, , ।
রানা হামিদ, বদলগাছী: নওগাঁর বদলগাছীতে ৩৪ টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এখনও কাঁচা সড়ক দিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের যাতায়াত করতে হয়। বিশেষ করে বর্ষাকালে চরম দুর্ভোগের কবলে পড়তে হয় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের। অনেক সময় দুর্ঘটনারও শিকার হতে হয় শিক্ষার্থীদের।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলায় আটটি ইউনিয়নে মোট ১৩৩টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে সদর ইউনিয়নের ২৩টি বিদ্যালয়ের মধ্যে কাঁচা রাস্তা ৮টির। মথুরাপুর ইউনিয়নে ১৭টি বিদ্যালয়ের মধ্যে কাঁচা রাস্তা ৪টির। পাহাড়পুর ইউনিয়নের ১৮টি বিদ্যালয়ের মধ্যে কাঁচা রাস্তা ৬টির।
কোলাতে ১৮টির মধ্যে ৬টির, বিলাশবাড়ীতে ১২টির মধ্যে ২টি, আধাইপুরে ১৮টির মধ্যে ৫টি, বালুভরায় ১৩টির মধ্যে কাঁচা রয়েছে ৩টি রাস্তা। তবে মিঠাপুর ইউনিয়নে কোনো রাস্তা কাঁচা নেই। এসব কাঁচা রাস্তার দৈর্ঘ সর্বনিম্ন ৩০ মিটার থেকে সর্বোচ্চ ২ কিলোমিটার পর্যন্ত।
বদলগাছী সদর ইউপির ১০নং গোল্লা মাধপাড়া সরকারী প্রাথামক বিদ্যালয়টি ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত। তবে বিদ্যালয়ে যাতায়াতের রাস্তাটির ৪০০ মিটার আজও কাঁচা। বর্ষাকালে এই বিদ্যালয়ে যেতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হয়। অনেক সময় দুর্ঘটনাও ঘটে।
গোল্লা গ্রামের অভিভাবক যতীশ চন্দ্র দেবনাথ জানান, বর্ষাকালে ছোট ছোট বাচ্চারা হেঁটে স্কুলে আসতে পারে না। মায়েরা কোলে করে স্কুলে দিয়ে যায়। শিক্ষকরা সাইকেল বা মোটরসাইকেল আধা কিলোমিটার দূরে রেখে হেঁটে আসে। গ্রামবাসীরা চাঁদা তুলে রাবিশ ও ভাঙা ইট দিয়ে কোনো রকমে হেঁটে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছে। জনপ্রতিনিধিদের বারবার বললেও তারা কোনো কর্ণপাত করেন না।
গোল্লা মাধপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান জানায়, বর্ষাকালে স্কুলে আসার সময় পা পিছলে পরে তার হাত ভেঙে যায়। এছাড়াও প্রায়ই পরে গিয়ে বই খাতা নষ্ট হয়ে যায়। তাই পাকা রাস্তা হলে খুব ভালো হয়।
গোল্লা মাধপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফেরদৌসী আখতার বলেন, রাস্তার এই দুরবস্থার কারণে এখানে কোনো শিক্ষক সহজে আসতে চায় না। রাস্তা নির্মাণের জন্য শিক্ষা অফিসে বারবার বলেছি। একাধিকবার মাপ নিয়ে গিয়েছে। কিন্তু রাস্তা হয়নি।
কামারবাড়ী আদিবাসী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য দুই গ্রাম থেকে দুটি রাস্তা রয়েছে। দুটিই কাঁচা ছিল। মাস ছয়েক আগে হাঁপানিয়া গ্রাম থেকে যাওয়ার রাস্তাটি ইট দিয়ে সোলিং করা হয়। কিন্তু নির্মাণের পরপরই রাস্তাটি বিনষ্ট হয়ে যায়। গ্রামবাসী জানায়, ইট সোলিং রাস্তাটি বর্তমানে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পরেছে। আগের মাটির রাস্তার চেয়েও এই রাস্তা বেশি খারাপ।
কামারবাড়ী আদিবাসী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির জমজ দুই ভাই লব ও কুশ জানায়, বর্ষাকালে তাদের বিদ্যালয়ে আসতে খুবই অসুবিধা হয়। বই পানিতে পরে ভিজে নষ্ট হয়ে যায়। জামা কাপড় নষ্ট হয়ে যায়।
এবিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম বলেন, বদলগাছী উপজেলায় ৩৪ টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কানেকশন রোড কাঁচা রয়েছে। এ কারণে শিক্ষার্থীদের ও শিক্ষকদের বিদ্যালয়ে যেতে অনেক সময় অসুবিধা হয়। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। আমি বিদ্যালয়গুলোর আবেদনের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ছনি এ বিষয়ে বলেন, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাঁচা রাস্তাগুলোকে পাকা করা হবে।