, , ।
স্টাফ রিপোর্টার, বাগমারাঃ
রাজশাহীর বাগমারায় আলু বীজ ও সার সিন্ডিকেটের কারণে বিপাকে পড়েছেন কৃষক। এলাকার রবি মওসুমের প্রধান ফসল আলু। বর্তমানে আলু চাষে কৃষকরা মাঠে নেমে পড়েছে। তবে চাষে ব্যপক খরচে বিপাকে পড়েছেন এলাকার কৃষকরা। কৃষকদের অভিযোগ, ন্যায্যমূল্যে বীজ ও সার পাচ্ছেন না তারা। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে বাজারে আলুবীজের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। একইভাবে সারের দামও অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এতে আলু চাষে উৎপাদন খরচ বাড়ছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানিয়েছে, কেউ যদি সিন্ডিকেট করে বীজ ও সার বিক্রি করে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় প্রায় সাড়ে ১০ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষের জন্য নির্ধারন করা রয়েছে। বাগমারা এলাকায় উৎপাদিত আলু স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে সারা দেশে সরবরাহ করা হয়। তবে এবারের আলু চাষ শুরুর পর কৃষকরা জানিয়েছেন, কিছু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অধিক দামে বীজ বিক্রি করছেন। স্থানীয় কৃষকরা বলেন, তারা সরকার বা কোম্পানির নির্ধারিত দামে আলুবীজ পাচ্ছেন না। বেশি দামে তাদের বীজ ও সার কিনতে তারা বাধ্য হচ্ছেন। কৃষকরা দাবি করছেন, এই সিন্ডিকেট ভাঙা প্রয়োজন। অন্যথায় তারা আর্থিকভাবে বিপযস্ত হয়ে পড়বেন।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষকরা অভিযোগ করছেন, আলুর বীজ ও সার কিনতে তাদের অতিরিক্ত টাকা খরচ করতে হচ্ছে। যেমন- ব্র্যাক সিডের গ্র্যানুলা, কারেজ, বারি আলু-৬২ ও এস্টেরিক্স জাতের আলুর বীজ ৩ হাজার ১৮০ টাকা দরে পাওয়ার কথা ছিল। কিš‘ বাজারে এসব বীজের দাম ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। একইভাবে সারের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। এমওপি ও ডিএপি সারের দাম ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে প্রতি বস্তায়। এতে স্থানীয় কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন। অনেকে স্টোরের রাখা আলুই বীজ হিসেবে ক্রয় করতে স্টোরে ছুটছেন। এ কারণে স্টোরের আলুর দামও বড়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলার বালানগর গ্রামের কৃষক বয়েন উদ্দিন বলেন, ৩ হাজার ১৮০ টাকার ব্র্যাক সিডের আলু কিনতে গিয়ে ৪ হাজার ৪০০ টাকা নিয়েছে। সবাই দাম বেশি নিচ্ছে। তা হলে আমরা চাষাবাদ কীভাবে করব? একই ভাবে কৃষক জালাল উদ্দিন অভিযোগ করেন, এবার ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে আলুবীজের দাম বেশি নিচ্ছে। আমরা সরকার বা কোম্পানির নির্ধারিত দামে আলুবীজ পাচ্ছি না। সারও পাওয়া যাচ্ছে না।
কৃষক ফছির উদ্দিন বলেন, সার ও বীজ সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে আছে। না হলে ৩ হাজার টাকার বীজ ৪ হাজার ৪০০ টাকায় কেন কিনতে হচ্ছে? এক বস্তা সার কিনতেও দুই থেকে তিন শ’ টাকা বেশি নিচ্ছে। এ ভাবে আলুচাষ করে লাভবান তো দুরের কথা লোকশান হতে পারে। অপর দিকে আলু ব্যবসায়ী নান্নু মিয়া জানান, বাগমারার অধিকাংশ আলু গুলো দেশের বিভিন্ন স্থান ছাড়াও বিদেশে রপ্তানীর কারনেই আলুর দাম বাজারে বেড়ে গেছে।
উপজেলার বীজ বিক্রেতাদের দাবি বাইরে থেকে বেশী দামে বীজ ক্রয় করতে হচ্ছে। তাই বেশী দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
স্থানীয় চাষীরা জানান, শুধু বাজার মনিটরিং করেই এ সমস্যা সমাধান হবে না। ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ভেঙে আলুবীজ ও সারের দাম যদি নিয়ন্ত্রণে না আসে, তবে তারা আর্থিকভাবে বড় বিপদে পড়বেন। তারা সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন, কৃষকদের জন্য আরও কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। বিশেষত সরকারের পক্ষ থেকে যদি আলুবীজ ও সার সরবরাহের জন্য সরাসরি উদ্যোগ নেওয়া হয়, তা হলে বাজারে কৃত্রিম সার ও বীজ সংকট সৃষ্টি হওয়ার সুযোগ থাকবে না।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুর রাজ্জাকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বাজারে খাওয়ার আলুর দাম বেড়ে যাওয়ায় বীজের উপর প্রভাব পড়েছে। কৃষকদের স্টোরে যে আলু ছিল তা বীজ হিসেবে ব্যবহার হতো। এবারে দাম পাওয়ায় আগেই বিক্রি হয়েছে। ফলে বাজারে যে কাইছে তা বীজ আলুর উপর পড়ায় বেশী দাম। তবে নির্ধারিত মূল্যের অতিরিক্ত কেউ নিলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া সারের অতিরিক্ত দাম নেয়ার সুযোগ নেই বলে তিনি জানিয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুবুল ইসলাম বলেন, সার ও আলু বীজ কৃষি খাতের গুরুত্বপূর্ন উপাদান। এসব নিয়ে কোন অনিয়ম হলে কঠোর আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
সানশাইন / প্রিন্স/শামি