, , ।
স্টাফ রিপোর্টার, গোদাগাড়ী: রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার প্রেমতলীতে পদ্মা নদীর তীরে মিথেন গ্যাসের উপস্থিতি মিলেছে। কয়েকদিন ধরে ওই এলাকায় নদীর পানি ও পাড়ের বালু থেকে নিয়মিতভাবে গ্যাসের বুদবুদ উঠছে। শনিবার রাষ্ট্রায়ত্ত তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানকারী প্রতিষ্ঠান বাপেক্স ঘটনাস্থলে গিয়ে মিথেন গ্যাসের আশানুরূপ উপস্থিতি শনাক্ত করেছে। পরীক্ষার জন্য তারা তিন বোতল গ্যাসও সংগ্রহ করেছে।
প্রেমতলী ঠাকুরঘাট এলাকার প্রায় অর্ধশত স্থানে বুদবুদ উঠছে। স্থানগুলো পদ্মা নদীর পানির নিচে ছিল। পানি সরে গেলে গত মঙ্গলবার স্থানীয়রা প্রথম এই বুদবুদ লক্ষ্য করেন। কৌতূহলবশত তারা দিয়াশলাই জ্বালিয়ে দেখেন, বালুর ওপর থেকেই আগুন জ্বলছে। মুহূর্তেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এবং পরদিন শতাধিক মানুষ ঘটনাস্থল দেখতে ভিড় করেন।
সেদিন ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, নদীর তীরে তিনটি স্থান থেকে অবিরাম বুদবুদ উঠছে এবং সেখান থেকে গ্যাস বের হওয়ার শব্দ শোনা যাচ্ছে। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদ ফায়ার সার্ভিসের একটি দল পাঠান। তারা গিয়ে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে ইউএনওকে অবহিত করেন। এরপর ইউএনও বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে পরীক্ষার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠান।
শনিবার দুপুরে বাপেক্সের ব্যবস্থাপক (জিওলজি) ও ভূতাত্ত্বিক জরিপ দলের প্রধান এসএম নাফিফুন আরহাম, উপব্যবস্থাপক ইমামুল ইসলাম এবং পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (পিজিসিএল) ব্যবস্থাপক রাসেল কবীর ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। তাদের সঙ্গে ছিলেন গোদাগাড়ীর ইউএনও ফয়সাল আহমেদ ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামসুল ইসলাম।
বাপেক্সের দলটি গ্যাস ডিটেক্টর দিয়ে পরীক্ষা চালিয়ে মিথেন গ্যাসের উপস্থিতি শনাক্ত করে। পরে তারা বুদবুদ ওঠা স্থানগুলো থেকে তিন বোতল গ্যাস সংগ্রহ করেন। দলটি নদীর পাড় ও আশপাশের অন্তত অর্ধশত স্থানে বুদবুদ উঠতে দেখে। পরে প্রায় ১০০ ফুট দূরের নদীর ওপারেও নৌকায় গিয়ে তারা আরও কয়েকটি স্থানে গ্যাস নির্গমন লক্ষ্য করেন।
ইউএনও ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘গ্যাসের বুদবুদ ওঠার খবর পেয়ে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে ফায়ার সার্ভিসের দল পাঠিয়েছিলাম। বাপেক্স এসে নিশ্চিত করেছে, এখানে মিথেন গ্যাসের উপস্থিতি রয়েছে। স্থানটি সংরক্ষিত ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানে যাতে কেউ না যায়, তা নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাপেক্স পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করবে।’
বাপেক্সের ভূতাত্ত্বিক জরিপ দলের প্রধান এসএম নাফিফুন আরহাম বলেন, ‘আমরা ডিটেক্টরের মাধ্যমে মিথেন গ্যাসের আশানুরূপ উপস্থিতি পেয়েছি। বুদবুদ ওঠা স্থান থেকে তিন বোতল গ্যাস সংগ্রহ করা হয়েছে। এই গ্যাস ল্যাবে পরীক্ষা করা হবে। পরীক্ষার ফলেই জানা যাবে এটি প্রকৃত খনিজ গ্যাস নাকি গাছপালা পচে তৈরি স্বল্পমাত্রার গ্যাস। ফলাফল পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘অতীতে এই এলাকায় সিসমিক সার্ভে (ভূকম্পন জরিপ) হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হবে। সিসমিক সার্ভের মাধ্যমে মাটির নিচের গ্যাস মজুদের মানচিত্র তৈরি করা সম্ভব হয়। পূর্বে যদি না হয়ে থাকে, আমরা তা করার উদ্যোগ নেব। পর্যাপ্ত গ্যাস মজুদ থাকলে ভবিষ্যতে অবশ্যই উত্তোলনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’