বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
মিজানুর রহমান, চারঘাট: ভারী বর্ষণ ও নদীর খরস্রোতের কারণে রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় পদ্মা নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলোতে দেখা দিয়েছে চরম ভাঙ্গন। আতঙ্ক আর চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন পার করছেন নদীরতীরবর্তী এলাকার হাজারো মানুষ।
এলাকাবাসির আশঙ্কা এভাবে পদ্মার তীর ভাঙ্গতে থাকলে হয়তো রাতের আঁধারে তলিয়ে যেতে পারে নদীর তীর বসবাসকারী লোকজনের মাথা গোজার ঠাই বসত বাড়িটিও। এমন আশঙ্কা থাকলেও এখন পর্যন্ত এগিয়ে আসেনি কেউ। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে নদীগুলোতে পানি বৃদ্ধি পেলেও তা বিপদসীমার নিচে রয়েছে।
রাজশাহী আবওহাওয়া অফিস সূত্রে জানান যায়, গত সাতদিনে জেলার এই অঞ্চলগুলোতে প্রায় ১৩৬.৩ মিমি বৃষ্টিপাত হয়েছে, তাদের তথ্য মতে তা মাঝারি ও ভারি বৃষ্টিপাত ক্যাটাগরিতে পড়ে। ভারি বৃষ্টিপাত ও উজানের পানিতে উপজেলার চন্দনশহর, পিরোজপুর, গোপালপুর এলাকার নদীতীরের প্রায় ২০০ বিঘা কৃষি জমি ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নিঃস্ব হয়ে গেছে প্রায় শতাধিক ব্যক্তি বলে জানান স্থানীয়রা। এছাড়াও হুমকির মধ্যে রয়েছেন এলাকার প্রাথমিক স্কুল, মসজিদ, রাস্তা সহ একাধিক বসতবাড়ি।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায় যে, চারঘাট পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ড সংলগ্ন গোপালপুর গ্রাম ও চন্দনশহর সংলগ্ন প্রায় ১ কিমি দীর্ঘ এ পদ্মাতীরের প্রায় এক’শ ফুট ভেঙ্গে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মধ্যে পড়েছে পিরোজপুর-২ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ প্রায় ১ হাজার পরিবার। ভাঙ্গন প্রতিরোধে স্ব-উদ্যেগে টিন, বাশ ও গাছ ব্যবহার করতে দেখা গেছে পিরোজপুর এলাকায়।
ইতোমধ্যে গত ৩ দিনে ১০ ফুট জায়গা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আমাদের কয়েকটি পরিবারের ঘর-বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন নদীর তীরে বসবাসকারী এলাকার বাসিন্দা হাসিবুর রহমান।
জানতে চাইলে চন্দনশহর এলাকার বাসিন্দা রোকেনা বেগম বলেন, প্রায় তিন বার পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেবার জন্য মাপঝোক করে গেলেও এ অঞ্চলে এখন পর্যন্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈর করতে পারে নাই। অব্যহত ভাঙ্গনে আমার প্রায় প্রায় ৩ বিঘা কৃষি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
টানা বর্ষণ, বাতাশ ও পানি প্রবাহ বৃদ্ধির ফলে আমার ঘর সহ এই গ্রাম হুমকির মধ্যে রয়েছে। ভাঙ্গন ভয়ঙ্কর রুপ নেবার পূর্বে স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অনুরোধ করেন গোপালপুর নদীপাড়ের বাসিন্দা মোসাররফ হোসেন।
ফোনে যোগাযোগ করা হলে পানি উন্নয়ন বোর্ড, রাজশাহীর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ সরকার বলেন উপজেলার দুইটি নদীর পানি কয়েকদিন ধরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখনও নদীগুলোর পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পানি বৃদ্ধির সময় প্রবল স্রোত থাকায় কোথাও কোথাও ভাঙ্গনের তথ্য পাচ্ছি। তবে যতদ্রুত সম্ভব সরেজমিনে নদী ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করে নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।