সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
নুরুজ্জামান,বাঘা :
রাজশাহীর বাঘা পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিস থেকে গ্রাহকদের মোবাইলে পাঠানো একটি বার্তাকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বার্তায় বলা হয়েছে, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুতের বরাদ্দ কম পাওয়ায় এলাকায় ঘন ঘন লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। একই সঙ্গে গ্রাহকদের বরাদ্দের মধ্যে বিদ্যুৎ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করা হয়েছে , অন্যথায় সিস্টেম সচল রাখতে ফিডার বন্ধ করতে বাধ্য হবে কর্তৃপক্ষ। খোদ বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে এমন বার্তা পাওয়ায় বিস্মিত হয়েছেন গ্রাহকরা। তাদের অভিযোগ, বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলেও লোডশেডিং কমেনি ; বরং পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। ফলে জনজীবনে চরম ভোগান্তি নেমে এসেছে।
বাঘা পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিস সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বিভিন্ন পর্যায়ে গ্রাহকদের বিদ্যুতের মূল্য ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদন ও সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো বাঘাতেও দীর্ঘ সময় ধরে ঘন-ঘন লোডশেডিং চলছে। তীব্র গরমে এ পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন না থাকলেও বিল অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। অনেকের দাবি, গত মাসে যেখানে যাদের বিল ছিল তিন হাজার টাকার কাছাকাছি, সেখানে চলতি মাসে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকায়। আবার যাদের বিল ৮০০ থেকে এক হাজার টাকার মধ্যে ছিল, তাদের অনেককেই দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত পরিশোধ করতে হচ্ছে।
গ্রাহকদের ভাষ্য, ঘন-ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে স্বাভাবিকভাবেই বিদ্যুতের ব্যবহার কম হওয়ার কথা। অথচ বাস্তবে বিল বেড়ে যাওয়ায় তারা বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ। নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত না করে অতিরিক্ত বিল আদায় কোনো ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে তারা মন্তব্য করেন। অনেকেই এ পরিস্থিতির জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতাকে দায়ী করছেন।
এদিকে প্রিপেইড ও ডিজিটাল মিটারের বিভিন্ন চার্জ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গ্রাহকরা। তাদের প্রশ্ন, নিজস্ব অর্থে মিটার কেনার পরও কেন মিটার চার্জ পরিশোধ করতে হবে। একই সঙ্গে ‘ডিমান্ড চার্জ’ নামে অতিরিক্ত অর্থ কেটে নেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
গ্রাহকদের দাবি, ৫০ থেকে ৩০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুতের জন্য অভিন্ন ও সহনীয় মূল্যহার নির্ধারণ করা হোক। অন্যথায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়বে। তাদের আশঙ্কা, বিদ্যুৎ বিলের এ ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত থাকলে জনঅসন্তোষ আরও বাড়বে এবং বিদ্যুৎ বিভাগের প্রতি জনসাধারনের নেতি বাচক (ক্ষতিকারক)প্রভাব পড়বে।
স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, হঠাৎ বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধি এবং অব্যাহত লোডশেডিংয়ের কারণে বাঘা উপজেলার সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ বাড়ছে। তাদের মতে, বিল নির্ধারণ প্রক্রিয়া তদন্ত করে প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা এবং অতিরিক্ত বিলের অভিযোগ যাচাই করে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা জরুরি। পাশাপাশি অযৌক্তিক চার্জ প্রত্যাহার, সহনীয় বিদ্যুৎ মূল্য নির্ধারণ এবং ঘন ঘন লোডশেডিং বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।
এ বিষয়ে বাঘা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মনিরুজ্জামান বলেন, “বাঘা ও আড়ানী পৌরসভা এলাকায় বিদ্যুতের মোট চাহিদা প্রায় ২০ মেগাওয়াট। কিন্তু আমরা রাতে ১০ মেগাওয়াট এবং দিনে মাত্র ৭ দশমিক ১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বরাদ্দ পাচ্ছি। ফলে বাধ্য হয়ে পর্যায়ক্রমে এক লাইন চালু রেখে অন্য লাইন বন্ধ রাখতে হচ্ছে। ”তিনি আরও জানান, বিদ্যুতের ঘাটতির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। আর বিদ্যুতের বিল বেশি হওয়ায় আমাদের কিছু করার নেই। কারণ এটি দুই মাস পূর্বে সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাড়ানো হয়েছে। তিনি ফেসবুকে বার্তা প্রেরণ প্রসঙ্গে বলেন, গ্রাহকদের জ্ঞাতার্থে এটি করা হয়েছে।
নুরুজ্জামান /শামি