বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
নুরুজ্জামান,বাঘা :
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পদ্মার চরাঞ্চলে একের পর এক সহিংসতা, ডাকাতি, চুরি ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন চরাঞ্চলের বাসিন্দারা। সেখানকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। শান্তিতে বসবাস ও নিরাপদে ঘুমানোর স্বার্থে তারা দ্রুত পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদের কাছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি চরাঞ্চলে মানুষের বাড়ির হালের গরু লুট, একাধিক ছিনতাই, এক রাতে দুই বাজারের আটটি দোকানে চুরি এবং চারটি বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এর আগে কাশবন দখলকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়ার কাকন বাহিনীর হামলায় ১০ জন গুলিবিদ্ধ ও তিনজন নিহত হন। এছাড়া বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষ এবং ফসল কাটাকে কেন্দ্র করে গুলিতে একজন নিহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
সর্বশেষ গত সোমবার রাতে বালুমহলকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়া থেকে ট্রলারযোগে বাঘার পদ্মার চরে এসে দুর্বৃত্তরা চকরাজাপুর হাটের পাশে দু’জনকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা চালায়। এ ঘটনায় অপর একজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, চরাঞ্চলে এসব ঘটনা যেন নিত্যদিনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে পরিণত হয়েছে। আমরা এর পরিত্রান চাই।
চরাঞ্চলের বাসিন্দারা জানান, তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। রাত হলেই আতঙ্কে থাকতে হয়। তাই দ্রুত স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন করার স্বার্থে স্থানীয় চারঘাট-বাঘা ও রাজশাহী ৬ – আসনের সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ এর কাছে।
এ বিষয়ে বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সেরাজুল হক জানান, চরাঞ্চলের পরিস্থিতি শান্ত রাখতে সেখানে এই মুহুর্তে নৌ-পুলিশ নিয়মিত রাতে টহল দিচ্ছেন। এবং আমরাও চেষ্টায় আছি সন্ত্রাসীদের আটক করতে।
অপরদিকে চারঘাট-বাঘা, রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সিনিয়র সদস্য আবু সাইদ চাঁদ বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছেন বলে জানা গেছে। তিনি ইতোমধ্যে চরাঞ্চলবাসীকে আশ্বাস দিয়েছেন যে, ঈদের পর সেখানে পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হবে।
এ ঘোষণায় চরাঞ্চলের সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও, আদৌ ক্যাম্প স্থাপন হবে কি না- তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেকে।
তবে চকরাজাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জগলু শিকদার এবং উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মুকলেছুর রহমান মুকুল জানান, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি’র সঙ্গে ইতোমধ্যে তাদের নেতার আলোচনা হয়েছে। চরাঞ্চলের মানুষ পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের জন্য এক বিঘা জমি দান করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তারা আশা করছেন, ঈদের পরই পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের কার্যক্রম শুরু করা হবে।
সানশাইন /শামি