সর্বশেষ সংবাদ :

রাণীনগরে সরকারী বিদ্যালয়ের গাছ নিলাম ছাড়া বিক্রির ব্যবস্থা হয়নি

স্টাফ রিপোর্টার, নওগাঁ: নওগাঁর রাণীনগর সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুস সোবহান মৃধা কর্তৃক ওই বিদ্যালয়ের গাছ নিলাম ছাড়া কর্তন করলেও এখনও তার বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক কোন ব্যবস্থ্য গ্রহন করা হয়নি। এলাকাবাসী ওই গাছ কাটার বিরুদ্ধে এবং তার শাস্তির দাবীতে বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাকিবুল হাসানের নিকট দুটি লিখিত দরখাস্ত দিলেও গাছ কাটার ৮ দিন অতিবাহিত হলেও এখনও তার বিরুদ্ধে কোন প্রকার তদন্ত কমিটি গঠন বা কোন প্রকার শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের গোপনে গাছ কাটার এই ঘটনাসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির ইতিমধ্যেই স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ওই স্কুলের পশ্চিম দিকের ভবনের পেছনে একটি মেহেগনি গাছের বাগান রয়েছে। সেই বাগান ৫টি মেহেগনি গাছ গত আগস্ট মাসের ৩১ তারিখে নিলাম কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উপস্থিতিতে তার কার্যালয়ে নিলাম ডাকের মাধ্যমে সরকারি ১৪৩৮৪ টাকায় বিক্রি করা হয়। সুচতুর ওই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিলামে এক লোককে দিয়ে ডেকে নেয়।
স্থানীয় নিলাম ডাকের সাত কর্মদিবসের মধ্যে নিলামের সকল অর্থ জমা দিয়ে নিজ খরচে গাছগুলো কর্তন করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়। স্কুলের ভেতরে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের বসবাসরতদের মাধ্যমে জানা যায় ওই স্থানে ৯টি মেহেগনি গাছ ছিল। নিলাম প্রাপ্ত ব্যক্তি ৫টি গাছের স্থানে ৯টি গাছ নিয়ে গেছেন বলে জানান তারা।
বিদ্যালয়ের কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থীদের সাথে কথা হলে তারা জানান বহুবছর ধরে শিক্ষকদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে স্কুলের পাঠদান পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। তার উপর আবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের নানা অনিয়ম আর দুর্নীতি সেই দুর্নামের পাল্লাকে আরো ভারী করে চলেছে। গাছ বিক্রির কথা স্থানীয় কেউ তেমন একটা অবগত নয়। দায়িত্বরত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুস সোবহান মৃধা কৌশল করে নিজেই একজন ছেলেকে ব্যবহার করে নিলামে গাছগুলো ডেকে নেন।
এরপর শুক্রবার ছুটির দিন তিনি দায়িত্বশীল কোন ব্যক্তির উপস্থিতি ছাড়াই গোপনে ৫টি গাছের পরিবর্তে ৯টি গাছ কর্তন করেছেন। যে শিক্ষক সামান্য ক’টি গাছের লোভ সামলাতে পারেন না সেই শিক্ষক দ্বারা ওই বিদ্যালয়ের কতটুকু মঙ্গল হতে পারে। আমরা স্থানীয় বাসিন্দারা ও সাবেক শিক্ষাথীরা প্রায় অর্ধ শতাধিক স্বাক্ষরিত ওই বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট ওই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সোবহান মৃধার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, নারী লোভী, জাল সার্টিফিকেটধারী, দখলবাজ ও আইন অমান্যকারীসহ নানান অভিযোগে দরখাস্ত দিলেও এখনও পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোন তদন্ত করা হয়নি বা কোন প্রকার ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি। বরং সে এথনও পর্যন্ত বহাল তবিয়তে আছে। অথচ সরকারী কোন বিদ্যালয়ের শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করলে তাকে প্রথমে সাময়িক বরখাস্ত করে জরুরী ভিত্ততে তদন্ত পূর্বক পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। স্থানীয়রা এমন অন্যায় কাজের দৃষ্টান্তরমূলক শাস্তি দাবি জানান।
বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষিকার সাথে কথা হলে তারা জানান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গোপনে সরকারি প্রতিষ্ঠানের গাছ নিলাম ছাড়া কর্তন করবেন এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে তদন্ত সাপেক্ষে এমন দুর্নীতিবাজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কোন বিকল্প নেই। আমরা বহুবার তাকে সতর্ক করে দিয়েছি। কোন কথায় কর্নপাত করেননি।
বিদ্যালয়ের দায়িত্বরত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুস সোবহান মৃধা বলেন, নিলাম অনুসারেই গাছগুলো কর্তন করা হয়েছে। বাকি নিলাম ছাড়া গাছ কর্তনের কথা বললে তিনি বিষয়ুট অস্বীকার করে বলেন অনেকে শত্রুতা করে তার নামে মিথ্যে তথ্য প্রচার করছে বলে জানান তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নিলাম কমিটির সভাপতি রাকিবুল হাসান বলেন, বিষয়টি লোকমুখে শুনেছি ও জেনেছি এবং গাছ কর্তনের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুটি লিখিত দরখাস্ত পেয়েছি। অল্প সময়ের মধ্যেই তদন্ত কমিটি গঠন করে দিব। তদন্তে দোষি প্রমানিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে জানান তিনি।


প্রকাশিত: September 21, 2025 | সময়: 5:01 am | সুমন শেখ

আরও খবর