বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসন কেন বহাল করা হবে না জানতে হাইকোর্টের রুল

নকীব মিজানুর রহমান, বাগেরহাট :

বাগেরহাট জেলার চারটি সংসদীয় আসন বহাল রাখতে কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না এবং আসন সংখ্যা কমিয়ে তিনটিতে নামিয়ে আনার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) গেজেট কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না—তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথের হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে এ রুল জারি করেন। একইসঙ্গে নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্টদের আগামী ১০ দিনের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

রিট পিটিশনারদের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার শেখ মুহাম্মদ জাকির হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, আমরা রিট করেছি, আদালত আমাদের বক্তব্য শুনেছেন। আদালত রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন কেন বাগেরহাট জেলার চারটি সংসদীয় আসন বহাল থাকবে না এবং ইসির প্রকাশিত গেজেট কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না।

আমরা আশাবাদী, ন্যায়বিচার পাব এবং চারটি আসনই বহাল থাকবে।
বাগেরহাটে নির্বাচন কমিশন অফিসের সামনে চলছে অবস্থান কর্মসূচি।
প্রসঙ্গত, গত ৩০ জুলাই নির্বাচন কমিশন আসন্ন ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রাথমিকভাবে বাগেরহাট জেলার চারটি আসন থেকে একটি কমিয়ে তিনটিতে নামানোর প্রস্তাব দেয়। এ সিদ্ধান্তের পর থেকেই স্থানীয় রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষ চারটি আসন বহালের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে।

পরে ৪ সেপ্টেম্বর ইসি চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করে বাগেরহাটকে তিনটি আসনে ভাগ করে। এর প্রতিবাদে জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের ব্যানারে হরতাল, মহাসড়ক অবরোধ ও সরকারি অফিস ঘেরাওসহ লাগাতার কর্মসূচি পালন করা হয়।

স্বাধীনতার পর থেকে বাগেরহাটে যে চারটি আসন:
বাগেরহাট-১: মোল্লাহাট, ফকিরহাট, চিতলমারী।
বাগেরহাট-২: বাগেরহাট সদর, কচুয়া।
বাগেরহাট-৩: রামপাল, মোংলা
বাগেরহাট-৪: মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা।
ইসির নতুন গেজেট অনুযায়ী বিভাজন
চূড়ান্ত গেজেটে বাগেরহাটকে যে তিনটি আসনে ভাগ করা হয়েছে:
বাগেরহাট-১: বাগেরহাট সদর, চিতলমারী, মোল্লাহাট
বাগেরহাট-২: ফকিরহাট, রামপাল, মোংলা
বাগেরহাট-৩: কচুয়া, মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা

সানশাইন /শামি


প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৫ | সময়: ৯:৫৮ অপরাহ্ণ | Daily Sunshine