, , ।
চাটমোহর প্রতিনিধি: পারিবারিক দ্বন্দ্বের স্ত্রী কর্তৃক তালাকপ্রাপ্ত হওয়ার জের ধরে পাবনার চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডিউটিরত নার্সকে গলায় ছুরিকাঘাতে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে সেনা সদস্য স্বামীর বিরুদ্ধে।
আহত নার্সকে সহকর্মী ও হাসপাতালে আসা রোগির স্বজনরা উদ্ধার করে। ভর্তি করা হয়েছে আহত নার্সকে। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার ৯ জানুয়ারি সকাল ৮টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে।
আহত নার্স পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার কুষ্টিয়াপাড়া গ্রামের শাহজাহান আলীর মেয়ে সুলতানা জাহান ডলি (৪৫)। তিনি চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নার্স হিসেবে এক মাস আগে যোগদান করছেন। তার অভিযুক্ত স্বামী সেনা সদস্য চাটমোহর উপজেলার পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়নের মল্লিকবাইন গ্রামের নুর মোহাম্মদের ছেলে আমিরুল ইসলাম (৩৫)।
জানা গেছে, সেনা সদস্য আমিরুল ইসলামের সাথে দ্বিতীয় বিয়ে হয় নার্স ডলির। তার আগের সংসারে দুটি ছেলে-মেয়ে রয়েছে।
আমিরুলের সাথে বিয়ে হওয়ার কিছুদিন পর থেকেই আমিরুল তার স্ত্রীর সমস্ত টাকা পয়সা নিতে থাকে। ডলি তার পূর্বের ছেলে-মেয়ের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে, আমিরুল তাতে বারণ করে। এনিয়ে উভয়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এক পর্যায়ে ডলি আমিরুলকে তালাক প্রদান করেন। এতে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে আমিরুল।
শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত হাসপাতালের ইনডোরে নাইট ডিউটি করছিলেন নার্স ডলি। ডিউটি শেষ হবার একটু আগে সকাল ৮টার দিকে জরুরী বিভাগে আমিরুল এসে ডলির সাথে কথা কাটাকাটিতে জড়ায়। একপর্যায়ে তার কাছে থাকা ছুঁরি দিয়ে তার গলায় আঘাত করে। ছুরিকাঘাতে হাত কেটে যায়। ডলির চিৎকারে সহকর্মীসহ অন্যরা এগিয়ে এলে আমিরুল পালিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ওমর ফারুক বুলবুল বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। ওই নার্সকে আমাদের হাসপাতালেই চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তার গলায় আঘাত লেগেছে এবং সেলাই পড়েছে।
ঘটনাটি থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে। চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারওয়ার হোসেন জানান, স্বামী ও স্ত্রীর কলহের জেরে এঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।