সর্বশেষ সংবাদ :

রস ছাড়াই তৈরি হচ্ছে গুড়

স্টাফ রির্পোটার, বাঘা: খেজুর বা আখের কোন রস নেই। অথচ মণ মণ গুড় উৎপাদন হয়ে চলেছে। দেখতেও লোভনীয়। সাধারণ ক্রেতাদের বোঝার কোন ক্ষমতাই নেই যে গুড তারা আখ বা খেজুরের গুড় বলে খাচ্ছে সেগুলোতে আখ বা খেজুরের কোন রসই ব্যবহার করা হচ্ছে না। চিনি ও কাপড়ে দেয়া রঙ, আটা, হাইড্রোজ, গ্যাস পাউডার, চুন দিয়ে তৈরি হচ্ছে আখ ও খেজুরের গুড়। স্বাস্থ্যকর মনে করে যারা গুডগুলো কিনছেন তারাই চরম স্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়ছেন।
কোনো ধরনের রস ছাড়া তৈরি করা হচ্ছে গুড়। বুধবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌরসভার শাহাপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে র‌্যাব। এসময় বিপুল পরিমানের চিনি ও ভেজাল গুড় জব্দ করে র‌্যাবের সদস্যরা। একটি কারখানার মালিক লাকি ও সান্টুরকে ৫০ হাজার করে ১ লাখ টাকা জরিমানা করে রাজশাহী ভোক্তা অধিদপ্তরের উপপরিচাল ইব্রাহিম হোসেন। তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে আরও কারখানায় জরিমানা করা হবে। একই সঙ্গে এইগুলো ধ্বংস করা হবে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, এই গ্রামে গুড় তৈরির তিনটি কারখানা দেখা গেছে। কারখানাগুলোতে আখ এবং খেজুরের রসের কোন বালাই নেই। তবুও তৈরি হচ্ছে গুড়। কোনো কোনো কারখানার ভিতর দেখা গেছে- চুলাই কড়ায়ে গুড় তৈরি হচ্ছে। তার পাশেই বিভিন্ন খাঁচের উপর ফেলে দেওয়া হচ্ছে আকৃতি। তৈরি হওয়া গুড়গুলো পরবর্তীতে স্থানীয়সহ বিভিন্ন বাজারে পাঠানো হয়।
এই এলাকায় গুড় তৈরি করেন নানটু মিয়া। তবে র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি পালিয়েছেন। তার স্ত্রী মোসা. লাকি অকপটে স্বীকার করে বলেন, এ গুড়গুলো তৈরিতে কোনো ধরনের রসের ব্যবহার নেই। শুধু চিনি দিয়ে আখ এ খেজুরের গুড় তৈরি করা হয়। এরমধ্যে মেশানো হয়- কাপড় দেওয়া রঙ, আটা, হাইড্রোজ, গ্যাস পাউডার, চুন চিনি ব্যবহার করা হয়। এরপরে এগুলো রাজশাহী, নাটোর, পাবনার বিভিন্ন মেকামে পাঠানো হয়। সেগুলোতে বিভিন্ন দামে কেনা বেচা হয়। একই এলাকার শান্টুকে ৫০ হাজার টাকা জরিমান করা হয়।
র‌্যাব-৫ এর উপ-অধিনায়ক মেজর মোস্তাফিজুর রহমান বলেন- এখানে যে গুড়গুলো রয়েছে সেখানে আখ বা খেজুরের রসের কোন উপস্থিতি নাই। সবগুলো চিনি ও কেমিক্যাল দিয়ে তৈরি। কারখানাগুলো প্রায় এক টনের মতো গুড় রয়েছে। এইগুলো ধ্বংস করা হবে।


প্রকাশিত: November 27, 2025 | সময়: 7:49 am | সুমন শেখ

আরও খবর