, , ।
সাইফুল ইসলাম, গোদাগাড়ী: জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে। পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সবজি, মাছ, ব্রয়লার মুরগিসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এতে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে সাধারণ ক্রেতাদের ওপর। নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের স্বস্তি ফিরছে না।
বাজারে পণ্যের দাম কমার চেয়ে জীবনযাত্রার মোট ব্যয় এখনো অনেক বেশি। সাধারণ মানুষের আয় বাড়ছে না, বাড়ছে বাজার খরচ। যেমন-চাল, ডাল, তেল, সবজি ও মাছ-মাংসের দামের চাপে দিশাহারা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষ। অনেক পরিবার এখন মাছ-মাংসের পরিমাণ কমিয়ে দিচ্ছে। ভালো মানের পণ্যের পরিবর্তে তুলনামূলক সস্তা পণ্য বেছে নিচ্ছে।
জানা গেছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সাধারণ মানুষের সংসার চালানো ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম উঠানামা করায় এর প্রভাব পড়েছে সবচেয়ে বেশি।
গোদাগাড়ী সদর ডাইংপাড়া, রেলওয়ে বাজার, রাজাবাড়ী, কাকনহাট সহ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, মাছ, মাংস, ডিম ও শাকসবজির দামে অস্থিরতায় বাজারের খরচ কমছে না। বরং দিন দিনই ব্যয় বাড়ছে মানুষের।
স্থানী বাজারে এর প্রভাব পড়েছে বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর। যে পরিবার আগে একসঙ্গে এক কেজি বা তার বেশি সবজি কিনতো, অনেক ক্ষেত্রেই এখন পরিমাণ কমিয়ে কিনছে। ফলে বাজারে একই অর্থ ব্যয় করেও পরিবারের খাদ্য তালিকায় কাটছাঁট করতে হচ্ছে।
গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি ও বাজার অর্থনীতি যথেষ্ট সক্রিয় হলেও উৎপাদক থেকে ভোক্তা পর্যন্ত পণ্যের মূল্য নির্ধারণে মধ্যস্বত্বভোগী, পরিবহন ব্যয়, সংরক্ষণ ও বাজার ব্যবস্থাপনার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ফলে কৃষক ন্যায্যমূল্য না পেলেও ভোক্তাকে অনেক সময় বেশি দাম দিতে হচ্ছে।
চাকরিজীবী ক্ষুদ্র বাব্যবসায়ীদের বাড়িভাড়া, সন্তনদের শিক্ষা, চিকিৎসা, যাতায়াত ও বিদ্যুৎ বিলের পাশাপাশি খাদ্যপণ্যের বাড়তি ব্যয় সামলাতে হচ্ছে। ফলে অনেক পরিবার এখন মাছ-মাংসের পরিমাণ কমিয়ে দিচ্ছে। ভালো মানের পণ্যের পরিবর্তে তুলনামূলক সস্তা পণ্য বেছে নিচ্ছে এবং মাসের শেষ দিকে বাজার খরচ কমিয়ে চলার চেষ্টা করছে।
সাধারণ ক্রেতাদের দাবি, উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে নিয়মিত বাজার মনিটরিং, পণ্যের মূল্যতালিকা প্রদর্শন, ওজনে কারচুপি রোধ এবং অস্বাভাবিক মুনাফা ও কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ খতিয়ে দেখা জরুরি।
গোদাগাড়ী পৌরসভার মহিশালবাড়ী বাজারের মুদি দোকানদার মাসুদ রানা বলেন, আমরা ইচ্ছা করে দাম বাড়াই না। পাইকারি বাজার থেকে যে দামে মাল কিনি, তার সঙ্গে পরিবহন ও অন্যান্য খরচ যোগ করে বিক্রি করতে হয়। পাইকারিতে দাম বাড়লে খুচরা বাজারেও তার প্রভাব পড়ে।
আরেক বিক্রেতা আমির হামজা বলেন, আগে যে পরিমাণ পণ্য বিক্রি হতো, এখন অনেক ক্রেতাই পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন। দাম বাড়ার কারণে বিক্রিও কমেছে। এতে ক্রেতা যেমন সমস্যায় আছেন, ছোট ব্যবসায়ীরাও চাপের মধ্যে আছেন। গোদাগাড়ী উপজেলার এক এনজিও চাকরিজীবী নাসিরউদ্দীন বলেন, মাসের শুরুতে বাজারের জন্য যে টাকা রাখি, মাস শেষ হওয়ার আগেই তা শেষ হয়ে যায়। আগে যে টাকায় কয়েকদিনের বাজার করা যেত, এখন একই টাকায় প্রয়োজনীয় জিনিসও ঠিকমতো কেনা যায় না।
একজন নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী এন্তাজ আলী বলেন, দিনে যা আয় করি, তার বড় অংশই বাজার খরচে চলে যায়। চাল-ডাল, তেল আর সবজির দাম দিতে গিয়ে মাছ-মাংস তো দূরের কথা, অনেক সময় প্রয়োজনীয় অন্য জিনিসও বাদ দিতে হয়।
মহিশালবাড়ি মহল্লার গৃহিণী সিমা বলেন, সংসারের বাজেট ঠিক রাখতে বাধ্য হয়ে অনেক পণ্য কম কিনছি। আগে সন্তানদের জন্য কিছু বাড়তি খাবার কিনতাম, এখন দাম দেখে অনেক কিছুই বাদ দিতে হয়।
আবার আয়-ব্যয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রয়োয়াজনীয় পণ্য কেনা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছেন অনেকে। একই সঙ্গে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সুযোগে কেউ অযৌক্তিকভাবে পণ্যের দাম বাড়াচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বাজার তদারকি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন ক্রেতারা।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান বলেন, বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, কৃত্রিম সংকট বা অতিরিক্ত মুনাফার অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।