বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
স্টাফ রিপোর্টার: তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি সাবেক চেয়ারম্যান দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশের একজন অতিগুরুত্বপূর্ন ব্যক্তি। আর পতিত সরকারের স্বৈরাচার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্মানতো দূরের কথা, নিজের প্রাণ বাঁচাতে তিনি দেশ ছেড়ে পালান। অথচ ঐ খুনি হাসিনাই বেগম জিয়াকে প্রাণে মেরে ফেলতে চিকিৎসা করতে দেননি। তাঁর চিকিৎসা নিয়ে শেখ হাসিনা নানা ধরনের কুরুচিপূর্ন মন্তব্য করেছেন বলে বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, পবা-মোহনপুর আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী এডভোকেট শফিকুল হক মিলন এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বেগম খালেদার কিশোরী বয়সে জিয়াউর রহমানের সাথে বিয়ে হয়। এরপর থেকেই শুরু হয় তাঁর জীবনের নানা টেনশন। কারণ যখন তাঁর বয়স মাত্র বিশ বছর তখন তাঁর স্বামী মেজর জিয়াউর রহমান ভারতর পাকিস্তান যুদ্ধে অংশগ্রহন করেন। সেই যুদ্ধে পাকিস্তান বিজয়ী হয়। এরপর ১৯৭১ সালে শুরু হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ। সে সময়ে তিনি পশ্চিম পাকিস্তানের সেনা অফিসার ছিলেন। সেখান থেকে তিনি পূর্ব পাকিস্তান আসেন এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষনা করেন। সে সময়েও বেগম খেলদা জিয়া নাবালক দুই সন্তান তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোসহ পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর নিকট আটক হন। সেখানে তিনি অনেক কষ্ট করেন। সেইসাথে তিনি কঠোর মনের মানুষ হিসেবে নিজেকে তৈরী করেন।
বেগম জিয়াকে বীর মুক্তিযোদ্ধা আখ্যা দিয়ে মিলন আরো বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পরে বেগম জিয়া বিএনপি হাল ধরেন। এরপর তিনি স্বৈরাচার হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ এর বিরুদ্ধে আন্দোলন করে পরাজিত করেন তিনি। এরপর ১৯৯১ সালে নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হন। সেইসাথে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহন করেন। এরপর তিনি দেশ গড়ার জন্য শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অসাপ্ত কাজ ও ১৯ দফা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি নারীর ক্ষমতায়ন ও নারী শিক্ষা প্রসারে নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়, মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়সহ নানা মন্ত্রণালয় গঠন করেন। সেইসাথে তিনি প্রেসিডেন্সী প্রথা বিলুপ্তি করে সংসদীয় প্রথা চালু করেন। এছাড়াও মেয়েদের জন্য প্রথমে পঞ্চম শ্রেণি ও দ¦াদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক করেন। সেই মহিয়সী নারী ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং তারিখ ঢাকার এভার কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। তাঁরই রুহের মাহফিরাত কামনায় আজকে এখানে দোয়া মাহফিল হচ্ছে। তিনি সবাইকে দোয়া করার জন্য অনুরোধ করেন।
তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ১২.১ মিনিট থেকে প্রচার প্রচারণা শুরু হয়েছে। বসে থাকার সময় নাই। প্রতিটি পাড়ায় পাড়ায় ধানের পক্ষে প্রচারণা মিছিল ও গণসংযোগ করার আহ্বান জানান উপস্থিত নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণকে। সেইসাথে নির্বাচন নিয়ে যেন কোন প্রকার বিশৃংখলা এলাকায় করতে পা নারে সেদিকে বিশেষভাবে খেয়াল রাখার আহ্বান জানান তিনি। বক্তব্য শেষে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। বক্তব্য শেষে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
পবার নওহাটা পৌর ৪নং ওয়ার্ড এলাকাবাসীর আয়োজনে বাগধানী মোড়ে বেগম জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন নওহাটা পৌর বিএনপির ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি কামাল হোসেন। সাধারণ সম্পাদক হুরমত আলীর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি জেলা বিএনপির সদস্য, নওহাটা পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র শেখ মকবুল হোসেন, নওহাটা পৌর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট রাকিবুল ইসলাম পিটার, সাবেক সভাপতি আব্দুল হামিদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মামুনুর সরকার জেড, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুর রহমান ও মিজানুর রহমান, পবা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম, সাবেক সদস্য নাজিম উদ্দিন, গোলাম মোর্তুজা প্রমুখ।