, , ।
সানশাইন ডেস্ক: ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডের নামে ভোট কেনার কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর শাহজাদপুর এলাকায় নির্বাচনী প্রচারের সময় সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতির দিকে ইঙ্গিত করে নাহিদ বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ইত্যাদির নামে একধরনের ভোট কেনার প্রক্রিয়া, একধরনের কৌশল তারা অবলম্বন করছে। কিন্তু মানুষ আসলে এটাতে অত সাড়া দিচ্ছে না। মানুষ এগুলো বিশ্বাসও করছে না। কারণ, মানুষ এর আগেও এই ধরনের মিথ্যা প্রতিশ্রুতির কথা বিভিন্নভাবে শুনেছে।’ মানুষ আগের চেয়ে যথেষ্ট পরিমাণ সচেতন বলে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, একটা প্রতিশ্রুতি দিলেই হয় না। মানুষ প্রশ্ন করে, কীভাবে সেটা বাস্তবায়নযোগ্য হবে।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট মিথ্যা আশ্বাস দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘যারা আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী জোট রয়েছে, তারা বিভিন্ন মিথ্যা আশ্বাস দিচ্ছে। আসলে বাস্তবায়নের কোনো রূপরেখা তাদের নেই।’ নাহিদ জানান, ১৬ বছর পরে একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিস্থিতি ও পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তাঁরা মানুষকে উৎসাহিত করছেন যাতে মানুষ নির্বিঘ্নে নির্ভয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে আসেন। নাহিদ বলেন, ‘এবারের ভোটটা একেবারেই নতুন এবং বাংলাদেশের ভাগ্য পরিবর্তনের ভোট যেহেতু গণভোটও একসঙ্গে হচ্ছে। মানুষ যাতে এই ভোট প্রদানে ভয় না পায়। কারণ, আমরা দেখছি বিভিন্ন এলাকায় এমনকি আমার এলাকাতেও একধরনের ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে রাখা হয়েছে।’
প্রতিদ্বন্দ্বী জোটের প্রার্থীরা আচরণবিধি মানছেন না বলে অভিযোগ করে নাহিদ বলেন, ‘কোনো ধরনের আচরণবিধি এর আগেও মানা হয়নি, এখনো মানা হচ্ছে না। বিদ্যুতের তারে পোস্টার ঝোলানো হচ্ছে। আমাদের ব্যানার বা বিভিন্ন জায়গায় আমরা আচরণবিধি মেনে যতটুকু প্রচারণা কার্য করছি, সেখানে বাধা দেওয়া হচ্ছে। ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে।’ নাহিদ বলেন, গণভোটের প্রচারণা চালানোয় এনসিপি নেতাদের নির্বাচন কমিশন শোকজ করেছে। অথচ বিএনপি প্রার্থীরা আচরণবিধি লঙ্ঘন করলেও তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
ঢাকা-১১ আসনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ করবেন বলে অঙ্গীকার করেন নাহিদ। তিনি বলেন, ‘এই এলাকায় পানি ও গ্যাসের সংকট আছে। মাদকের কারবার চলে। এলাকার মানুষ, বিশেষত তরুণ সমাজ এটা দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই মাদককে নির্মূল করতে হবে। এই মাদকের সঙ্গে যুক্ত প্রশাসন এবং রাজনৈতিক ব্যাক আপ। ফলে এই দুইটাকেই যদি দূর করতে পারি, তাহলে মাদক সমস্যা সমাধান সম্ভব।’
তরুণ সমাজ ভোটকেন্দ্র পাহারা দেবে বলে জানান এনসিপি আহ্বায়ক। তিনি বলেন, ‘আমাদের তরুণ সমাজ, আমাদের সচেতন নাগরিকেরা ভোটকেন্দ্রে শুধু ভোট দিতেই আসবে না, এবার তারা ভোটকেন্দ্র পাহারা দেবে। ভোটের ফলাফল নিয়ে তারা বাসায় যাবে। যদি আমরা দেখি শেষ পর্যন্ত এই ইলেকশন কমিশন চূড়ান্ত পর্যায়ে গিয়েছে তারা নিরপেক্ষতার একেবারেই ধার ধারছে না, তাহলে এই ইলেকশন কমিশনের বিরুদ্ধে আমরা সর্বাত্মকভাবে নামব। আমরা আগাম সতর্কবাণী ইলেকশন কমিশনের জন্য দিয়ে রাখছি।’ এদিন নাহিদ ইসলাম ভাটারা থানা, বাঁশতলা, সুবাস্তু মার্কেটসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রচার চালান এবং উঠান বৈঠকে অংশ নেন।