, , ।
স্টাফ রিপোর্টার: ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ, বাংলাদেশ মহোদয়ের নির্দেশনায় রবিবার বেলা ১১টায় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের আয়োজনে পুলিশ লাইন্স ড্রিলশেডে বাংলাদেশ পুলিশ মেধাবৃত্তি ২০২৪ ও ২০২৫-এর নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের মাঝে সম্মানী, ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী মোট ৬৯ জন শিক্ষার্থীর মাঝে সম্মানী, ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট বিতরণ করা হয়। এসময় কৃতি শিক্ষার্থীদের অভিভাবকগণ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির পিপিএম।
অনুষ্ঠানে কৃতি শিক্ষার্থী কানিজ ফাতিমা মিম, বর্তমানে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, দীর্ঘ দুই বছরের কঠোর পরিশ্রম, রাত জেগে পড়াশোনা এবং বাবা-মায়ের ত্যাগের ফলেই তিনি এ সাফল্য অর্জন করেছেন। মেধাবৃত্তি অর্জন তাঁকে আরও দায়িত্বশীল হতে অনুপ্রাণিত করেছে। ভবিষ্যতে যে পেশাতেই তিনি যুক্ত হোন না কেন, পেশাগত পরিচয়ের আগে একজন ভালো ও মানবিক মানুষ হওয়াই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। তরুণ মেধাবীদের উৎসাহিত ও সম্মানিত করার জন্য তিনি বাংলাদেশ পুলিশ এবং রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার মহোদয়ের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে কর্মরত একজন কনস্টেবল অভিভাবক তাঁর বক্তব্যে বলেন, চাকরিজীবনের ব্যস্ততা ও নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সন্তানদের লেখাপড়ায় সময় দেওয়া, ভালোবাসা এবং সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়াই তাদের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। সন্তানদের ওপর অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ বা শারীরিক শাস্তি না দিয়ে ধৈর্য ও সহানুভূতির সঙ্গে তাদের উৎসাহিত করতে হবে। শিক্ষার্থীদেরও কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জিত না হলেও হতাশ না হয়ে ধৈর্য ধরে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার এই উদ্যোগের জন্য তিনি রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার মহোদয় ও বাংলাদেশ পুলিশের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ কমিশনার মহোদয় বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ কর্তৃক সহকর্মীদের সন্তানদের মেধার স্বীকৃতি ও উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে এ মেধাবৃত্তি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সকল বিষয়ে ৮০ শতাংশের বেশি নম্বর পেয়ে এ প্লাস অর্জন করে মেধাবৃত্তি লাভ করা অত্যন্ত কঠিন ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ একটি অর্জন। শিক্ষার্থীরা তাদের মেধা, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে এ সাফল্য অর্জন করেছে। তিনি মেধাবৃত্তিপ্রাপ্ত সকল শিক্ষার্থীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।
তিনি বলেন, সন্তানদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে অভিভাবকদের অনেক ত্যাগ ও কষ্ট স্বীকার করতে হয়। বিশেষ করে পুলিশ বাহিনীর নিম্নপদস্থ অনেক সদস্য নিজেদের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়ে সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করছেন। তাই শুধু ভালো শিক্ষার্থী হলেই হবে না; সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে ভালো মানুষ হতে হবে এবং মা-বাবার ত্যাগের মূল্য দিতে হবে। সন্তান যখন মা-বাবাকে ছাড়িয়ে জীবনে অনেক উঁচুতে পৌঁছে সাফল্য অর্জন করে, তখনই মা-বাবা নিজেদের সবচেয়ে সার্থক মনে করেন।
পুলিশ কমিশনার বলেন, এসএসসি বা এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া জীবনের একটি ধাপ মাত্র; এখান থেকেই জীবনের নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা হয়। শিক্ষার্থীরা বুয়েট, রুয়েট, চুয়েট, কুয়েট, মেডিকেল কলেজ ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছে যা অত্যান্ত গৌরবের বিষয় এবং ভবিষ্যতে তারাই সমাজ, দেশ ও বিশ্বকে নেতৃত্ব দেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে যেসব শিক্ষার্থীর ফলাফল আশানুরূপ হয়নি, তাদের হতাশ না হয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে আরও বেশি পরিশ্রম করে ভবিষ্যতে ভালো করার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, জীবনে সফলতা অর্জন ও কাঙ্ক্ষিত উন্নতির জন্য সুশৃঙ্খল জীবনযাপনের কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষার্থীদের রাত জাগার অভ্যাস পরিহার করে সময়মতো ঘুমানো ও ভোরে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। সারারাত জেগে থাকা এবং দিনের বেলায় ঘুমানোর অভ্যাস শরীর ও মনের জন্য ক্ষতিকর। প্রাকৃতিক আলো ও প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জীবনযাপন স্বাস্থ্যের জন্য অধিক উপযোগী।
স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের বিষয়ে তিনি বলেন, রাস্তাঘাটের অনিয়ন্ত্রিত ভাজাপোড়া ও অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিহার করে সুষম ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করতে হবে। নিয়মিত ও সুশৃঙ্খল জীবনযাপন, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুম ও শরীরের যত্নের মাধ্যমে দীর্ঘদিন সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকা সম্ভব। তিনি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও স্বাস্থ্য সচেতনতার মাধ্যমে নিজেদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান।
উক্ত অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) ফারুক হোসেন; উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর)-এর দায়িত্বে অতিরিক্ত ডিআইজি জনাব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম পিপিএম; উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) নূর আলম সিদ্দিকী; উপ-পুলিশ কমিশনার (বোয়ালিয়া) গোলাম রব্বানী শেখ পিপিএম (বার); উপ-পুলিশ কমিশনার (মতিহার) মাঈনুল ইসলাম পিপিএম (বার); উপ-পুলিশ কমিশনার (ইঅ্যান্ডডি) আবুল কালাম সাহিদ; উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি) ও আরএমপির মুখপাত্র গাজিউর রহমান পিপিএমসহ আরএমপির ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাবৃন্দ এবং উপস্থিত কৃতি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ।