, , ।
অহিদুল হক, বড়াইগ্রাম: বড়াইগ্রামে গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে হঠাৎ বেড়েছে লোডশেডিং। দিন রাত মিলে ১৫-১৬ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। শহর এলাকার তুলনায় গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ অনেক বেশি। রাতদিন ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে শিশু, শিক্ষার্থী ও বয়োজ্যেষ্ঠরা চরম বিপাকে পড়েছেন।
তীব্র শোডশেডিংয়ের পাশাপাশি লাইন মেরামতের অজুহাতে প্রায় দিনই টানা কয়েক ঘন্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন পোল্ট্রি ব্যবসায়ী, মৎস্যচাষী, অটোরিকশা ও রিক্সাভ্যান চালক সহ বিভিন্ন কারখানার মালিকরা। লোডশেডিংয়ে ভোগান্তি বেড়ে গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে লোডশেডিং নিয়ে ক্ষোভ ঝাড়ছেন।
গ্রাহকরা জানান, বিদ্যুৎহীন অবস্থায় বিশেষ করে রাতের বেলায় প্রচন্ড গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছে শিশুরা। গরমে ঘেমে জ্বর-কাশিসহ ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে তারা। এছাড়া চলতি এইচএসসি পরীক্ষার্থীসহ স্কুল-পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়া চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
রয়না ভরট হাটের শ্রমিক নেতা মোস্তাফিজুর রহমান রতন বলেন, আমরা সারাদিনে চাহিদার এক তৃতীয়াংশ পরিমাণ বিদ্যুৎও পাচ্ছি না। পৌর এলাকায় কিছুটা কম হলেও গ্রামাঞ্চলে অতিরিক্ত পরিমাণে লোডশেডিং দেয়া হচ্ছে। এতে গ্রামের গ্রাহকদের খুব বেশি ভোগান্তি হচ্ছে।
ভরতপুর গ্রামের শিক্ষার্থী আল আমিন বলেন, সারাদিনে কতবার বিদ্যুৎ যায়, তার হিসাব নেই। তার ওপর শুধু রাতেই ৬-৭ বার লোডশেডিং হচ্ছে। ২০-২৫ মিনিট বিদ্যুৎ দিয়ে একটানা দুই আড়াই ঘন্টাও বিদ্যুৎ থাকে না। ফলে গরমে শিশুরাসহ কেউই ঠিকমতো ঘুমাতে পারছেন না। উপলশহর গ্রামের গৃহবধু শহিদা খাতুন বলেন, লোডশেডিংয়ে তীব্র গরমে ছোট দুইটা বাচ্চা নিয়ে খুব বিপাকে আছি। রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় ঘেমে দুজনেই ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। তিনি আরো বলেন, একই সমস্যায় ভূগছে গ্রামের প্রায় সব পরিবার।
মামুদপুর গ্রামের আবু রায়হান বলেন, আমি অটোরিক্সা চালাই। সারারাত লাইন দিয়ে রেখেও লোডশেডিংয়ের কারণে রিক্সা ঠিকমতো চার্জ হয় না। এতে দিনের বেলায় গাড়ি চালাতে না পেরে আয়-রোজগার করাই কঠিন হয়ে পড়েছে।
এইচএসসি পরীক্ষার্থী ফাতেমাতুজ্জোহরা বলেন, তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াও হচ্ছে না, ঘুমও হচ্ছে না। এতে পরীক্ষা দিতে গিয়ে চরম সমস্যার সম্মুখিন হতে হচ্ছে।
রয়না গ্রামের গৃহবধু রুপালী খাতুন বলেন, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে চরম বিপদে আছি। লোডশেডিংয়ের ফাঁকে ফাঁকে যেটুকু সময় বিদ্যুৎ থাকে, তাতে রাইস কুকারে ভাত রান্নার সুযোগই মিলে না। কুকারে চাল দিয়ে ভাত হওয়ার আগেই দেখি বিদ্যুৎ নাই। একই এলাকার কলেজ শিক্ষক আব্দুল আউয়াল মন্ডল এবং গৃহিণী ইশরাত ফারজানা বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে আইপিএস কিনেছি। কিন্তু লোডশেডিংয়ের পরিমাণ এতো বেশি যে, আইপিএসের চার্জও শেষ হয়ে যাচ্ছে। এতে সন্তানদের নিয়ে গরমে খুব কষ্ট হচ্ছে।
জোনাইল বাজারের ওয়ার্কশপ মালিক খয়ের উদ্দিন ও আবুল কালাম আযাদ বলেন, তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে কোন কাজই করতে পারছি না। এতে শ্রমিকদেরও বসিয়ে রেখে বেতন দিতে হচ্ছে, আবার সময়মত মালামাল দিতে না পারায় গ্রাহকদের সাথেও সম্পর্কের হানি হচ্ছে।
এ ব্যাপারে নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জেনারেল ম্যানেজার মাহবুবুর রশীদ বলেন, সচরাচর বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর দুই উপজেলার জন্য নাটোর গ্রিড থেকে আমাদের ৪৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। কিন্তু বর্তমানে দেয়া হচ্ছে মাত্র ১৪ মেগাওয়াট। এতে আমাদেরকে সারাদিনে ৬০ শতাংশ লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। মূলত গ্যাসের সঙ্কটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় চাহিদার মাত্র ৪০ শতাংশ বিদ্যুৎ দিয়ে সব লাইন চালাতে হচ্ছে।