সর্বশেষ সংবাদ :

মোহনপুরে আলুর হিমাগারে পিস্তল ঠেকিয়ে দুর্ধর্ষ ডাকাতি

রাসেল সরকার, মোহনপুর :

রাজশাহীর মোহনপুরে দেশ কোল্ড স্টোরেজ নামের একটি আলুর হিমাগারে নিরাপত্তাকর্মী ও লেবারদের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৬ আগস্ট) দিনগত গভীর রাতে উপজেলার বাকশিমইল ইউনিয়নের গাঙ্গোপাড়া গ্রামের রাজশাহী-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশের ঐ হিমাগারে এ ঘটনা ঘটে। এঘটনায় হিমাগারের অন্তত ৫ থেকে ৬ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার সকালে মোহনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতাউর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 

 

 

 

চুরির ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী লেবার সরদার রুহুল আমিন জানান, বুধবার দিনগত রাত আনুমানিক ২ টার পর ১০-১৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ চোর চক্র হিমাগারে প্রবেশ করে পিস্তল ঠেকিয়ে নিরাপত্তাকর্মী ও লেবারদের হাত-পা ও চোখ বেঁধে ফেলে। এসময় চোর চক্রের সদস্যদের মধ্যে দু-জনার হাতে পিস্তল ও বাকি সদস্যদের হাতে দেশীয় অস্ত্র রামদা, ছুরিও লোহার রড ছিলো। সেখানে আমরা মোট ১৮ জন লেবার ঘুমাচ্ছিলাম। তারা আমাদের সবাইকে একে একে অস্ত্র ঠেকিয়ে জিম্মি করে ফেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী লেবার দুরুল হুদা জানান, তারা আমাদের মারধর করেনি। তবে হাত-পা ও চোখ বেঁধে সিরিয়াল করে বসিয়ে রাখে। এসময় চিৎকার চেচামেচি করলে আমাদের মেরে ফেলা হবে বলে জানায় চোর চক্রের কয়েকজন। একারণে প্রাণে বাঁচতে আমরা চিৎকার চেঁচামেচি করতে পারিনি। চোরেরা প্রথমে আমাদের বিশ্রাম ঘরে প্রবেশ করে বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে। এরপর তারা মোবাইলের ফ্ল্যাশ জ্বালিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে স্টোরের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ খোলা শুরু করে। তবে তারা নাম ধরে একজনের খোঁজ খুঁজছিলো, যাকে আমরা চিনিনা।

 

হিমাগার কর্তৃপক্ষ জানান, চোরেরা তালা ভেঙে বিভিন্ন রুমে ঢুকে নগদ ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। এছাড়াও তারা হিমাগারের ৩টি জেনারেটর, ৩টি ইউপিএস, পাওয়ার ট্রান্সফরমারের ৩৫ ফুট সংযোগ তার, ৩৬টি তিন ফুট লম্বা তামার বার, ৫টি সাবমারসিবল পাম্প, ৩টি ব্যাটারি, এসি মেশিন, বিভিন্ন ঘরের তালা ভেঙে মালামাল লুট করে। ডাকাতরা এসব মালামাল দুটি মিনি ট্রাকে করে নিয়ে যায়।

 

এবিষয়ে মোহনপুুুুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতাউর রহমান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে এটি চুরির ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে। একটি সংঘবদ্ধ চোর চক্র হিমাগারের তার ও যন্ত্রাংশ চুরি করতে এ ঘটনা ঘটাতে পারে। তবে এঘটনায় মালিক পক্ষের অভিযোগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান তিনি। ওসি আরো জানান, এঘটনা তদন্তে পুলিশের পাশাপাশি সিআইডি ক্রাইম ইনভেষ্টিগেশন টিম কাজ করছেন। পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসেছেন। তবে এখন পর্যন্ত এঘটনার সাথে সম্পৃক্ত কাউকে চিহ্নিত বা গ্রেফতার করা যায়নি। চুরি হওয়া মালামালও উদ্ধার করা যায়নি। ওসি আরও বলেন, আইনি প্রক্রিয়ায় তদন্ত চলছে, আশা করছি, তদন্তে সব বেরিয়ে আসবে। অপরাধীদের চিহ্নিত করা যাবে।

 

এদিকে, এটি আদৌ চুরির ঘটনা নাকি হিমাগার মালিক পক্ষের সাজানো নাটক তা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন আশেপাশে বসবাসকারি স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে (নাম প্রকাশ না করার শর্তে) প্রতিবেদককে বলেন, এতো বড় হিমাগারে সিসিটিভি ক্যামেরা রাখেনি কর্তৃপক্ষ। তাছাড়াও ১০- ১৫ জন চোর মিলে সেখানে অবস্থান করা ১৮ জনকে বেঁধে ফেলার বিষয়টি ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে বটে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে এটি চুরি নাকি সাজানো নাটক তা বেরিয়ে আসবে এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

সানশাইন /শামি


প্রকাশিত: August 7, 2025 | সময়: 6:22 pm | Daily Sunshine