বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
স্টাফ রিপোর্টার, শিবগঞ্জ: অবশেষে ৬ বছর পর অবরুদ্ধ হয়ে বন্দী পড়া ভায়ের কবল থেকে মুক্তি পেলেন অপর দুই ভায়ের ২টি পরিবার। মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের নির্দেশে অবৈধভাবে নির্মাণকৃত দেয়াল ভেঙ্গে উচ্ছেদের পর পরিবার দুটোর মুক্তি মেলে। ঘটনাটি চাঁপাইনাববগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট ইউনিয়নের বিশ্বনাথপুুর গ্রামের।
এর আগে গত ৬ বছর আগে বাবা আবুল কাশেমের মৃত্যুর পর ছেলে মেরাজুল ইসলাম মংলু ও তার ভাই মোজাম্মেল হকের বাড়ি থেকে বের হবার রাস্তা পাকা ওয়াল দিয়ে আটকে দেন তাদেরই আপন ভাই মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। সে থেকেই দুই পরিবার মানবেতর জীবন-যাপন করছিলেন।
স্থানীয়রা জানায়, পিতার মৃত্যুর পর মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ জমির ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে প্রথমে আদালতের স্মরণাপন্ন হন এবং বসত বাড়ির সামনের অংশের দখল পান। এরপর তিনি তার বাড়ির পেছনে একটি পাকা দেয়াল নির্মাণ করে অপর দুই ভাই মেরাজুল ইসলাম মংলু ও মোজাম্মেল হকের বের হবার একমাত্র রাস্তাটি আটকে দেন। প্রেক্ষিতে তারা আদালতের স্মরণাপন্ন হলে আদালত মোজাম্মেল হকের পক্ষে রায় দেন।
আদালতের রায় মোতাবেক মঙ্গলবার দুপুরে অবৈধভাবে দখলকৃত জমি উদ্ধার করে মেরাজুল ইসলাম মংলু ও মোজাম্মেল হকের বাড়ির সামনের নির্মাণকৃত ওয়াল ভেঙ্গে উচ্ছেদেও মাধ্যমে চলাচলের রাস্তা উন্মুক্ত করে দেয়া হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা জজ আদালতের দায়িত্বপ্রাপ্ত নায়েব নাজীর নুরুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা জজ আদালতের আদেশ জারিকারক রেজাউল করিম, সার্ভে কমিশনার এডভোকেট আখতারুল ইসলাম ও শিবগঞ্জ থানা পুলিশের সদস্যরা।
মোজাম্মেল হক বলেন, একাধিক বার জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার পাইনি তারা। ছোট ভাই মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ শুধু তাদের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়াল দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি।সে আমার ভাই মেরাজুল ইসলাম মঙলুর বাসায় বিদুৎতের সংযোগ লাইন টি ও যেতে দেয়নি। আজ আদালতের নির্দেশে উচ্ছেদ করায় আমি ও আমার ভাই মুক্তি পেলাম। তবে আমার ভাই মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর আচরণ উদ্বেগজনক হওয়ায় আমরা আতঙ্কিত।
প্রতিবেশী মিজানুর রহমান বলেন, নিজের বড় ২ ভায়ের বাড়ি থেকে বাইরে যাওয়ার রাস্তা ৬ বছর আগে বন্ধ করেছে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, যা অমানবিক কাজ। ছোট ভাই রাস্তা বন্ধ করে নানাভাবে জুলুম করায় বড় ভাই ২টি কষ্টে ছিল। স্থানীয়ভাবে অনেকবার তাদের সমস্যাটি সমাধানের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হই আমরা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা জজ আদালতের দায়িত্বপ্রাপ্ত নায়েব নাজীর নুরুল ইসলাম বলেন, আদালতের নির্দেশে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর দখলকৃত বসত ভিটা জমিতে নির্মাণকৃত ওয়াল ভেঙ্গে উচ্ছেদ করা হল। এখন থেকে ঐ ২টি পরিবার মুক্তভাবে চলাচল করতে পারবে।