, , ।
আসেফ আবিদ: রাজশাহী, যে শহরের নাম শুনলেই মাথায় আসে সবুজে ঘেরা পরিচ্ছন্ন শান্ত পরিবেশ। রাতের আলোক ঝলমলে সড়ক শহরকে দেয় এক অনন্য রূপ। আর শহরের এই সৌন্দর্যকে আরো বাড়িয়ে তুলেছে নগর ভবনের সামনের চত্বরে থাকা ঢোপকলটি।
যেই জায়গায় আগে ছিল সাধারণ একটি সড়ক মোড় সেই স্থান এখন হয়ে উঠেছে বাহিরে থেকে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের আকর্ষণের জায়গা। উপরে গম্বুজের মতো বাঁকানো বিশাল গোলাকার লোহার ট্যাংকের মতো দেখতে দাঁড়িয়ে থাকা ঢোককলটি প্রতিনিধিত্ব করছে এই প্রাচীন শহরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ।
চারিদিকের লোহার রেলিং দিয়ে বেষ্টিত সাদা রঙের ঢোপকলটি পথচারীদের নজর কেড়েছে । যাদের লাগানো আছে লাল ও নীল রঙের বাতি। রাতের অন্ধকারে যা এই মোড়টিকে করে তুলে দিগুন আকর্ষণীয়। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় কেউ ভাস্কর্যটির ছবি তুলছেন আবার কেউ ভাস্কর জাতির সাথেই ছবি তুলছেন।
একজন পথচারী রিফা তাকিয়া বলেন, এই পথ দিয়ে তাকে প্রতিনিয়ত যাতায়াত করতে হয় । বিশেষ করে রাতে ঢোপকলটি বসানোর পরে মোড় টি আরো মনোমুগ্ধকর লাগে। অবহেলায় পড়ে থাকা ঐতিহ্যকে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দেওয়ায় রাসিক প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানায়।
আরেকজন দর্শনার্থী লাবিব হাসান জানান তিনি এর আগেও এখানে এসেছেন কিন্তু এইবার মোড়টি তার কাছে বেশি সুন্দর ও পরিপাটি মনে হয়েছে। আর শহরের ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখার এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান।
শুধু সৌন্দর্য নয় এই ঢোপকলের রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। ১৯৩৭ সালে রাজশাহীজুড়ে বিশুদ্ধ পানযোগ্য পানির তীব্র সংকট। পানিবাহিত রোগ কলেরা, ডায়রিয়া ছড়িয়ে পড়ে রাজশাহীর প্রতিটি ঘরে ঘরে । সেই সঙ্গে বাড়তে থাকে কলেরা জনিত রোগীর মৃত্যুর সংখ্যা। সংকট নিরসনে দিঘী খনন সহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও মোকাবেলায় ব্যর্থ হয় প্রশাসন।
দুর্ভোগে থেকে রাজশাহী বাসিকে মুক্তি দিতে একটি ইউরোপীয় জল সরবরাহ ব্যবস্থার ধাঁচে রাজশাহী ওয়াটার ওয়াকর্স নামে পানি সরবরাহ ও বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। যেই প্রকল্পে পুঠিয়া রাজপরিবারের রানী হেমন্ত কুমারী বিপুল পরিমাণ অর্থ দান করেন। তাই প্রকল্পটির নাম রাখা হয় রানী হেমন্ত কুমারী ওয়াটার ওয়াকর্স।
যা মানুষের কাছে মহারানী হেমন্ত কুমারী নামেই পরিচিতি পায়। কিন্তু সময়ের সাথে পানি উত্তোলন সহজ হওয়ায় এর গুরুত্ব কমতে থাকে। একসময় রাজশাহী জুড়ে দেড়শতাধিক ঢোপকল থাকলেও এখন হাতে গোনা কয়েকটি রয়েছে যার মধ্যে অধিকাংশই সচল নেই।
মোড়ে বসানো ঢোপকলটিও অবহেলায় পড়ে ছিল গোরস্থানের পাশে। যা রাস্তা বর্ধনের কাজে ভাঙ্গা পরতো। রাসিক প্রশাসন তাকে ভাষ্কর্য রুপে মোড়ে স্থান দিয়েছে। যা সৌন্দর্য বর্ধনের পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকবে নিজের গৌরবময় অতীত নিয়ে এবং পরবর্তী প্রজন্মকে জানান দিবে রাজশাহীর ইতিহাস ও ঐতিহ্যের।