সর্বশেষ সংবাদ :

প্রথমবারের মতো নৌযান শুমারি শুরু হচ্ছে ২০ অগাস্ট

সানশাইন ডেস্ক: নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও কার্যকর নৌপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নৌযান শুমারি করার কথা বলেছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সহযোগিতায় ২০ থেকে ২৯ অগাস্ট পর্যন্ত দেশব্যাপী এ শুমারি হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ভবনে ‘নৌযান শুমারি ২০২৬’-এর তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে দায়িত্বপ্রাপ্ত সমন্বয়কারীদের তিন দিনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। এ দেশের অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে নদী ও নৌপথের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। কিন্তু নৌপথের সম্ভাবনাকে আমরা এখনো পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারিনি।” সড়কপথে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের চাপ ক্রমাগত বাড়ছে তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “এ চাপ কমাতে নৌপথের সর্বোচ্চ ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। নৌপথকে ব্যবসা-বাণিজ্য, পণ্য ও যাত্রী পরিবহন এবং পর্যটনের জন্য আরও কার্যকরভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করা সম্ভব।”
তিনি বলেন, “নৌযান শুমারির মাধ্যমে দেশের নৌযানের প্রকৃত সংখ্যা, ধরন, ব্যবহার, মালিকানা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্যের একটি নির্ভরযোগ্য ও পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যাবে। “এসব তথ্যের ভিত্তিতে নৌপরিবহন খাতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, নীতিনির্ধারণ এবং নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল নৌচলাচল নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হবে।”
রাজিব আহসান বলেন, “নৌপথের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি আধুনিক, নিরাপদ ও জনবান্ধব নৌপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।” নৌযোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গুরুত্বারোপের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের অগ্রাধিকার অনুযায়ী নৌপথের উন্নয়ন ও এর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে।
অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেন, “সঠিক নীতি ও পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য ও উপাত্ত অপরিহার্য। দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণে সঠিক পরিসংখ্যানের কোনো বিকল্প নেই।” তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে পেশাদারিত্ব, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বর্তমান সরকার নৌপথকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী হওয়ায় পণ্য পরিবহনে নৌপথের গুরুত্ব অনেক বেশি। নৌপথের কার্যকর ব্যবহার ও উন্নয়নের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ এবং দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল করা সম্ভব।”
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মো. ফিরোজ সরকার, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর মো. শফিউল বারী ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক মো. শামীমুল হক।


প্রকাশিত: August 12, 2026 | সময়: 3:09 am | সুমন শেখ

আরও খবর