‘পাটের মূল্য ও উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে’

স্টাফ রিপোর্টার : সারাদেশে পাটের বীজের চাহিদা সাড়ে ৫ হাজার মেট্রিক টন। যার মধ্যে মাত্র ২০ শতাংশ বীজ দেশে উৎপাদন করা সম্ভব হয়। চাহিদার বাকি অংশ দেশের বাইরে থেকে আমদানি করতে হচ্ছে। পাট মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে। রাজশাহীতে পাটের উৎপাদন ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে পাট জাঁক দেয়ার জন্য পর্যাপ্ত জলাশয়ের স্বল্পতা রয়েছে এখানে। পর্যাপ্ত সময়ে এবং যথাযথ ভাবে পাট জাঁক দিতে না পারলে পাটের মান খারাপ হয়ে যায়। পরিবেশ ও প্রকৃতি রক্ষার্থে ১৯টি পণ্যে পাটজাত মোড়ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। পণ্যে পাঠজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন ২০১০ সুষ্ঠভাবে বাস্তবায়ন শীর্ষক উদ্বুদ্ধকরণ সভা ও সেমিনারে বক্তারা এসব তথ্য জানান।
বুধবার জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক ও পাট অধিদপ্তর রাজশাহী আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল। অনুষ্ঠানে রাজশাহীর পাটচাষি, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় জুটমিলের কর্তৃপক্ষ অংশগ্রহণ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক জানান, পাট আমাদের সোনালী আাঁশ। দেশের বাজারে পাটের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকের আগ্রহ বাড়ছে, পাটচাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। সার পুকুরে ব্যবহার করায় কৃষি কাজে সারের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এনিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবগত করা হয়েছে। আশাকরা যাচ্ছে আগামী বছর এই সমস্যা থাকবে না। জেলা প্রশাসক জানান, পলিথিনে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। নিজেদের স্বার্থে আমাদেরকে পাটজাত পণ্য ব্যবহার বৃদ্ধি করতে হবে।
কাটাখালী পৌরসভা এলাকার পাটচাষি সামির আলী স্থানীয় কৃষকদের পক্ষ থেকে তার বক্তব্যে জানান, সরকার পাট কিনছে না। যদি এবার বেসরকারি খাত পাট না কিনত তবে পাটের দাম এক হাজার টাকা মণ হতো। কৃষকরা সময়মতো ন্যয্য মূল্যে সার পাচ্ছে না। বাজারে কৃত্রিম ভাবে সার ও কীটনাশকের সংকট তৈরি করা হচ্ছে। অতিরিক্ত টাকা দিলে সার মিলছে। সারে ভ্যাজাল দেয়া হচ্ছে, ওজনে কম দেয়া হচ্ছে। কৃষকরা যন্ত্রণা ভোগ করছে। এসময় সারের ডিলারদের নজরদারিতে আনার দাবি জানান এই কৃষক।
রাজশাহীর ৫টি জুটমিলের প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পাটের মূল্য বৃদ্ধি হলেও পাটের বস্তার মূল্য বৃদ্ধি পায়নি। অতিরিক্ত মূল্যে পাট কিনে জুটমিলগুলো ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। ভালো মানের পাট দিয়ে বস্তা তৈরি করা হলে এর মূল্য বর্তমান বাজার মূল্যের চাইতে আরও বৃদ্ধি পাবে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহীর পাট অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. সাইফুর রহামন. অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কল্যাণ চৌধুরী, রাজশাহীর কৃষি সম্প্রসাল অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক আমিরুল ইসলাম, রাজশাহীর বিএডিসির কর্মকর্তা ও চেম্বার অফ কমার্সের কর্মকর্তাবৃন্দ।


প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২, ২০২১ | সময়: ৪:৫০ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ

আরও খবর