বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
নুরুজ্জামান,বাঘা:
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট শহীদ জিয়াউর রহমানের গড়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিকে আরো শক্তি শালী ও সু-সংগঠিত করা হবে। এমনটি উল্লেখ করে রাজশাহীর চারঘাট-বাঘায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) সকালে বাঘা এবং বিকেলে চারঘাট উপজেলায় পৃথক-পৃথক ভাবে এ দিবসটি পালন করা হয়। এর নেতৃত্বে ছিলেন জেলা বিএনপির আহবায়ক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আবু সাইদ চাঁদ।
সকাল ১১ টায় বাঘা শাহদৌলা সরকারী কলেজের হলরুমে অনুষ্ঠিত এ সভার সভাপতিত্বে করেন বাঘা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ফকরুল হাসান বাবলু। এ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবু সাইদ চাঁদ বলেন, আজ ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবে দেশের তৎকালীন রাজনীতির গতিধারা পাল্টে গিয়েছিল। দেশ ও জাতি পেয়েছিল নতুন দিশা।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিব-সহ তার পরিবার দুস্কৃতিকারী দের হাতে হত্যাকাণ্ড এবং ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে হত্যার ঘটনার ধারা বাহিকতায় সেনাবাহিনীর তৎকালীন উপপ্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খালেদ মোশাররফ তার অনুসারী সেনা সদস্যদের নিয়ে এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে বন্দি করেন। এরপর নিজেকে সেনাপ্রধান হিসেবে ঘোষণা দিয়ে ৬ নভেম্বর বঙ্গভবনে গিয়ে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট খন্দকার মোশতাক আহমেদকে গ্রেপ্তার করে মন্ত্রিসভা বাতিল এর ঘোষনা দেন। এ সময় প্রধান বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে দেশের প্রেসিডেন্টের পদে বসান। ওই রাতেই সেনাবাহিনীর সাধারণ সিপাহিরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। সেই অভ্যুত্থানে স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন দিয়ে সর্বস্তরের জনতা রাজপথে নেমে আসে। সিপাহি-জনতার মিলিত সেই বিপ্লবে বন্দি অবস্থা থেকে মুক্ত হন জিয়াউর রহমান।
এদিকে পাল্টা অভ্যুত্থান ঠেকাতে গিয়ে ৭ নভেম্বর সকালে কয়েকজন অনুসারী-সহ প্রাণ হারান খালেদ মোশাররফ। অভূতপূর্ব এক সংহতির নজির সৃষ্টি হয় দেশের রাজনীতিতে। জিয়া চলে আসেন ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পটপরিবর্তনের পর জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব প্রভাবমুক্ত হয়ে শক্তিশালী সত্তা লাভ করে। গণতন্ত্র অর্গলমুক্ত হয়ে অগ্রগতির পথে এগিয়ে যায়, এইদিন থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয় এবং পরবর্তী সময়কাল থেকে প্রতিবছর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উৎযাপন করা হয়।
বাঘা উপজেলা ও পৌর বিএনপির যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সভার সঞ্চলনার দায়িত্ব পালন করেন বাঘা পৌর বিএনপির সভাপতি তফিকুল ইসলাম তফি। এ সময় সভামঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বাঘা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরুজ্জামান খান মানিক, সাবেক তিনবারের নির্বাচিত সাধারণ সাইফুল ইসলাম, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও আহবায়ক কমিটির সদস্য আশরাফ আলী মলিন, অপর এক সদস্য মোখলেচুর রহমান মুকুল, সুরুজ্জামান, বিএনপি নেতা প্রফসের (অবঃ) রুহুল আমিন, তোজাম্মেল হক, কামাল হোসেন, যুবদল নেতা আব্দুস সালাম, আব্দুল লতিফ, শহিদুল ইসলাম, শফিকুল ইসলাম, রবিউল ইসলাম ও সাহবাজ আলী-সহ বিএনপি,যুবদল, ছাত্রদল এবং সকল সহযোগী সংগঠনের নের্তৃবৃন্দ। পরে সভাস্থল থেকে একটি র্যালি বের হয়ে উপজেলার প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে একই স্থানে এসে মিলিত হয়।
অন্য দিকে বিএনপির অপর একটি গ্রুপ আনোয়ার হোসেন উজ্জলের পক্ষে বাঘা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সদস্য আব্দুল্লাহ আল মামুনের নের্তৃত্বে পৃথক একটি র্যালি উপজেলার প্রধান সড়ক-সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি নেতা মজিবর রহমান জুয়েল, জেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতা সোহেল রানা, কৃষক দলের হিটলার মন্ডল, সাবেক যুবদল নেতা সিরাজুল ইসলাম সেন্টু, তানভীর আহম্মেদ (পিয়াস), জাহাঙ্গীর আলম রনি, আমির হাসান রনি প্রমুখ।
অপর দিকে বিকেলে চারঘাট উপজেলায় জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সাইদ চাঁদ ও পৌর সভার সাবেক মেয়র বিপুল হোসেনের নেতৃত্বে আলোচনা সভা শেষে বিশাল একটি মিছিল অনুষ্ঠিত বের করা হয়। এতে অংশ গ্রহন করেন বিএনপি ও তার সকল সহযোগী সংগঠন। এই মিছিলে প্রায় ৫ হাজার মানুষ অংশ গ্রহন করেন।