, , ।
সানশাইন ডেস্ক: আওয়ামী লীগ সরকারের পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে ১০টি দেশ চিহ্নিত করে সে দেশগুলোর সঙ্গে তথ্য বিনিময়, সম্পদ শনাক্ত করা, পারস্পরিক আইনি সহায়তা ও চুক্তির প্রক্রিয়া চালাচ্ছে সরকার। বুধবার বিকালে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের এমপি মো. কামরুজ্জামানের প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
ওই ১০ দেশ হল- যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এবং হংকং-চীন। এর মধ্যে মালয়েশিয়া, হংকং ও সংযুক্ত আরব আমিরাত চুক্তি সইয়ের বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে বলে সংসদে জানিয়েছেন সরকার প্রধান। তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির তথ্যমতে, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অর্থ প্রবাহের পরিমাণ আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বছরে গড়ে ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। পাচারের এ অর্থ একাধিক দেশে স্থানান্তরিত হওয়ার অভিযোগ থাকায় তা উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে তথ্য বিনিময়, সম্পদ শনাক্তকরণ এবং পারস্পরিক আইনগত সহায়তা জোরদার করা হচ্ছে।
“এ জন্য ‘পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি’ করা এবং ‘পারস্পরিক আইনগত সহায়তা অনুরোধ’ বিনিময় প্রক্রিয়ার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে। অর্থ পাচারের গন্তব্য দেশসমূহের মধ্যে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত ১০টি দেশের মধ্যে তিন দেশ চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে। অপর সাতটি দেশের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
প্রধানমন্ত্রী লিখিত বক্তব্যে বলেন, “ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সভাপতিত্বে একটি আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এই টাস্ক ফোর্স চিহ্নিত অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কেইসসমূহের অনুসন্ধান ও তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের নেতৃত্বে এবং পুলিশের সিআইডি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সমন্বয়ে ১১টি যৌথ অনুসন্ধান ও তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে।”
ওই তদন্ত দল গঠনের পর অগ্রাধিকার পাওয়া মামলাগুলোর অগ্রগতি সংসদে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। সেগুলো হল-আদালতের মাধ্যমে চলতি বছরের ২৫ মার্চ পর্যন্ত মোট ৫৭ হাজার ১৬৮ কোটি ৯ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে বিদেশে মোট ১৩ হাজার ২৭৮ কোটি ১৩ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। সবমিলিয়ে দেশে-বিদেশে প্রায় ৭০ হাজার ৪৪৬ কোটি ২২ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
পাচারের অর্থ পুনরুদ্ধারে ইতোমধ্যে ১৪১টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। ছয়টি মামলার রায় হয়েছে। সার্বিকভাবে বর্তমান সরকার দুর্নীতি, মানিলন্ডারিং ও আর্থিক অপরাধ দমনে বৃহত্তর কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিদেশে পাচার করা সম্পদ পুনরুদ্ধার কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। বিদেশে পাচার করা সম্পদ পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ফিনান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিটের অধীনে ‘চুরির অর্থ উদ্ধার বিভাগ’ (স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারি ডিভিশন) গঠন করা হয়েছে।
সংসদে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “গত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী আমলে সংঘটিত অর্থপাচার ও দুর্নীতির অনুসন্ধান করে একটি পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রকাশ এবং এতে চিহ্নিত দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।” স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিকাল ৩টায় এ সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব রাখা হয়।