মঙ্গলবার, ২৩শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
স্টাফ রিপোর্টার, গোদাগাড়ী: রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত তিনি গোদাগাড়ীতে দিনব্যাপী নিবিড় সফর ও পরিদর্শন করেছেন। গোদাগাড়ী উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, পৌরসভা ও সরকারের উন্নয়নমূলক প্রকল্প দিনব্যাপী নিবিড় পরিদর্শন করেছেন।
সোমবার সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে গোদাগাড়ী উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে। উপজেলা পর্যায়ের সুশীল সমাজ, জনপ্রতিনিধি, বীর-মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মী ও সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী শহিদুল ইসলাম এর পরিচিত ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মতবিনিময় সভায়, প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেছেন, “সমাজ থেকে মাদক, বাল্যবিবাহ এবং ইভটিজিংয়ের মতো সামাজিক ব্যাধি দূর করতে হলে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ জনগণকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসতে হবে। একটি আদর্শ ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে যুবসমাজকে সচেতন হওয়ার কোনো বিকল্প নেই।”
জেলা প্রশাসক বলেন, সন্তনদের গতিবিধি, তাদের বন্ধুবান্ধব ও আচরণগত পরিবর্তনের বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন থাকতে হবে। সন্তন কখন কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে এবং কেন অস্বাভাবিক আচরণ করছে, সে বিষয়ে নিয়মিত খোঁজখবর রাখতে হবে। বিশেষ করে স্মার্টফোন ব্যবহারের সময় ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে তদারকি এবং সন্তানদের সঙ্গে পর্যাপ্ত সময় কাটানোর পরামর্শ দেন তিনি।
তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও সুশীল সমাজকে সম্পৃক্ত করে মাদকবিরোধী কার্যক্রমকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে হবে। সমাজ থেকে মাদক ব্যবসায়ীদের বয়কট করতে হবে এবং কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে তাদের পৃষ্ঠপোষকতা গ্রহণ করা যাবে না।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, পরিবার থেকে তদারকি শুরু হলে এবং সমাজ সম্মিলিতভাবে মাদককে ‘না’ বললে একটি মাদকমুক্ত ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব হবে। মাদকের বিস্তাররোধে সাধারণ মানুষকে তথ্য দিয়ে প্রশাসনকে সহায়তা করার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি মাদক কারবারিদের ভয় না পেয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলারও আহ্বান জানান। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত জাহান বলেন, “অনিয়ম ও অপরাধমূলক র্কমকান্ডের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রশাসন সর্বদা জনগণের পাশে আছে।”
সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামসুল ইসলাম, কৃষি কর্মকর্তা মরিয়ম আহমেদ, প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা শায়লা সারমিন, গোদাগাড়ী মডেল থানার ওসি আতিকুর রহমানসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তির্বগ, শিক্ষক, সাংবাদিক ও সুধীজন অংশগ্রহণ করেন।
এর আগে সকাল ৯ টায় জেলা প্রশাসক গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানানো হয়। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামকে ফুল দিয়ে বরণ করা হয়।
একই দিনে জেলা প্রশাসক সকাল সাড়ে ৯টায় ভ’মি ব্যাবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষনের উদ্বোধন করেন। দুপুর ১২টায় উপজেলা ভূমি অফিস পরিদর্শন করেন। ভূমি অফিস পরিদর্শনকালে তিনি ভূমি রেকর্ড ব্যবস্থাপনা, সরকারি খাস জমি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে খোজ নেন। এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামসুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
এরপরে জেলা প্রশাসক গোদাগাড়ী পৌরসভা পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি পৌরসভার রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি করে জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা প্রদান করেন।
বিকেল ৩টায় তিনি উপজেলার নবনির্মিত বাসুদেবপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস উদ্বোধন এবং জনবান্ধব ভূমি সেবা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা প্রদান করেন এবং সার্বিক কার্যক্রমের খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি ভূমিসেবা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। বিকেল ৪ টায় জেলা প্রশাসক উপজেলার রিশিকুল ইউনিয়নের খালকাটা কর্মসূচী পরিদর্শন ও বৃক্ষরোপন করেন। দিনব্যাপী ব্যস্ততম সফর শেষে বিকেল ৫টায় জেলা প্রশাসক রিশিকুল ইউনিয়ন গোদাগাড়ী ত্যাগ করেন।