বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
ঈশ্বরদী প্রতিনিধি: তীব্র শীতে কাঁপছে উত্তরের জনপদ ঈশ্বরদী। তীব্র শীত আর ঘন কুয়াশায় জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। সকাল থেকে উত্তরের হিমেল বাতাস ও কুয়াশাজড়ানো প্রকৃতিতে হাড় কাঁপানো শীতে কাঁপছে ঈশ্বরদী। বুধবার ঈশ্বরদীতে ছিলো চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত তিনদিন ধরেই ৮ থেকে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা উঠানামা করছে। সে সময় সূর্যের দেখা মেলেনি। ফলে খুব প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হয়নি বেশির ভাগ মানুষ। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন নিম্নআয়ের শ্রমজীবী মানুষেরা। তীব্র শীত উপেক্ষা করে তারা সংসার চালানোর জন্য সামান্য আয়ের আশায় শ্রম বিক্রি করেন।
বুধবার ৭ জানুয়ারিী ঈশ্বরদীতে চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্র রেকর্ড করা হয় ৭.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত মঙ্গলবার তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর গত সোমবার পুরো দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিলো ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস ঈশ্বরদীতে। এছাড়া গত ৭ দিন ধরে ঈশ্বরদীর তাপমাত্রা ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি থেকে ৯ দশমিক ৪ ডিগ্রির মধ্যে উঠানামা করছে।
উপজেলা বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় সবচেয়ে বিপাক রয়েছে ভাসমান, ছিন্নমূল ও নিম্ন আয়ের মানুষ। শীত নিবারণে বিতরণ থেকে সংগ্রহ করা একটি কম্বলই যেন ছিন্নমূল মানুষের একমাত্র সম্বল।
ঈশ্বরদী প্রেসক্লাব গলিতে আগুনে শীত নিবারণের সময় কথা হয় স্টেশনে থাকা ভাসমান মানুষ আবুল হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘পোলামাইয়া লইয়া শীতের মধ্যে কই যামু। অতিরিক্ত শীতে কোনোখানে যাইয়া শান্তি পাই না, তাই এহেনে আইয়া আগুনে শীত নিবারণের চেষ্টা করতাছি।’
স্টেশন রোডে ভ্রাম্যমাণ দোকানদার জুলমত শেখ বলেন, টানা শৈত্যপ্রবাহে শীতের পরিমাণ এতটাই বেড়েছে যে মানুষ নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া বের হচ্ছে না। বেচাকেনা একেবারেই নেই, কিভাবে চলবো বুঝতে পারছি না।
পৌর মার্কেটের সবজি ব্যবসায়ী রুবেল বিশ্বাস বলেন, ভোরে সবজি কিনে এনে বিক্রি করতে হয়। দু-তিনদিন অতিরিক্ত শীত আর কুয়াশায় বেচাকেনা নেই। সবজি বিক্রি করে যা লাভ হয় তা দিয়ে সংসার চলে। এত শীতে লোকজন বের না হলে কিভাবে বেচাকেনা হবে? একটু চিন্তায় আছি।
হাঁড় কাঁপানো শীতে ঈশ্বরদীর আশ-পাশের অঞ্চলে শীত জনিত বিভিন্ন রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। ঘরে ঘরে লেগে আছে স্বর্দি, কাশি সহ ঠান্ডায় সৃষ্ট রোগ বালাই। বিশেষ করে ছোট্ট শিশুদের রোগের প্রকোপ বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে। শিশু রোগের বিশেষজ্ঞ বা অভিজ্ঞ ডাক্তারদের কাছে শিশু রোগীদের দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ে। এদিকে তীব্র কুয়াশার ফলে যান চলাচলে ব্যাঘাত ঘটছে। উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে প্রায় ছোট খাটো দুর্ঘটনা লেগেই আছে।
কুয়াশার কারনে ঈশ্বরদী থেকে ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানের চলাচলরত যানবহনের সূচিতে বিঘ্ন ঘটছে। ফলে যাত্রীদের দারুণ বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। বিঘ্নিত হচ্ছে প্রয়োজনীয় স্বাভাবিক কার্যক্রম। যার প্রভাব পড়ছে আর্থিক খাতে। ব্যবসা-বাণিজ্য মন্দাভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। তীব্র শৈত্য প্রবাহের ফলে শহরের শীত বস্ত্র বিপনী বিতান গুলোতে কেনাকাটার ধুম পড়লেও অন্যান্য ব্যবসায় তেমন বেঁচা কেনা হচ্ছে না বলে ব্যবসায়ী সুত্রে জানা গেছে।
সূর্যের দেখা না মেলায় কিছু কিছু ফসলেরও ক্ষতি হচ্ছে। কনকনে শীতে খেটে খাওয়া মানুষরাও বেকার হয়ে পড়েছে। পথ শিশু ও ছিন্নমূল মানুষদের দুর্ভোগ আরো বেড়েছে। অন্যান্য বছরের মত এ বছর শীতবস্ত্র বিতনের তেমন খবর পাওয়া যায়নি। তবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুর রহমান রাতে ঘুরে ঘুরে কিছু শীতবস্ত্র বিতরণ করছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক নাজমূল হক রঞ্জন বলেন, শৈত্যপ্রবাহের সঙ্গে ঘন কুয়াশা আর হিমেল বাতাসে শীতের প্রকোপ বেড়েছে। তাপমাত্রা আরও কমে শীতের পরিমাণ বাড়তে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে।