বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
মিজানুর রহমান,চারঘাট:
রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনটিকে ঘিরেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অন্যতম গুরুত্বপুর্ণ আসন হিসেবে ব্যাপক আলোচিত। জয়-পরাজয় এর হিসাব-নিকাশ আর রাজনৈতিক কৌতূহলও রয়েছে আসনটি ঘিরে। ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত বিএনপির দখলে থাকায় আসনটি বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত থাকলেও ২০০৮ সালের পর থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আসনটি দখলে নেয় আওয়ামীলীগ। এসময় এ আসনটিতে আওয়ামীলীগের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয় আওয়ামীলীগের এমপি শাহরিয়ার আলমকে।
ফলে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে রাজশাহীর ৬টি আসনের মধ্যে এ আসনটি এখন চ্যালেঞ্জের আসন হিসেবে অনেকের ধারনা। এবারের নির্বাচনে আওয়ামীলীগ নিষিদ্ধ থাকায় প্রতিদ্বন্দীতা করছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ ৪টি দল। তবে এ আসনটিতে মুলত লড়াই হবে বিএনপির সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী দলটির। বিএনপি চায় আসনটি পুনরুদ্ধার করতে আর জায়ামাতে ইসলাম চায় আসনটি দখলে নিতে।
দলীয় সুত্রে জানা যায়,১৯৯১ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত টানা ৩টি সংসদ নির্বাচনে এমপি হিসেবে চারঘাট-বাঘা আসনটিতে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী। আর বিএনপির প্রার্থীর নিকটতম প্রতিদ্বন্দী ছিলো আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী। এরপর ২০০৮ সালের পর থেকে প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনে একক ভাবে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আসনটি দখলে নেয় আওয়ামীলীগ। এরপর সরকারের গুরুত্বপুর্ন মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী করা হয় এ আসন থেকে নির্বাচিত শাহরিয়ার আলমকে। ফলে এ আসনটি সকলের কাছে গুরুত্বপুর্ন আসন। তবে ১৯৯১ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ৭টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ৩টি নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে আওয়ামীলীগের ছিলো মূল প্রতিদ্বন্দীতা। বাকী নির্বাচন গুলো হয়েছে প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন। এসব নির্বাচনে কোনটিতেই প্রতিদ্বন্দীতায় ছিল না জামায়াতে ইসলামী। ফলে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের ইসলামীর প্রার্থীর চেয়ে বিএনপির প্রার্থী রয়েছেন সুবিধাস্থানে।
জানা যায়, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনে নিষিদ্ধ আওয়ামীগ ছাড়া প্রার্থী রয়েছে ৪টি দলের। তারা হলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির পক্ষে প্রতিদ্বন্দীতা করবেন রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সদস্য আবু সাইদ চাঁদ (ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজশাহী জেলার সেক্রেটারী অধ্যক্ষ নাজমুল হক (দাড়িপাল্লা), জাতীয় পর্টির ইকবাল হোসেন (লাঙ্গল) ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রার্থী আব্দুস সালাম সুরুজ (হাতপাখা)।
সরজমিন বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা যায়, এবারের নির্বাচনে ৪জন প্রার্থীপ্রতিদ্বন্দীতায় নাম লেখালেও মুল প্রতিদ্বন্দীতা হবে বিএনপির প্রার্থী আবু সাইদ চাঁদের সঙ্গে জামায়াতেইসলামীর প্রার্থী অধ্যক্ষ নাজমুলের। তবে প্রচার-প্রচারনায় সরগরম হয়ে উঠেছে চারঘাট-বাঘার অলি-গলি, চায়ের স্টল। প্রার্থীরা দিচ্ছেন বিভিন্ন ধরনের প্রতিশ্রুতি।
এ দিকে বিএনপির প্রার্থী আবু সাইদ চাঁদের ধানের শীষের পক্ষে একাট্রা হয়ে মাঠে রয়েছেন বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশি বিএনপির হেভিওয়েট ৬ নেতাসহ সব পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন। সেই দিক থেকে অনেকটা এগিয়ে রয়েছেন বিএনপির প্রার্থী আবু সাইদ চাঁদ। এছাড়াও বিগত সময়ে আন্দোলন সংগ্রামে এ অঞ্চলে বলিষ্ট ভূমিকা পালনের একমাত্র নির্যাতিত নেতা আবু সাইদ চাঁদের পক্ষে ভোটের ছুটছেন বিএনপি পন্থী একদল আইনজীবিসহ চিকিৎসক ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা । ফলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর ধানের শীষের ধারে কাছেও ভোট পাবেনা প্রাতদ্বন্দী জামায়াতের প্রার্থী বলে দাবি বিএনপি সমর্থকদের।
তবে থেমে নেয় জামায়াতের প্রার্থী নাজমুল হকও। তিনিও ছুটছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। সকাল থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে দুটি উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে যাচ্ছেন এবং দাড়িপাল্লায় চাাচ্ছেন ভোট। দিচ্ছেন নানা ধরনের প্রতিশ্রুতি। জনগন এবারের নির্বাচনে ব্যালটের মাধ্যমে প্রমান করবে জনগন আছে ন্যায়ের পক্ষে। তবে কে হবেন আগামী নির্বাচনে সংসদ সদস্য। তার জন্য অপেক্ষায় রয়েছেন চারঘাট-বাঘার মানুষ।
চারঘাট ও বাঘা উপজেলা নিয়ে গঠিত রাজশাহী-৬ আসন। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৪ হাজার ২৭৫ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৫১ হাজার ৬৮৭ জন ও পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫২ হাজার ৫৮৮ জন।
মিজানুর রহমান/শামি