বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
নুরুজ্জামান,বাঘা :
রাজশাহীর বাঘায় শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহাসিক ঈদ মেলা ঘিরে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। সোমবার প্রায় ৫০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই মেলা পরিদর্শনে এসেছিলেন রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহাজান আলী। মেলার সৌন্দর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি দেখে তিনি সন্তোষ প্রকাশ এবং ইতিবাচক মন্তব্য করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সেরাজুল হক।
এর আগে ঈদের বিশাল জামাতে অংশগ্রহণ করেন রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক, স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং কেন্দ্রীয় বিএনপির সিনিয়র নেতা আবু সাইদ চাঁদ। নামাজ শেষে তিনি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মুসল্লিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের খোঁজ খবর নেন। তাঁর এই উপস্থিতিকে ঘিরে বাঘার সর্বস্তরের মানুষ তাঁকে স্বাগত জানান।
মেলার সার্বিক বিষয়ে ইজারা কমিটির সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম ডিআইজি মোহাম্মদ শাহাজান আলীকে জানান, পূর্ববর্তী সময়ে ধর্মীয় ঈদ মেলার আড়ালে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত কার্যক্রম চললেও বর্তমান ব্যবস্থাপনায় তা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা হয়েছে। এখন মেলা স্বচ্ছ, সুন্দর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এজন্য তিনি বর্তমান সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ , মাজার কমিটি রইশ, উপজেলা প্রশাসন এবং বাঘা থানা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
স্থানীয়দের মতে, ঈদ মানেই আনন্দ, আর সেই আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দেয় এই ঐতিহ্যবাহী ঈদ মেলা। প্রায় পাঁচ শতাব্দী ধরে বাঘাবাসী এই ঐতিহ্য লালন করে আসছেন। ঈদের দিন থেকে শুরু হয়ে প্রায় দুই সপ্তাহব্যাপী এ মেলা শুধু স্থানীয়দের নয়, আশপাশের বিভিন্ন উপজেলার মানুষের কাছেও বিশেষ আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। মাজার কেন্দ্রিক ওরশ মোবারক ,সুলতানী আপমলে প্রতিষ্ঠিত শাহী মসজিদ, জাদুঘার, দিঘি এবং ঈদের বৃহৎ জামায়াত মেলার আনন্দকে বহুগুণে বৃদ্ধি করে।
মেলায় রয়েছে নানা ধরনের বিনোদনের আয়োজন । বিশেষ করে সার্কাস, নাগরদোলা, রাডার রাইড, ট্রেন ভ্রমণ, মৃত্যুকূপে মোটরসাইকেল প্রদর্শনী, জাদু খেলা, দোলনা ইত্যাদি। এছাড়া হরেক রকম খেলনা সামগ্রী এবং দূর-দূরান্ত থেকে আসা মিষ্টির দোকান-সহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান মেলাকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।
স্থানীয় সুশীল সমাজের অভিমত, অতীতে এই মেলায় অশ্লীলতা, জুয়ার আসর এবং অতিরিক্ত টোল আদায়ের মতো অভিযোগ থাকলেও গত কয়েক বছর ধরে এসব অনিয়ম বন্ধ করা হয়েছে। ফলে এখন একটি সুশৃঙ্খল ও ধর্মীয় পরিবেশ নিশ্চিত হয়েছে। এ কারণে এ অঞ্চলের ধর্মপ্রাণ মানুষ স্বস্তি ও আনন্দের সঙ্গে মেলায় অংশ নিচ্ছেন। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের এই উদ্যোগ সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে।
সানশাইন /শামি