পুঠিয়া রাজবাড়ী ও জাদুঘর এখন পর্যটক শূন্যতায়

রকিবুল হাসান, (স্টাফ রিপোর্টার: পুঠিয়া)

গত ৫ আগস্ট এর পর পর্যটক শূন্য হয়ে পড়েছে পুঠিয়া ঐতিহাসিক রাজবাড়ী ও জাদুঘর। যেখানে সপ্তাহের প্রতিদিনই দেশ-বিদেশে থেকে দর্শনার্থী দেখা মিলতো ঐতিহাসিক রাজবাড়ী ও জাদুঘরে তারা ঘুরতে আসতো। সপ্তাহের বিশেষ দুদিন শুক্র ও শনিবার মানুষের ভরপুর থাকতো পুঠিয়ার ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান রাজবাড়ী ও জাদুঘরে কিন্তু সেখানে এখন পর্যটক শূন্য হয়ে পড়েছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সপ্তাহের প্রতিদিনই দেশ-বিদেশের-সহ নানান প্রান্ত থেকে অসংখ্য পর্যটকের দেখা মিলতো, কিন্তু গত ৫ আগস্টের পর থেকে দর্শনার্থী নেই বললেই চলে। দেশের বর্তমান অবস্থায় মানুষের নিরাপত্তা স্বার্থে বর্তমানে রাজবাড়ীতে পর্যটকের সংখ্যা বেপক কমে গেছে বলে মনে করেছে স্থানীয় অনেক বিশিষ্টজনেরা।

 

তারা আরও বলেন, এই সংকট থেকে কাটিয়ে উঠতে একটু সময় লাগবে। তবে বর্তমানে রাজবাড়ী চারিদিকে যে বিভিন্ন গাছ ও উপকরণ দিয়ে সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং বাহারি নানা রকমের ফুলের গাছ দিয়ে সাজানো হয়েছে তাতে অচিরেই দর্শনার্থী আকৃষ্ট হবে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।

 

এছাড়াও পুঠিয়া রাজবাড়ী আশেপাশে যে সকল স্থান ঘুরে দেখার মতো, সেগুলো হলো, রাজবাড়ি ছাড়াও, রাজাদের স্মৃতি বিজড়িত বড় গোবিন্দ মন্দির, ছোট গোবিন্দ মন্দির, বড় শিবমন্দির, ছোট শিবমন্দির, বড় আহ্নিক মন্দির, ছোট আহ্নিক মন্দির, জগদ্ধাত্রী মন্দির, দোল মন্দির, রথ মন্দির, গোপাল মন্দির, সালামের মঠ, খিতিশচন্দ্রের মঠ, কেষ্ট খেপার মঠ, হাওয়া খানা, রানিঘাটসহ ১৫টি প্রাচীন স্থাপনা রয়েছে ঐতিহাসিক পুঠিয়াতে।

 

পুঠিয়া প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকার ব্যবসায়িকরা বলেন, দেশের এমন প্রেক্ষাপটের কারণে দর্শনার্থী অনেক কমে গেছে। সে সাথে কমে গেছে আমাদের ব্যবসা। এতে করে প্রতিদিন লোকসানে আছি। এনজিও থেকে ঋণের নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলাম। ঘর ভাড়া ও ঋণের টাকা এখন মাথার উপরে বোঝা। যত দ্রুত দর্শনার্থী আসবে ততই আমাদের জন্য মঙ্গল।

 

রাজবাড়ী ও জাদুঘর ঘুরতে আমিনুল হোসেন বলেন, রাজবাড়ী ও জাদুঘর ঘুরতে এসেছি। ঘুরে অনেক কিছু দেখলাম। কিন্তু দুঃখ জনক ব্যাপার এই যে, পুঠিয়া রাজবাড়ী বর্তমানে দর্শনার্থী শূন্য বললেই চলে। আশা করি দেশ আবার আগের মতো স্বাভাবিক হলেই ঐতিহ্যময় জায়গা গুলোতে দর্শনার্থী আসবে।

 

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুঠিয়া রাজবাড়ি ও জাদুঘর অ্যাসিসট্যান্ট কাস্টোডিয়াল হাফিজুর রহমান বলেন, গত ৫ আগস্টের এর পরে থেকে দর্শনার্থী কমে গেছে উল্লেখযোগ্য ভাবে। ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারাও এখন আর ভিজিট করেন না। সেই সাথে বিদেশী দর্শণার্থী একেবারেই নেই। তবে রূপপুর পারমানবিক থেকে রাশিয়ানরা দু-একজন করে আসা শুরু করেছে। আশা করা যায় সামনে শীতকালের মধ্যই আবার দর্শনার্থী আসা শুরু হবে।


প্রকাশিত: অক্টোবর ৩, ২০২৪ | সময়: ১২:২৪ অপরাহ্ণ | Daily Sunshine

আরও খবর