দেশের বিভিন্ন বাজারে যেতে শুরু করেছে রাজশাহীর সবজির

স্টাফ রিপোর্টার: বৃষ্টি শেষে দেশে কোটা বিরোধী আন্দোলন এবং এই আন্দোলনের জেরে জরুরি অবস্থায় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার বাজারে সবজির দাম বেড়ে গেছে। তবে দাম বেশী থাকলেও জরুরি অবস্থা শিথিল ও যানবাহন চলাচল করায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে। দেশের বিভিন্ন বাজারে যাচ্ছে রাজশাহীর সবজি। হঠাৎ করে অতিরিক্ত বৃষ্টিতে সবজি ক্ষেত ডুবে এবং পানি জমে আবাদ নষ্ট হয়ে যায়। এমনকি মরিচ ও সবজির ফুল পচে চাষিরা লোকসানের মুখে পড়েছে। স্থানীয় বাজারে কাঙ্খিত সবজি না উঠাই দাম বেড়ে যায়।
বর্তমানে চাষিরা বেঁচে থাকা সবচি ক্ষেতে যত্ন নিতে শুরু করেছেন। রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার বিভিন্ন সবজি সরোজমিন দেখা যায়, কেহ মরিচ ক্ষেত থেকে মরে যাওয়া মরিচ গাছ ফেলে দিচ্ছেন এবং বেঁচে গাছ গুলোর গোড়ায় মাটি দিচ্ছেন। তবে ক্ষেতে মরিচ দেখা যায়নি।
চাষি আব্দুল মালেক জানান, গাছে মরিচ অনবরত ধরে না। ফুল ফোটার চালান বা পর্ব রয়েছে। একেক পর্বে একেক রকম ফুল আসে। জলবায়ু অনুকুলে থাকলে পর্যাপ্ত মরিচ ধরে। নইলে ফুল ঝরে যায়। বর্তমানে বেশীর ভাগ মরিচ ক্ষেতের গাছ ভাইরাসে নষ্ট হয়ে গেছে। সঠিক যত্ন নেওয়ার পরেও এখানে প্রকৃতির ওপর নির্ভর করতে হয়। ভাগ্য ভাল হলে চাষির পোয়াভারি। কয়েকদিনের বৃষ্টিতে মরিচের সমস্ত ফুল পচে যায়। সেকারণে এই চালানে গাছে মরিচ নাই।
পটল ক্ষেতে কীটনাশক দিচ্ছিলেন খুরশীদ। তিনি জানান, বাজারের পটলের দাম ভাল। কিন্তু জরুরী অবস্থার কারণে পটল তোলা যায়নি। বাজারে এখন প্রতিমণ পটলের দাম এক হাজার তিনশো’ টাকা।
এদিকে বাজারে বিক্রেতারা জানান, বৃষ্টির কারণে অনেক সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। বৃষ্টির কারণে রাস্তাঘাট খারাপ থাকায় ও পরিবহন ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় সবজি বাজারে আসতে সময় লাগছে। পাশাপাশি আগের তুলনায় পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে। ফলে বাজারগুলোতে সবজির দাম বেড়ে গেছে। এছাড়াও বর্তমানে জরুরী অবস্থা থাকায় অনেকে ভয়ে গাড়ি নিয়ে আসছেন না। এমনকি সবজি তুলে দাম না পাওয়ার আশংকায় চাষিরা সবজি তোলেন নি। এই সব কারণে বাজারে দাম বৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি পড়েছে সাধারণ মানুষের ওপর। এদিকে বাড়তি দামে সবজি কিনতে অনেকেই হিমশিম খাচ্ছেন। বাজারে সবজির দাম নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন ভোক্তারা।
তবে বৃহস্পতিবার নওহাটা বাজারে কাঁচা সবজির পাইকারি বাজারের চিত্র ছিল একেবারে ভিন্ন। ক্ষেতে করলা ও পটলের ফলন ভালো হওয়ায় আমদানী বেশি হয়েছে। বৃহস্পতিবার ১৪-১৫শ’ টাকা মণ দরে বিক্রি হয়েছে। আর করলা বিক্রি হয় ১৬-১৭শ’ মণ। এছাড়াও বাজারে ভরপুর ছিল কাঁচামরিচ, ঢেড়শ, বরবটি এবং লাউ।


প্রকাশিত: জুলাই ২৭, ২০২৪ | সময়: ৪:৫৭ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ