সর্বশেষ সংবাদ :

সিপিডির চেয়ারম্যান রেহমান সোবহান: রাজনৈতিক সংকট সংলাপের মাধ্যমে সমাধান হওয়া উচিত

স্টাফ রিপোর্টার: বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) চেয়ারম্যান বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেছেন, সব রাজনৈতিক সংকট গঠনমূলক সংলাপের মাধ্যমে সমাধান হওয়া উচিত। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো নীতিমালা ভুল কি না বা সংস্কারের প্রয়োজন কি না, সেটি নয়। বেশিরভাগ সময় নীতিমালা বাস্তবায়ন হয় না। এবং এটিই বাস্তবায়ন ব্যর্থতা। সুতরাং প্রকৃত সমস্যা হলো সরকারের নীতিমালা বাস্তবায়নে ইচ্ছা রয়েছে কিনা। রোববার রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে এক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।
সিপিডির ৩০ বছর উপলক্ষে মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে ‘দ্য সিপিডি জার্নি: মেমোরেটিং থার্টি ইয়ারস অফ সিপিডি’ শিরোনামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দিনব্যাপী চারটি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে উদ্বোধনী অধিবেশনে অর্ন্তর্বতী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনুসের ধারণকৃত শুভেচ্ছা বক্তব্য পরিবেশন করা হয়।
৩০ বছরের পথ পরিক্রমায় এ কাজটি করার চেষ্টা করেছে সিপিডি। এই সংলাপের মাধ্যমে সরকারকে জবাবদিহির আওতায় আনার চেষ্টা করা হয়েছে। পাশাপাশি উন্নয়নের পূর্বশর্ত মানসম্পন্ন সুশাসন প্রতিষ্ঠায়ও কাজ করেছে সিপিডি। এ সময় তিনি সিপিডির প্রতিষ্ঠার পটভূমি এবং সিপিডির বিভিন্ন কার্যক্রমের ওপর আলোকপাত করেন। বিশেষ করে কীভাবে সিপিডি সংসদের বাইরে জনগণের মতামত প্রকাশের একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে।
সিপিডির ডিস্টিঙ্গুইশড ফেলো প্রফেসর রওনক জাহান বলেন, সিপিডি দেখিয়েছে উন্নয়নের জন্য ভালো শাসনব্যবস্থা প্রয়োজন। সিপিডি শাসনব্যবস্থা এবং রাজনীতির মধ্যে সংযোগ তুলে ধরেছে। সিপিডি সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে কাজ করছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতা এবং সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, যখন ভোট দেওয়ার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়, তখন এর ফলে অনেক অন্যান্য অধিকারও হারিয়ে যায়।”
এমসিসিআই’র সাবেক সভাপতি ব্যারিস্টার নিহাদ কবির সিপিডির আর্থিক খাতের প্রতি অবদানের প্রশংসা করেন। বিশেষ করে কনেকটিভিটি এবং বাণিজ্য সম্ভাবনার ক্ষেত্রে।
দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম সিপিডিকে “বিশ্বাসযোগ্য তথ্যের উৎস” হিসেবে আখ্যায়িত করেন। বিশেষ করে এমন সময়ে যখন মিডিয়া আউটলেটগুলোর জন্য আর্থিক এবং সামাজিক তথ্যের অভাব দেখা দিয়েছে। তিনি সিপিডির প্রি-এন্ড পোস্ট-বাজেট সংলাপের প্রশংসা করেন যা নতুন চিন্তার সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
তিনি আরও বলেন, গত ১৫ বছরে, মুক্তচিন্তা এবং অন্যদের মতামত সহিষ্ণুতা সবচেয়ে বেশি আঘাত পেয়েছে। ভোটাধিকার দমন করা হলে সকল ধরনের স্বাধীনতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা ধ্বংস হয়ে যায়।
বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংঘতির সভাপতি তাসলিমা আক্তার সিপিডির শ্রমিকদের অধিকার এবং ন্যায্য মজুরির দাবির জন্য ভূমিকার প্রশংসা করেন।
এ ছাড়া, অর্ন্তর্বতী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ভিডিও বার্তায় সিপিডির গবেষণামূলক কার্যক্রমের প্রশংসা করেন এবং তার আশা প্রকাশ করেন যে, সিপিডি আগামীতে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) তার সিদ্ধান্তে অনড়। বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে কাজ করে যাচ্ছে সংস্থাটি। শুরু থেকেই কালো টাকা সাদা করার পক্ষে মত দেয়নি সিপিডি। এখনো সেই সিদ্ধান্তে অনড়।
তিনি বলেন, সিপিডির অনেক গবেষণা কার্যক্রম পর্যালোচনা করে সরকার উন্নয়নে কাজ করেছে। পরিকল্পনা হাতে নিয়ে বর্তমানেও কাজ করছে। সেই সঙ্গে অনেক পলিসি মেকিংয়ে সহায়তা করেছে।
পাশাপাশি সমতাভিত্তিক সমাজ নির্মাণে প্রগতিশীল কর ব্যবস্থার প্রয়োজন। কর ও মূসক কাঠামোর পুনর্বিন্যাস প্রয়োজন। পাশাপাশি কর ফাঁকির বিষয়গুলো আমরা নিয়ে আসছি।
প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে তিনি বলেন, সিপিডির অনেক গবেষণা কার্যক্রম পর্যালোচনা সরকার উন্নয়নে কাজ করেছে। পরিকল্পনা হাতে নিয়ে কাজ করেছে। সেই সঙ্গে অনেক পলিসি মেকিংয়েও সহায়তা করেছে। গত ৩০ বছরে সিপিডি শিক্ষা, অর্থনীতি, জ্বালানি, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালা প্রণোয়নে পরামর্শ দিয়েছে। সিপিডি সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়। আমাদের অনেক গবেষণা নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়। সেগুলো আমরা স্বাগত জানাই।
সম্মেলনে সিপিডির ট্রাস্টি বোর্ডের মেম্বার রাশেদা চৌধুরী বলেন, অর্থনীতির গবেষণার পাশাপাশি রেমিট্যান্স নিয়ে গবেষণা প্রয়োজন। কীভাবে আয়-ব্যয় হয় সেই হিসাবটা জরুরি। এই বিষয়ে সিপিডির আরও গবেষণা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, দেশে অনেক মানুষ রয়েছে যারা কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে চায়। কিন্তু সঠিক পথ খুঁজে পায় না। সেই সঙ্গে আস্থাহীনতায় ভোগে। যার ফলে অনেক বিনিয়োগকারীরা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।
অন্যদিকে সিপিডি নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, বিগত ১০০ দিনে সিপিডির অন্তত ২৩টি সুপারিশ অর্ন্তর্বতীকালীন সরকার গ্রহণ করেছে। প্রতি বছর বাজেটের আগে আমরা নানান প্রস্তাব দিয়ে আসছি। এছাড়া বাজেট পরের দিন আমরা সংবাদ সম্মেলন করে আসছি। সিপিডিকে অনেক ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। অনেক ধরনের সমালোচনার সম্মুখীন হতে হয়েছে।


প্রকাশিত: December 2, 2024 | সময়: 7:05 am | সুমন শেখ