বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
সানশাইন ডেস্ক: যুদ্ধ চলাকালে হরমুজ প্রণালি অবরোধে ইরান যেসব মাইন পেতেছিল সেগুলো এখন কোথায় আছে তা শনাক্ত করতে না পারায় বিপদে পড়েছে তেহরান।
তারা এখন সঙ্কীর্ণ ওই জলসীমাটি পুরোপুরি খুলতেও পারছে না বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমস। মার্কিন কর্মকর্তাদের এ ভাষ্য সত্য হলে তা ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনাকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। বিশ্বের তেলের এক পঞ্চমাংশই এ প্রণালি দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ‘শিগগির প্রণালিটি খুলে দেওয়ার’ তাগাদা দিচ্ছেন। কথা না শুনলে তেহরানকে ভুগতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
ওমানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা থমকে যাওয়ার পর তেহরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি ফের শুরু করেছে এই অভিযোগ এনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ বিমানহামলা শুরু করার পর ইরান গত মাসে ছোট ছোট নৌকাকে কাজে লাগিয়ে হরমুজে মাইন পেতেছিল। ইরান তাদের পেতে রাখা সব মাইনের অবস্থানের রেকর্ড রেখেছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি, বলা হয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে।
তারা যে অল্প কিছু মাইনের অবস্থান নথিবদ্ধ করে রেখেছিল, সেসব মাইন এমনভাবে পাতা হয়েছিল যাতে সেগুলোর সরে বা ভেসে যাওয়ার সুযোগ থাকে। ফলে এখন সেগুলো শনাক্ত করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে, বলা হয়েছে প্রতিবেদনে। “ইরানি কর্তৃপক্ষ প্রণালিটিতে ‘এলোমেলোভাবে’ মাইন পেতেছিল,” বলছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।
পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করা হরমুজ প্রণালি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তেল, গ্যাসসহ জ্বালানি ও আরও অনেক পণ্য সরবরাহে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। ভারতের আমদানি করা জ্বালানির ৮০ শতাংশই পথ দিয়ে যায়, বলছে এনডিটিভি। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর তাদের জারি করা সতর্কবার্তায় প্রণালিটি পার হতে চাওয়া নৌযানগুলো সামুদ্রিক মাইনের মুখোমুখি হতে পারে বলে জানিয়েছে। তবে তারা টোল দেওয়া নৌযানগুলোর পার হওয়ার জন্য অন্য একটি পথ খোলা রেখেছে।
চুক্তি মানতে ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা পার হওয়ার কয়েকঘণ্টা আগে ইরান যুদ্ধবিরতিতে রাজি হওয়ার পাশাপাশি হরমুজ খুলে দিতেও সম্মত হয়েছিল। কিন্তু পেতে রাখা মাইন সরাতে না পেরে তেহরান হরমুজ প্রণালি পার হতে চাওয়া নৌযানগুলোকে সঙ্কীর্ণ জলসীমার প্রধান অঞ্চলের বদলে বিকল্প এক পথ বেছে নিতে বলেছে। আগের মতো প্রণালিটি পার হতে চাইলে ‘সামুদ্রিক মাইনের’ সঙ্গে ধাক্কা খাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, বলেছে আইআরজিসি। তাদের বিবৃতিতে বিকল্প যে পথে প্রণালি দিয়ে ঢোকা ও বের হওয়া যাবে সে নির্দেশনাও জুড়ে দেওয়া হয়েছে।