সর্বশেষ সংবাদ :

পুঠিয়ায় পোল্ট্রি খামারের দুর্গন্ধে অসুস্থ এক পরিবার,অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

ইমাম হোসেন, সানশাইন:

রাজশাহীর পুঠিয়ায় পাড়ার মধ্যে এক ব্যক্তি তৈরি করেছেন পোল্ট্রি মুরগির খামার। পোল্ট্রি মুরগির খামারের বর্জ্যের তীব্র দুর্গন্ধে বসতবাড়ি গুলোতে বসবাস করতে পারছেন না তারা। পোল্ট্রি মুরগির খামারের বিষ্ঠা ও দু্র্গন্ধে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন অনেকে, ও বাচ্চাদের পড়াশোনাও করতে কষ্ট হচ্ছে। এতে অতিষ্ঠ হয়ে খাবার খেতেও পারছেন না এলাকাবাসী। ওই এলাকার রাস্তা দিয়ে স্কুলেও যেতে পারছে না শিশুরা। এমনই এক অভিযোগ উঠেছে উপজেলার শিলমাড়িয়া ইউনিয়নের পঁচামাড়িয়া মধ্যেপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রশিদের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীরা বিভিন্ন জায়গায় প্রতিকার চেয়ে, না পেয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন সেখানে থাকা মানুষেরা।

 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা, উপজেলা শিলমাড়িয়া ইউনিয়নে পঁচামাড়িয়া মধ্যপাড়া আবাসিক এলাকায় মানুষের বসবাসের পাড়ার মধ্যে গড়ে তোলা হয়েছে বিশাল এক মুরগির খামার। সেখান হতে পোল্ট্রি মুরগির খামারের বর্জ্যের তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো পাড়া জুড়ে। অনেকে দুর্গন্ধ থেকে মুক্তি পেতে বাসায় স্প্রে ব্যবহার করতেও লক্ষ্য করা গেছে। পাশেই আরেকটি খামার তৈরি করা হবে বলে রাখা হয়েছে জায়গা।

 

এমন দুর্গন্ধযুক্ত পরিবেশ থেকে রক্ষা পেতে চায় ওই এলাকার সবাই কিন্তু মুখ খুলতেও অনেকে সাহস পাচ্ছেন না। এছাড়াও উপজেলার জনবসতিপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের আরো খামার দেখা যায়।

অন্যদিকে পোল্ট্রি উৎপাদন নীতিমালায় বলা হচ্ছে, স্কুল কলেজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা জনবসতি পূর্ণ এলাকায় কোনভাবেই পোল্ট্রি শিল্পের জন্য খামার নির্মাণ করা যাবে না। স্কুল কলেজ বা জনবসতিপূর্ণ এলাকা হতে ৩০০ মিটারের মধ্যে তা নির্মাণ করা যাবে না।

এ বিষয়ে খামারের সাথেই বাড়ি বৃদ্ধ তাসেম আলী চৌধুরী কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, দুর্গন্ধে আমি অসুস্থ হয়ে পড়েছি। বাড়িতে স্প্রে ব্যবহার করে থাকতে হয়। আমি অসুস্থ মানুষ দুর্গন্ধে আরো বেশি অসুস্থ হয়ে গেছি। আপনারা এই বিষয়ে আমাদেরকে রক্ষা করেন।

খামারের পাশের বাড়িগুলোর আরো কয়েকজনের সাথে কথা হয়। তারা জানান, খামারের তীব্র দুর্গন্ধে তারাও টিকতে পারছেন না। এমনকি বাচ্চারা পড়াশোনাও করতে পারছেন না। নারী-পুরুষদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ লক্ষ্য করা গেছে। তাদের সকলের দাবি এই দুর্গন্ধ থেকে মুক্তি পাওয়া।

এসব বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে আব্দুর রশিদ বলেন, আমার খামার করা এক বছর এর বেশি সময় হয়ে গেছে। আমার খামার থেকে দুর্গন্ধ বের হয় না। এখানে আমার অনেক টাকা ইনভেস্ট করা হয়েছে আগে বললে খামারটা তৈরি করতাম না। আর খামার থাকলে কিছুটা গন্ধ বের হবেই।

রাজশাহীর পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক, মোছাঃ তাছমিনা খাতুন বলেন, এই ধরনের একটা অভিযোগ পেয়েছি। কোথাও কোন ব্যত্যয় ঘটলে খুব দ্রুত আমরা তদন্ত করে সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

সানশাইন /শামি


প্রকাশিত: জুন ১৫, ২০২৬ | সময়: ৭:০৫ অপরাহ্ণ | Daily Sunshine