বিদ্যুতের বিভ্রাটে নাকাল জনজীবন

মিজানুর রহমান, চারঘাট: রাজশাহীর চারঘাটে প্রচন্ড গরম আর পাল্লা দিয়ে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে কবলে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঘরে, বাইরে কোথাও নেই শান্তির সুবাতাস। প্রতি ঘণ্টা অন্তর অন্তর বিদ্যুত বিভ্রাটে ক্ষোভে ফুসছে পল্লী বিদ্যুতের প্রায় ৭৫ হাজার গ্রাহক সহ সর্বস্তরের জনতা। তবে বিদ্যুত বিভাগের দাবি চাহিদার তুলনায় বিদ্যুত একিবারেই কম পাওয়ায় অনিচ্ছকৃত ভাবেই লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
জানা যায়, রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে গড়ে প্রতিদিন বিদ্যুত বিভ্রাট দেখা দেয় ১০-১২ বার। ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুত বিভ্রাটের কবলে পড়ে চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সর্বস্তরের জনতা। এছাড়াও পোল্ট্রি ব্যবসায়ীরা পড়েছেন চরম বেকায়দায়। এভাবে বিদ্যুত বিভ্রাট থাকলে পোল্ট্রি শিল্পে মহামারী দেখা দিবে বলে আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের। এছাড়াও অনেক ছোট ব্যবসায়ীরা ব্যবসা গুটিয়ে নিয়ে পথে বসার উপক্রম হয়ে পড়েছে। সব চেয়ে বড় ধরনের বেকায়দায় পড়েছে ছোট বাচ্চা, গর্ভবতি মা ও অসুস্থ বৃদ্ধ মানুষ গুলো। অন্য দিকে কনফেকশানারীসহ অন্য ব্যবসয়ীরাও বিদ্যুত বিভ্রাটের কবলে পড়ে ব্যবসা করতে পারছেন না বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও। উপজেলার সঞ্জিত ফটোষ্ট্যাট ও কম্পিউটার দোকানের মালিক সঞ্জিত কুমার বলেন, আমাদের ব্যবসা সম্পূর্ণ বিদ্যুৎনির্ভর। ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ায় ডিজিটাল যন্ত্রপাতির ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ছে। কাজেরও ব্যাঘাত ঘটছে।
উপজেলার ভাটপাড়া এলাকার বাসিন্দা রিপা বেগম জানান, বিদ্যুৎ এত অল্প সময় থাকে যে, মনে হয় আমাদের এলাকায় বিদ্যুৎ যায় না, মাঝে মধ্যে আসে। দিনের পাশাপাশি রাতেও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন ২ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। এতে পরীক্ষা সামনে রেখে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের। প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন থাকতে হচ্ছে উপজেলার প্রায় সাড়ে ৩ লক্ষাধিক মানুষকে।
গারদা থানাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এইচএসসি পরীক্ষার্থী স্নেহা বলেন, সামনে পরীক্ষা। এভাবে দিনে রাতে বিদ্যুত বিভ্রাটে লেখা পড়ায় চরম ব্যঘাত ঘটছে। পড়তে বসলেই থাকে না বিদ্যুত।
চারঘাটের একমাত্র পোষাক রপ্তানীকারক প্রতিষ্ঠান থানাপাড়া ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির মহাব্যবস্থাপক মাইনুল হক বলেন, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারনে উৎপাদন চরম ভাবে ব্যহত হচ্ছে। ফলে ক্রেতাদের বেধে দেয়া সময় অনুযায়ী উৎপাদিত পন্য ডেলিভারী দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে আর্থিক ভাবে চরম ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।
নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর ডিজিএম আসাদুজ্জামান জানান, চারঘাটে মোট গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৭৫ হাজার। বিপুল সংখ্যক গ্রাহকের চাহিদা রয়েছে প্রায় ১৬-১৮ মেগাওয়াট। বর্তমানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৬ মেগাওয়াট। এতে অনিচ্ছাকৃত ভাবেই বিদ্যুতের লোডশেডিং করতে হচ্ছে। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে হয়ত বিদ্যুত বিভ্রাট কেটে যাবে বলে আশা করছেন তিনি।


প্রকাশিত: জুন ৩০, ২০২৬ | সময়: ৪:০১ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ

আরও খবর