, , ।
স্টাফ রিপোর্টার: অবিলম্বে পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ ও পেট্রলপাম্পে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স ডিস্ট্রিবিউটরস এন্ড পেট্রোল নাম পাম্প ওনার্স এসোসিয়েশন রাজশাহী জেলা শাখা।
শনিবার (১৪ মার্চ) মহানগরীর পদ্মা গার্ডেন কফি বার রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের রাজশাহী জেলা শাখার প্রধান উপদেষ্টা মো. আব্দুল আওয়াল খাঁন জ্যোঁতি লিখিত বক্তব্য রাখেন। আরো বক্তব্য রাখেন সংগঠনের রাজশাহী জেলা সভাপতি মোহাম্মদ মনিমুল হক, সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান শিমুল, কোষাধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম।
বক্তারা বলেন, গত কয়েকদিন ধরে প্রতিটা পেট্রলপাম্পে এক ধরনের বিভীষিকাময় ভীতিকর পরিস্থিতির বিরাজ করছে। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের আদেশ নির্দেশ ও তাদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে নাভিশ্বাসে রয়েছি আমরা। জেলার সকল পেট্রলপাম্প মালিক ও তাদের কর্মকর্তা কর্মচারীরা নির্ঘুম ও মাহে রমজানে রোজা রেখে অর্পিত দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালন করে আসছেন। তারপরও সরকারের পক্ষ থেকে সহানুভূতি ও দেখভালের ঘাটতি রয়েছে বলে তারা দাবি করেছেন।
তারা আরো বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থায় অস্থিরতা দেখা দেওয়ায় বাংলাদেশ সরকার জ্বালানি তেল বিক্রিতে রেশনিং বা সীমা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সারা দেশের পেট্রোল পাম্পগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ‘তেল ফুরিয়ে যাওয়ার’ যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে তা কেবল পরিস্থিতির অবনতিই ঘটাচ্ছে না, বরং নানাভাবে কৃত্রিম সংকটের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। আবার রেশনিং হওয়ায় প্রয়োজনের তুলনায় তেল সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে রাজশাহী বিভাগীয় শহর ও শিল্প নগরী সেই সাথে কৃষি প্রধান অঞ্চল হওয়ার কারণে এখানে জ্বালানী তেলের চাহিদা অন্যান্য জেলার তুলনায় দ্বিগুন। কিন্তু সে অনুযায়ী তেল সরবরাহ হচ্ছে না। এতে ক্রেতার চাপ সামলাতে হিমসিম খেতে হচ্ছে। অথচ আমরা তেল সরবরাহ কর্তৃপক্ষের কাছে অনেকটা জিম্মি হয়ে পড়েছি।
তবে সরকার বার বার বলছে দেশে পর্যাপ্ত তেলের মজুদ রয়েছে। আবার সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে বলা হচ্ছে রেশনিং করে জ্বালানি তেল সরবরাহ করতে। এই যে সিদ্ধান্তহীনতা এবং একেক সময় একেক বক্তব্য তা জনগণ বিশ্বাস করতে পারেনি। ফলে দিন-রাত পেট্রলপাম্পে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে মানুষ। আর মাঠ পর্যায়ে আমাদের তা সামাল দিতে হচ্ছে। এতে আমরা প্রতিপক্ষ হয়ে গেছি। আপতকালীন এ পরিস্থিতি আমরা কীভাবে নিজ উদ্যোগে নিয়ন্ত্রণ করছি। সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য আমাদের বাড়তি স্টাফ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারপরও বাকবিতণ্ডা লেগেই থাকে।
শেষে সংগঠনের পক্ষ থেকে সাতদফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হচ্ছে, রাজশাহী বিভাগীয় শহর ও শিল্প নগরী সেই সাথে কৃষি প্রধান অঞ্চল হওয়ার কারণে এখানে জ্বালানী তেলের চাহিদা অন্যান্য জেলার তুলনায় দ্বিগুন। কিন্তু সে অনুযায়ী তেল সরবরাহ হচ্ছে না।
আনিসুর রহমান শিমুল বলেন, এখন আমাদের কাছে যে তেল আছে তা রোববার পর্যন্ত সরবরাহ করা যাবে। আমরা রোববার পর্যন্ত তেল বিতরণ করবো। একই সঙ্গে এ ব্যাপরে রোববার রাজশাহী জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, খুলনা দিয়ে বাঘা বাড়িতে তেল আসছে। শতকরা ৭৫ শতাংশ তেল দেওয়ার কথা বললেও বাস্তবে তা মিলছে না। এজেন্সি গুলোতে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ঘটতি থাকছে। রোববারের মধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি পূরণ না হলে জেলার ৫০টি পাম্প ও ১০টি এজেন্সি তেল উত্তোলন বন্ধ রাখতে বাধ্য হবে।
সকাল হইতে বিকাল ৫টা পর্যন্ত নিরাপত্তার স্বার্থে পেট্রোল অকটেন বিক্রয় করা হবে। মজুত সাপেক্ষে দিবারাত্রি ডিজেল বিক্রয় করা হবে। কৃষি কাজের জন্য এজেন্সি পয়েন্টদের তেল সরবরাহ করতে হবে। চাহিদা মোতাবেক প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা প্রদান করতে হবে। আজ রবিবার চাহিদা মোতাবেক তেল সরবরাহ করতে ব্যর্থ হলে রাজশাহী জেলার সকল ফিলিং স্টেশন ও এজেন্সি পয়েন্ট আগামীকাল সোমবার ডিপো হইতে তেল উত্তোলনে বিরত থাকবে।
এসময় সংগঠনের রাজশাহী জেলা শাখার আরো উপস্থিত ছিলেন, সহসভাপতি মিজানুর আহমেদ, সহ সম্পাদক মোসলেসুর রহমান, এনামুর হক, মাজিউল ইসলাম, মতিউর রহমান, হাসিবুর হক, সদস্য মো. বাবু, মনির আলী, রনি, সোলাইমান, মিঠুন, রবিউল ইসলাম, আব্দুল গাফ্ফার, মিজানুর রহমান, কে এম সাদ্দাম হাবীব প্রমুখ।