বাগমারায় পুরাতন পুকুর সংস্কারে প্রশাসনের নিকট কৃষকদের আবেদন

স্টাফ রিপোর্টার,বাগমারাঃ

শুস্ক মৌসুমে পানি সংকট মোকাবেলায় রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বেশ কয়েকজন জমির মালিক স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেছেন। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে অবস্থিত কয়েকটি পুকুর সংস্কারের জন্য এই আবেদন গুলো করা হয়েছে।

সম্প্রতি বাগমারা উপজেলার সোনাবিলা (উত্তর একডালা), মাড়িয়া ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা পৃথক আবেদনের মাধ্যমে জানিয়েছেন যে, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় পুকুরগুলোর পাড় ভেঙে যাচ্ছে এবং পানি ধারণক্ষমতা কমে যাচ্ছে।

বর্ষা মৌসুমের আগে সংস্কার করতে না পারলে আসন্ন গ্রীষ্মে চরম পানি সংকট দেখা দেবে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি মাড়িয়া ইউনিয়নের মাড়িয়া বিলে পুকুর পাড়ে লেয়ার মুরগির খামার রয়েছে। সেখানে মুরগি রয়েছে আট হাজার। পরিবেশে খামারটি ভালোভাবে চললেও পুকুরপাড় ভেঙ্গে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ী। দ্রুত পুকুরের পাড় সংস্কার না করলে অর্ধ লক্ষ টাকার ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

আবেদনকারী মাড়িয়া গ্রামের জহুরুল ইসলাম, উত্তর একডালা গ্রামের খাইরুল ইসলাম, ভবানীগঞ্জ গ্রামের হাফিজুর রহমান বলেন, এসব পুকুর দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কৃষকদের সেচের পানির চাহিদা মিটিয়ে আসছে। পুকুর সংস্কার করা গেলে শুধু পানি সংরক্ষণই নয়, স্থানীয় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যও রক্ষা পাবে। সেই সাথে মাছের উৎপাদনও ভালো হবে।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, সরকারি অনুমতি পেলে আমরা পুকুরগুলো খনন করে এলাকার কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করতে পারবো এবং ভূগর্ভস্থ পানির উপর চাপও কমবে।

পুকুরগুলো সংস্কারের মাধ্যমে শুধু পানি সমস্যার সমাধানই নয়, আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ পরিবেশও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। সেই সাথে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।

পুকুর সংস্কার করতে না পারায় হাসানুরূপ মাছের উৎপাদন হচ্ছে না। এতে লোকসানের মুখে পড়ছেন মাছচাষিরা। পুকুরগুলোতে গিয়ে দেখা যায় প্রচন্ড খরায় পানি শুকিয়ে পুকুরের মাটি ফেটে গেছে। জন্ম নিয়েছে আগাছা।

এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে বাগমারা উপজেলা পরিণত হতে পারে জলসম্পদ সংরক্ষণের একটি অনন্য মডেলে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আহমেদ জানান, আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

মাহফুজুর রহমান /শামি


প্রকাশিত: জুন ১, ২০২৬ | সময়: ১০:১২ অপরাহ্ণ | Daily Sunshine

আরও খবর