সর্বশেষ সংবাদ :

হিসাবরক্ষককেও ‘স্যার ডাকার’ মতো অবস্থায় প্রাথমিকের শিক্ষকরা: উপদেষ্টা বিধান

সানশাইন ডেস্ক: দেশের শিক্ষকদের বেতনভাতা ও সামাজিক মর্যাদা নিয়ে খেদ প্রকাশ করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার।
তিনি বলেছেন, “শিক্ষককে যদি সত্যি সম্মান দিতে হয়, তাহলে তো শুধু মুখের কথায় চিড়া ভিজবে না, এ বিষয়টা আমাদের মনে রাখতে হবে।” রোববার দুপুরে রাজধানীর ওসমানী মিলনায়তনে বিশ্ব শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছিলেন বিধান রঞ্জন। তার ভাষ্যে, “আমরা যদি বলি শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা ও শিক্ষকদের বিত্ত; এখানে আমরা দেখব বরাবরই ট্রেডিশনালি শিক্ষকরা বিত্তবান ছিলেন না, কিন্তু মর্যাদাবান ছিলেন। তাদের চিত্ত ছিল, তাদের বিত্ত ছিল না। কিন্তু আমরা বর্তমানকালে যখন বাস করছি, যদি আর্থিক ব্যবস্থাপনার দিক বলি— তাহলে এটা হচ্ছে একটা পুঁজিবাদী যুগ।
“পুঁজিবাদ যা করেছে, তারা সব ধরনের সম্ভ্রামপূর্ণ পেশাকে সমানস্তরে নামিয়ে এনেছে এবং সম্ভ্রমকে দূর করে দিয়েছে। এখানে সবকিছু পণ্য, শিক্ষা একটা পণ্য এবং শিক্ষকরাও পণ্য। এবং এক্ষেত্রে চিত্তের মাপকাঠি হল বিত্ত। এই রূঢ় সত্যটা অস্বীকার করলে হবে না। আমাদের স্বীকার করতে হবে।”
গণশিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, “আমরা মুখে মুখে যতই শিক্ষককে সম্মান করি না কেন, সেখানে যদি আমরা দেখি শিক্ষকের অবস্থান কোথায়; তাহলে কিন্তু প্রকৃত সত্যটা স্পষ্ট হবে।” সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বেতনের ‘দুরাবস্থা’ তুলে ধরে উপদেষ্টা বিধান রঞ্জন রায় বলেন, “আমাদের সরকারি শিক্ষা কাঠামোতে সবচেয়ে নিচে রয়েছেন প্রাথমিক স্কুলের সহকারী শিক্ষকগণ। তারা কততম গ্রেডে বেতন পান? ১৩। একজন কম্পিউটার অপারেটরের স্কেলে আমরা তাকে ফেলেছি, এই হচ্ছে তার সম্মান।
“এবং উনি (প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক) উপজেলা হেড কোয়ার্টারে যেখানে উনার বেতনটা পান, ওই যে হিসাবরক্ষক- তার স্কেল হলো ১২। তাকে স্যার ডাকার মত অবস্থা। এই হচ্ছে আমাদের অবস্থা।” তিনি বলেন, “স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বাদ দিয়ে যদি হিসাব করি, আমাদের সরকারি কলেজের অধ্যাপক, তার স্কেল কত? ৪, অর্থাৎ উনি একজন যুগ্ম সচিবেরও নিচে অবস্থান করেন।”
বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য: ‘শিক্ষকতা পেশা: মিলিত প্রচেষ্টার দীপ্তি’। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীনের সভাপতিত্ত্বে অনুষ্ঠানে শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল আবরার উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদের মধ্যে ছিলেন— বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান এস এম এ ফায়েজ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মুহাম্মাদ রফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি সুজান ভাইজ, ইসলামিক ওয়ার্ল্ড এডুকেশনাল, সায়েন্টিফিক অ্যান্ড কালচারাল অর্গানাইজেশনের (আইসিইএসসিও) মহাপরিচালক সালিম এম আল-মালিক। অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক গোলাম মুস্তফা।


প্রকাশিত: October 6, 2025 | সময়: 4:32 am | সুমন শেখ