বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
নুরুজ্জামান,বাঘা :
রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে বৃষ্টির দেখা না পাওয়ায় তীব্র গরমে জনজীবন চরম দুর্ভোগে পড়েছে। খরার কারণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় অনেক টিউবওয়েলেই পানি উঠছে না। এ ছাড়াও ঘন-ঘন লোডসেডিং এর কারনে চরম সংকটে পড়েছে কৃষিখাত ও শ্রমজীবি মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড তাপদাহ বিরাজ করছে সীমান্তবর্তী বাঘা উপজেলা সহ পাশ্ববর্তী এলাকা সমুহে। দিনের বেলায় রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষদের কাজ করতে গিয়ে চরম কষ্ট সহ্য করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে পানির সংকট ও দীর্ঘস্থায়ী খরার কারণে তাদের জীবন মারাত্মক সংকটের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে এক টানা কয়েক মাস ধরে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত না হওয়ায় মাঠের ফসল শুকিয়ে যাচ্ছে, পানির স্তর নেমে গেছে আশঙ্কাজনক ভাবে, আর জনজীবনে দেখা দিয়েছে চরম দুর্ভোগ।
অন্যদিকে, বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিং পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। দিনে ও রাতে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারছে না, ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এই অঞ্চলের প্রধান ফসল ধান, আম ও বিভিন্ন শাকসবজি। কিন্তু অনাবৃষ্টির কারণে জমিতে সেচ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে অর্ধেক জমি ফেলে রেখেছেন। যারা সেচের মাধ্যমে ফসল বাঁচানোর চেষ্টা করছেন, তাদের খরচ বেড়েছে কয়েকগুণ। এতে করে কৃষকদের লোকসানের আশঙ্কা বাড়ছে।
লোকজন জানান, খরার প্রভাবে পুকুর, খাল-বিল প্রায় শুকিয়ে গেছে। নলকূপের পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় অনেক স্থানে বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় মানুষকে দূর-দূরান্ত থেকে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এর ফলে স্বাস্থ্য ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে।তীব্র গরম ও পানির অভাবে ডায়রিয়া, চর্মরোগসহ বিভিন্ন রোগের প্রকোপ বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুলোতেও রোগীর সংখ্যা বেড়েছে উল্লেখযোগ্য ভাবে।
অপর দিকে স্থানীয় কৃষকরা জানান, বৃষ্টির অভাবে জমিতে সেচ দিতে গিয়ে বাড়তি খরচ পড়ছে, আবার পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় সেচ কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। এতে করে চলতি মৌসুমের ফসল উৎপাদন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাঁরা অবিলম্বে সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পানির সংরক্ষণ প্রকল্প এবং জরুরি সহায়তা প্রদানের দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া এই সংকট থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষে উপজেলা কৃষি অফিসার শফিউল্লাহ সুলতান জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা চলছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে এবং পানির সংকট নিরসনে বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে কাজ চলছে। তবে দ্রুত বৃষ্টিপাত না হলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। তারা জরুরি ভিত্তিতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সব মিলিয়ে, বৃষ্টি না হওয়ার কারনে তীব্র গরম, পানির সংকট এবং ঘন ঘন লোডশেডিং বাঘা উপজেলার মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। লোকজন জানান,খরা শুধু একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, এটি এখন বাঘা উপজেলার মানুষের জীবনের বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই সংকট আরও গভীর হতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি উদ্যোগ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা এখন সময়ের দাবি।
সানশাইন /শামি