মোহনপুরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ

স্টাফ রির্পোটার, মোহনপুর: আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে হয়েছেন মোহনপুর উপজেলার বাকশিমইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি, ৫ নং বাকশিমইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি তৎকালীন মোহনপুর মহিলা ডিগ্রী কলেজ গভনিং বর্ডি সভাপতি এ্যাড. আব্দুস সালাম, সাবেক এমপি আয়েন উদ্দিনের আর্শিবাদে জ্যেষ্ঠতা বহির্ভূত ভাবে প্রভাব খাটিয়ে (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যক্ষের চেয়ার দখল করেন আব্দুল মান্নান। ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে কলেজে প্রায়ই থাকতেন অনুপস্থিত।

 

 

শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সাথে করতেন খারাপ ব্যবহার। কলেজের ফান্ডের টাকা ভোগ করেছেন ইচ্ছে মতো। শিক্ষকদের পদোন্নতির নামে নিতেন ঘুষ। এমন অভিযোগ ওঠেছে মোহনপুর মহিলা ডিগ্রী কলেজের (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যক্ষ ও বাকশিমইল ইউনিয়ন সভাপতি আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে সহকারী অধ্যাপক মাহবুবুল আলম, শাহ আলম, প্রভাষক তপন কুমার সরকার, টিুপ সুলতানসহ ২৪ জনের স্বাক্ষরিত লিখিত অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ বিভিন্ন দপ্তরে দাখিল করেছেন।

 

কলেজের সহকারী অধ্যাপক মাহবুরবুল আলম, শাহ আলম একাধিক শিক্ষক বলেন, ২০২২ সালে তিনি আওয়ামী লীগের নাম ভাঙ্গিয়ে জ্যেষ্ঠতা লঙ্গন করে (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পান আব্দুল মান্নান। কিন্তু নিয়মিত অফিসে আসেন না। রাজনৈতিক মিটিং, মিছিলেই ইউনিয়ন পড়ে থাকতেন। পরে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতেন। ভয়ে কেউ মুখ খুলতেন না।

 

ফান্ডের হিসাব-নিকাশ তার নিজের কাছে রাখতেন, নামে বেনামে বিভিন্ন কাজের কথা বলে সব অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। কলেজের লোহার ৮ টি দরজা গোপনে বিক্রি করেন কলেজের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের কথা বলে করেছেন অর্থ আত্মসাৎ। কলেজের পিয়ন আলিমুদ্দিনকে তুচ্ছ ঘটনা কেন্দ্র করে মারপিট করে শোকজ করে।

 

প্রভাষক নাজনীনয়ারা জানান, তিনি আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধির প্রভাবে মানুষকে মানুষ মনে করতেন না। কলেজের নিয়মিত অফিস করত না। আমরা বিভিন্ন ভাবে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে গেলে আওয়ামী সন্ত্রাসী দিয়ে প্রকাশ্যে হুমকি ধামকি দিতেন।

 

৫ আগস্ট হাসিনার সরকার পতনের কলেজে নিয়মিত উপস্থিত ছিলেন না তিনি। সবার অজান্তে অফিস কক্ষের চাবি থাকার পরে গোপনে ৬ আগষ্ট থেকে ১৯ আগষ্ট পর্যন্ত হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন এমনকি এলাকাতেও দেখা যাচ্ছে না উনাকে।
এ বিষয়ে আব্দুল মান্নানের সাথে ফোনে যোগযোগ করার চেষ্টা করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

 

এ বিষয়ে উপজেলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আয়শা সিদ্দিকার সাম্প্রতিক সময়ে কলেজে অনুপস্থিত থাকার ঘটনা জেনেছি, তদন্ত সাপেক্ষে খুব দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ হবে।


প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৪ | সময়: ৬:১২ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ

আরও খবর