রাতের সড়কে হায়েনা হয়ে ওঠে বে-ওয়ারিশ কুকুর

মাহফুজুর রহমান প্রিন্স, বাগমারা: বাগমারা উপজেলা সদর ভবানীগঞ্জ পৌর এলাকায় বর্তমানে বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা অত্যাধিক বেড়ে গেছে। বেড়েছে তাদের উপদ্রবও। রাতে ভবানীগঞ্জ বাজারের রাস্তায় কুকুরগুলো হায়েনার মতো হিংস্র হয়ে ওঠে।
তাদের বিষাক্ত দাঁতের কামড়ের শিকার হয়ে অনেকে চিকিৎসা নিয়েও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। সচেতনতার অভাবে অনেকে চিকিৎসার ধারপাশে না গিয়ে জীবনের ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। অন্যদিকে কুকুরগুলো পরিবেশ নোংরা করেও অতিষ্ঠ করে তুলেছে পৌরবাসীকে। বেওয়ারিশ অনেক কুকুরের ঘাড়ে ও মাথায় মারাত্মক ক্ষত ও ঘায়ের সৃষ্টি হয়েও দূর্গন্ধ ছাড়াচ্ছে বিশ্রিভাবে। ফলে পারিবেশিক চলাচল দূর্বিসহ অবস্থায় রয়েছে পৌরবাসী।
পৌর বাসিন্দা সূত্রে জানা গেছে, এ পৌরসভায় ব্যক্তি মালিকানায় কোথাও কোন পালিত কুকুর নেই। যা আছে সবই বেওয়ারিশ। তারা পৌরসভায় মোট কুকুরের অনুমানিক কোন সংখ্যা জানাতে না পারলেও ভবানীগঞ্জ বাজারের হোটেল ব্যবসায়ী আফজাল হোসেনসহ অন্যান্য ব্যবসায়ীরা জানান, দেড়-দুই বছর আগে যেখানে ৪-৫টি কুকুরকে জটলা করতে দেখা যেত এখন সেখানে ২০-২৫ টি কুকুর দেখা য়ায়। এসব কুকুরের অত্যাচরে রাতের ঘুম হারাম হওয়ায় উপক্রম হয়েছে। এছাড়া অনেক কুকুরের শরীরের চামড়া ওঠে নানান জায়গায় ক্ষতের সৃষ্টি হয়ে সেখানে মাছি পড়ে তা পরিবেশ দূষণ করে তুলছে।
তারা জানান, গত এক বছরে শুধু বাজার এলাকাতেই এক কলেজ ছাত্রী ও তিন শিশুসহ প্রায় সাতজন কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হয়। ভবানীগঞ্জ বাজারের দন্ত চিকিৎসক জিল্লুর রহমান কুকুরসহ অন্যদের কারণে বাজারের পরিবেশ নেংরা হওয়ার বিষয়ে জানান, এখন সরকারিভাবে কুকুর হত্যা নিষিদ্ধ। তবে পৌরসভা চাইলে যেসব কুকুর ইতোমধ্যে রোগাক্রান্ত হয়ে পড়েছে, যাদের শরীরে ঘা হয়েছে সেসব কুকুর সরকারি অনুমতি সাপেক্ষে নিধন করতে পারে। এটা পরিশের স্বার্থেই তাদের করা উচিত বলে তিনি দাবী করেন।
ভবানীগঞ্জ মাষ্টারপাড়ার গৃহীনি শারমিন আক্তার জানান, এসব বেওয়ারিশ কুকুর মাঝে মাঝে হায়েনার মতো হিংস্র হয়ে ওঠে। প্রায় তারা শিশুদের তাড়া করে এবং সৃুযোগ পেলেই হাঁস মুরগী ধরে খেয়ে ফেলে। অচিরেই তিনি এসব হিংস্র ও রোগাক্রান্ত কুকুরগুলো নিধর করার জন্য পৌর কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবী জানান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভবানীগঞ্জ পৌরসভার সহকারি প্রকৌশলী লিটন মিয়া বলেন, সরকারি ভাবে কুকুর নিধন নিষিদ্ধ হওয়ায় আমরা বেকায়দায় পড়েছি। তিনিও রোগাক্রান্ত ও ঘা হওয়ার কুকুরগুলো নিধনের বিষয়ে একমত পোষণ করে বলেন, এসব কুকুর নিধনের জন্য অনুমতি চেয়ে মন্ত্রনালয়ে চিঠি লিখব।
অনুমতি পেলে ওইসব কুকুর নিধন করা হবে। একই অভিমত ব্যক্ত করে ভারপ্রাপ্ত পৌর মেয়র হাসেন আলী বলেন, পৌসভাকে সুন্দর করতে অসুস্থ ঘা বিশিষ্ট কুকুরগুলো একটি বড় সমস্যা। এসব নিয়ে কী করা যায় এ বিষয়ে মিটিং করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।


প্রকাশিত: জুলাই ২৭, ২০২৪ | সময়: ৪:৫৪ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ