে চেয়ারম্যানের ইট ভাটা, গরুর শেডে গিয়ে করে নিয়ে আসতে হয়। পরিষদের কাজ বাহিরে গিয়ে করার বিধান আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি একদিন তার কাছে গিয়েছি। আপনি এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেন।
আট নম্বর ওয়ার্ড সদস্য এমরান সরকার লিটন বলেন, পরিষদের চেয়ারম্যান না থাকায় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। জন্মনিবন্ধন, ওয়ারিশন সনদ, ট্রেড লাইসেন্সসহ সই-স্বাক্ষর সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যেতে হয়। বিচার-শালিস কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ৫ আগস্টের পর চেয়ারম্যান মাত্র ছয় দিন হাজিরা দিয়েছেন।
এক নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আহসান হাবীব উজ্জ্বল বলেন, সাধারণ মানুষের দাবি চেয়ারম্যান ফিরোজ হোসেন আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে ব্যাপক দলীয়করণ করেছেন, সাধারণ জনগণ সরকারি সকল সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এ কারণে তার উপর সাধারণ মানুষের এত ক্ষোভ। চেয়ারম্যান পরিষদে না থাকায় আমরা কোনো কাজ ঠিকমতো করতে পারছি না। আর ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
গত ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান ফিরোজ হোসেনের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ২৮ নভেম্বর ২০২১ তারিখের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ফিরোজ হোসেন প্রতিটি কেন্দ্রে অবৈধভাবে জোরপূর্বক তার প্রতীকের সিল মেরে ব্যালট বাক্স ভরাট করে। আমাদেরকে তার গুন্ডাবাহিনী দিয়ে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচনী প্রচারণায় বাধাসহ সাধারণ মানুষকে ভোট প্রদানে বাধার সৃষ্টি করে। সুষ্ঠুভাবে সাধারণ মানুষ ভোট দিতে পারলে ফিরোজ হোসেন বিপুল ভোটে পরাজিত হতো। তাই ফ্যাসীবাদী সরকারের পতনের পর সাধারণ মানুষের তোপের মুখে তিনি আর পরিষদে ঢুকতে পারেন না।
এক নম্বর ওয়ার্ডের ইসমাইলপুর গ্রামের উজ্জ্বল হোসেন ঢাকায় চাকরি করেন। তিন দিনের ছুটি নিয়ে বাড়িতে এসেছেন ছেলের জন্ম নিবন্ধনের জন্য। কিন্তু চেয়ারম্যান না থাকায় তার কাজ হচ্ছে না। তিন দিনের মধ্যে কাজ না হলে কাজ না করেই ঢাকায় ফিরে যেতে হবে।
পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের ঝাড়ঘরিয়া গ্রামের মেহেদি হাসান বলেন, আমার ছোট ভাইয়ের জন্মনিবন্ধনের সমস্যা। চেয়ারম্যান না থাকায় দের মাস থেকে ঘুরছি। কিন্তু কাজ হচ্ছে না।
আট নম্বর ওয়ার্ডের খাদাইল গ্রামের রেজানুর হাসান বলেন, জন্মনিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন সই-স্বাক্ষরের কাজগুলো চেয়ারম্যান তার ইট ভাটা ও গরুর শেডে বসে করেন। সকালে দিলে সন্ধ্যায় গিয়ে নিয়ে আসতে হয়। আর বিচার শালিসের কোনো অভিযোগ নেওয়া হচ্ছে না।
এ বিষয়ে জানার জন্য জানার জন্য মিঠাপুর ইউপি চেয়ারম্যান ফিরোজ হোসেনের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অযথাই তারা আমাকে পরিষদে ঢুকতে দিচ্ছে না। তবে তাদের সাথে আমার কথা হয়েছে। খুব শিঘ্রই পরিষদে বসে সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবো বলে আশা করছি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব হাসান ভোরের আকাশকে বলেন, মিঠাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফিরোজ হোসেনের পরিষদে অনুপস্থিতির কারণে যে সমস্যা হচ্ছে এরকম কোনো লিখিত অভিযোগ আমি পাইনি। তবে এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আমি কথা বলবো।