, , ।
মোহনপুর প্রতিনিধি: রাজশাহীর মোহনপুরে পুলিশের পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে জামিল নামে এক ব্যক্তিকে ওয়াকিটকি সহ আটক করেছে স্থানীয় জনতা। এ সময় তার কাছে পুলিশের ব্যবহৃত লাইট, সিগন্যাল লাইট সহ পুলিশ ব্যবহৃত যন্ত্র পাওয়া যায়। পরে তাকে মোহনপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। জামিল উপজেলার পোল্লাকুড়ি গ্রামের মকসেদ আলীর ছেলে।
মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার বিদিরপুর সরকারপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বুধবার থানা পুলিশ জামিলকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করে।
পুলিশ জানায়, আটকের সময় জামিলের দেহ তল্লাশি করে চাঁদাবাজির ৯ হাজার ২০০ টাকা জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় মোহনপুর থানায় জামিলের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করেন ঘটনাস্থলের একজন ভুক্তভোগী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জামিল বিভিন্ন সময় নিজেকে পুলিশ সদস্য, র্যাব ও ডিবি পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন শ্রেণীপেসার মানুষের কাছে মাসোহারা আদায় করেন। আর সময়মত মাসোহারা না দিলেই তার উপর নেমে আসে মাদকের তকমা। কখনো পুলিশ না হয় ডিবি বা র্যাবের হয়রানির মুখে পড়তে সাধারণ মানুষকে। সম্প্রতি জামিলের মাসোহারা আদায়ের মাত্রা বেগতিক আকার ধারন করেছে। সাপ্তাহিক হারে মাসহারায় নেমেছে কথিত সোর্স জামিল ও তার সহযোগীরা। এরকম হয়রানির কয়েকটি ঘটনা ইতিমধ্যে স্থানীয়দের মাঝে চাউর হয়েছে।
জানা যায়, ঘটনার সময় স্থানীয়রা তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে থানা পুলিশের দু-এক কর্মকর্তার নাম ও তাদের সঙ্গে সখ্যতার দাবি করেন জামিল। পরে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং তাকে মোহনপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এদিকে জামিলের বিরুদ্ধে মোহনপুর থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা। তবে এসব মামলার বিস্তারিত তথ্য ও তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে যাচাই করা প্রয়োজন বলেও মনে করেন স্থানীয়রা।
জামিলকে আটকের পর পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়া নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে ওই কর্মকর্তারা কী কারণে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন এবং জামিলের সঙ্গে তাদের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে মোহনপুর থানা পুলিশের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হতো কিন্তু মোহনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমানকে অসংখ্যবার সরকারি নাম্বারে ফোন দেওয়া হলে তিনি কারো ফোন ধরেননি। এতে পুলিশ সদস্যরা জামিলের কর্মকান্ডের সাথে সরাসরি জড়িত বলে ধারাণা করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং পুলিশের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।