, , ।
স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই শিক্ষা প্রশাসনে গতি ও শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে। প্রফেসর আ.ন.ম. মোফাখখারুল ইসলাম যোগদানের পর নানামুখী আধুনিক ও সময়োপযোগী উদ্যোগ গ্রহণ করায় শিক্ষা বোর্ডে এসেছে দৃশ্যমান উন্নয়ন। এতে উপকৃত হচ্ছেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চেয়ারম্যান প্রফেসর আ.ন.ম. মোফাখখারুল ইসলামের নেতৃত্বে শিক্ষা বোর্ডের প্রায় সব কার্যক্রমকে ডিজিটালাইজেশনের আওতায় আনা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন, আবেদন, ফরম পূরণ, প্রবেশপত্র সংগ্রহ, পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশসহ গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলো এখন অনলাইনে সম্পন্ন হচ্ছে। ফলে আগের মতো বোর্ডে এসে হয়রানিতে পড়তে হচ্ছে না শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের।
রাজশাহী মোহনপুর উপজেলার নাহিদ ইসলাম ইসলাম নামের এক শিক্ষার্থী বলেন,“আমি অষ্টম শ্রেণীতে থাকাকালীন সময়ে রেজিষ্ট্্েরশন করতে অনেক সমস্যায় পড়েছিলাম। কিন্ত এইবার দশম শ্রেণীর রেজিষ্ট্রেশনের সময়ে দ্রুত এবং কোন ভোগান্তি ছাড়াই ক্লাসের স্যাররা আমাদের করে দিয়েছে।”
পবা উপজেলার নওহাটা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওমর আলী বলেন,“আগে বোর্ডে গেলে আমাদের ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকতে হতো। কিন্তু বর্তমান সময়ে আমাদের কোন ভোগান্তি ছাড়াই স্কুলের সব কাজ করতে পারি। পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বসে অনলাইনেও এখন অনেক কাজ করা যায়। আগে যেগুলো করতে আমাদের অনেক সময় প্রয়োজন হতো।”
এছাড়াও বর্তমানে শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকেই অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে পারছে, আবেদন ও সংশোধন করে তাৎক্ষণিক প্রিন্ট নিতে পারছে। বাদপড়া শিক্ষার্থীদের জন্যও চালু করা হয়েছে অনলাইনে আবেদন ব্যবস্থা, যা আগে জটিল ও সময়সাপেক্ষ ছিল। পরীক্ষার হাজিরা শিট, প্রবেশপত্র এবং ফলাফলও ডিজিটাল মাধ্যমে সহজে পাওয়া যাচ্ছে।
এছাড়াও শিক্ষকদের পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন সম্মানি দ্রুত সময়ের ভিতরে দেওয়া হচ্ছে, যা আগে দীর্ঘ সময় লেগে যেত। অনলাইনে সার্টিফিকেট ও সনদপত্র সত্যায়নের ব্যবস্থা চালু হওয়ায় দ্রুত সেবা নিশ্চিত হচ্ছে। ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে, যাতে তারা পুনরায় শিক্ষার মূল ধারায় ফিরতে পারে।
এ বিষয়ে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আ.ন.ম. মোফাখখারুল ইসলাম বলেন,“শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমানো এবং শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। প্রযুক্তিনির্ভর সেবা নিশ্চিত করলে স্বচ্ছতা ও গতি দুটোই বাড়ে। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডকে একটি আধুনিক ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের জন্য আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।”
একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা জানান, বর্তমান চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেওয়ার পর বোর্ডের কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। মোহনপুর উপজেলার মৌগাছি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মাহবুবুর রহমান দুলাল বলেন,“আগে ছোট একটি সংশোধনের জন্য দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হতো। এখন অনলাইনে সবকিছু হওয়ায় সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় হচ্ছে।”
শিক্ষকদের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরাও চেয়ারম্যানের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, অনলাইনভিত্তিক সেবা চালু হওয়ায় হয়রানি কমেছে এবং পরীক্ষাসংক্রান্ত তথ্য দ্রুত পাওয়া যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রফেসর আ.ন.ম. মোফাখখারুল ইসলামের এসব উদ্যোগ রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।