বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
স্টাফ রিপোর্টার: কোন রকম অনুদান ছাড়াই আব্দুল খালেক প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হয়েছিলেন রাজশাহীর পবা উপজেলার বড়গাছী ইউনিয়নের বড়গাছী কুটিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের। ঐ সদস্যই আবার অত্র বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা বনে যান। এমন কাণ্ড করেন বড়গাছী কুটিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের বর্তমান এডহক কমিটির সভাপতি আব্দুল খালেক এর ছেলে খালিদ হোসেন সোহান।
সোমবার সকার সাড়ে ১০টার দিকে অত্র বিদ্যালয়ে যেয়ে এ বিষয়ে জানতে চাইলে অত্র বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক সুনন্দ কুমার পাল বলেন, তিনি এই প্রতিষ্ঠানে ১৯৯৫ সালে চাকরীতে জয়েন্ট করেন। সে সময়ে আজিজুর রহমান নামে একজন সভাপতি ছিলেন। আজিজুরের মৃত্যু হলে আব্দুল খালেক সভাপতি হন। আব্দুল খালেক এক সময়ে ঢেউটিন ক্রয়ের পনের হাজার টাকার একটি রশিদ দিয়ে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হন।
তবে জানা গেছে ঐ বিলের রশিদ নাকি তৎকালীন সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিনুর অনুদানের টাকায় ক্রয় করা হয়েছিলো। আর ঐ বিলের রশিদ জমা দিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠাতা সদস্য বনে যান বলে অভিযোগও রয়েছে। প্রকৃত পক্ষে আব্দুল খালেক এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দাতা বা প্রতিষ্ঠাতা নয় বলে জানান অত্র এলাকার বাসিন্দারা।
অত্র বিদ্যালয়ের দাতারা হলেন, বড়গাছী কুঠিপাড়া এলাকার মৃত সাদামনি সরকারের সন্তান বদর সরদার, সাবেক মেম্বর ইয়াসিন সরদার, মহসিন সরদার, তাহাসিন সরদার, জাহাসিন সরদার, শাহানারা বেগম, জানেরা বেগম, বিউটি খাতুন ও মা মৃত সাবরজান রাবেয়া। বিষয়টি নিশ্চিৎ করেন সাবেক মেম্বর ইয়াসিন সরদার, এছাড়াও অন্যান্য ছেলেরাও বলেন, তারা ৫০ শতাংশ সম্পত্তি স্কুলের নামে দিয়ে দেন। এছাড়াও চারবারের কৃষিতে রাষ্ট্রপতি পদকপ্রাপ্ত প্রাপ্ত অত্র এলাকার মৃত চাষী রহিম উদ্দীন সরকার দান করেন তাঁর চারবিঘা সম্পত্তি। অথচ তাদের নাম কোথাও উল্লেখ নেই। হঠাৎ সম্পূর্ন ষড়যন্ত্র করে আব্দুল খালেক এর নাম প্রধান ফটকে প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে লিখে দেন বর্তমান সভাপতি খালিদ হোসেন সোহান।
এ নিয়ে অত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও এলাকায় ওঠে সমালোচনার ঝড়। সবাই প্রতিবাদ শুরু করেন। এর এক পর্যায়ের ঐ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠাতার নাম তুলে ফেলেন। বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, তারা এটা কখনো মেনে নেবেনা। প্রতিষ্ঠাতার নাম তুলে ফেলার সময়ে সভাপতি তার দলবল নিয়ে এসে তাদের উপরে চড়াও হয়। এ সময়ে তাদের হাতে দেশীয় অস্ত্র ছিলো বলে জানান তারা। শুধু তাইনয় আহ্বায়ক সাংবাদিকদের দিয়ে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করান। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণ বলেন, তাদেরকে চাঁদাবাজ বানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করান। এতে সমাজে তাদের সম্মান হানী হয়েছে জানান। তারা আরো বলেন, যেভাবে তাদের সম্মান হানী এবং স্কুলে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছে এজন্য সভাপতিকে ক্ষমা চাইতে হবে। ক্ষমা না চাইলে তারা কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে উল্লেখ করেন।
শিক্ষার্থীরা আরো বলেন, তার বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা না বলার জন্য রোববার রাতে শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি যান এবং হুমকী দেন। সেইসাথে বিদ্যালয় থেকে তাদের টিসি দিয়ে বিদায় করারো হুমকীও দেন বলে জানান শিক্ষার্থী। এ বিষয়ে অত্র বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক বলেন, খালিদ হোসেন সোহান সভাপতি হয়েছেন এর পেছনে তার কোন প্রকার হাত নেই। আর এ নিয়ে কোন প্রকার সভা হয়নি। কারণ এর পূর্বে কোন কমিটি ছিলোনা বলে জানান তিনি। তবে তিনি বাধাও দিতে পারেননি বলে উল্লেখ করেন। তিনি আরো বলেন, স্কুলের গেটে কারা ভাঙ্গচুর চালিয়েছে তাও তিনি জানেননা। শুধু তাইনয় তার নিকট কেউ চাঁদা দাবী করেননি বলে জানান তিনি। তবে এডহক কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। এখন শুধু নির্বাচনের পালা।
এদিকে বড়গাছী কুঠিপাড়া এলাকাবাসী আরিফ আলী, রানা, আব্দুল লতিফ, উজ্জল হোসেন, শরীফ ও চাঁদ মিয়াসহ উপস্থিত আরো অনেকে বলেন, খালিদ হোসেন সোহানকে আহ্বায়ক বানিয়েছেন অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। কারণ সোহান ও প্রধান শিক্ষক সুনন্দ কুমার পাল দুইজনেই পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের দোসর। পতিত সরকারের আমলে তারা ঐ এলাকায় রামরাজত্ব কায়েম করেছিলেন বলে তারা জানানা। তারা আরো বলেন, এখন তরুন দলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিএনপি’র ক্ষতি করছে। তাদের উভয়কেই অপসারণের জন্য দাবী জানান তারা। দ্রুত সময়ে মধ্যে প্রধান শিক্ষক ও আহ্বায়ককে অপসারণ না করলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে হুঁশিয়ারী দেন তারা।
এ বিষয়ে জানতে অত্র বিদ্যালয়ের সভাপতির নিকট মোবাইলে জানতে চাইলে তিনি বলেন ১৯৭৭ সালে প্রোবিধান অনুযায়ী ১৫ হাজার ৫০০ টাকার টিন ক্রয়ে দিয়ে ১৯৯৫ সালে অত্র বিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হন। আওয়ামীগের আমলে এসে তার বাবার নাম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য থেকে বাদ দেয়া হয়। কিন্তু সে সময়ে অন্যা কাউকে আর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে দেখানো হয়নি। এজন্য তিনি সভাপতি হওয়ার পরে এসে অতিতের সেই পদটাকে ফিরিয়ে দিতে এটা করছেন বলে উল্লেখ করেন।