বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
টিপু সুলতান,তানোর:
বাংলাদেশ ডাক বিভাগের রাজশাহীর তানোরে ডিজিটাল পোস্ট অফিেেসর ৫৫ জন গ্রাহকদের সঞ্চয় পত্রের ১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা পোস্ট মাষ্টার কর্তৃক গায়েবের ঘটনা সত্যতার প্রমান মিললেও দীর্ঘদিনেও টাকা ফেরত পাননি গ্রহকরা।
এঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত টাকা ফেরত পাওয়ার দাবিতে তানোর পোস্ট অফিসের গেটে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী অসহায় গ্রহকরা। এঘটনায় গ্রহকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ভুক্তভোগী গ্রাহকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, রাজশাহীর তানোর ডিজিটাল পোস্ট অফিসের পোস্ট মাস্টার মোখছেদ আলী প্রায় ৩ বছর ধরে ৫৫ জন গ্রাহকের সঞ্চয় পত্রের ১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা লেজার বইয়ে জমা না করে নিজেই আত্মসাৎ করেন। তবে, গ্রহকদের পাশ বইয়ে জমা দেখানো হয়েছে। গত ২৪ সালের মার্চ মাসে বিষয়টি জানা জানি হলে পোস্ট মাস্টার মোখছেন আলীকে অবরুদ্ধ করে রাখেন গ্রাহকরা।
এঘটনায় ওই সময় ডাক বিভাগের উর্ধবতন কর্মকর্তাদের তদন্তে গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের বিষয়টি প্রমানিত হওয়ার পর পোস্ট মাস্টারকে সাময়িক বরখাস্থ করে পুলিশে সোপর্দ করে তানোর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করেন ডাক বিভাগ কর্তৃপক্ষ। পরে রাজশাহী দুর্নীতি দমন কমিশনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। পোস্ট মাস্টার মোকছেদ আলী আদালত থেকে জামিনে মুক্ত পান। কিন্তু গ্রাহকরা তাদের টাকা এখনো ফেরৎ পাননি।
এবিষয়ে তানোর সদর গ্রামের মৃত জামালের স্ত্রী সিরিনা বলেন, ৮ লাখ টাকা তানোর পোস্ট অফিসে সঞ্চয় পত্রের মাধ্যমে জমা রাখা ছিল। মেয়াদ শেষে ওই টাকা তুলতে পারিনি। গত ২বছর ধরে তিনি জমানো টাকা ফেরত পেতে প্রশাসন ও পোস্ট অফিসের উর্ধবতন কর্মকর্তাদের দ্বারে দ্বারে ধর্না দিয়েও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না বলেও জানান তিনি।
একই কথা বলেন, তানোর সদর পালপাড়া গ্রামের মৃত সুরেন্দ্র নাথ পালের পুত্র হিরেন্দ্রনাথ পাল তিনি বলেন, আমার জমা রাখা ১৩ লাখ টাকার ফেরত পাইনি। তানোর সদর গ্রামে মৃত খোদাবক্স মেম্বারের পুত্র কুয়েত প্রবাসী মাসুদ রানা ২৬ লাখ টাকা এখনো ফেরত পাননি।
তানোর গোল্লা পাড়া গ্রামের অসেশ মালাকারের স্ত্রী গৌরী মালাকারের ৩ লাখ, টাকা, কয়েল গ্রামের সৈয়দ আলীর পুত্র মাসুদ রানার ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা, শ্রী খন্ডা গ্রামের মহন লালপালের পুত্র রাজকুমারের ১লাখ ৮০ হাজার টাকা। তালন্দ গ্রামের মৃত শামসুদ্দীন মন্ডলের পুত্র মোহাম্মদ নুরুল ইসলামের ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, হরিদেবপুর গ্রামের স্বামী সাধন সরকারের স্ত্রী মিনতি সরকারের ৮ লাখ টাকা, অরুপ কুমার নামে আরেক গ্রাহকের ৫ লাখ ৩৮ হাজার টাকা, পুস্প রানী ৫ লাখ টাকা, সাবিয়া খাতুনের ৪ লাখ টাকা, কৃষ্ঞা রানীর ৫ লাখ টাকা, রাশেদুল ৩ লাখ টাকা, পার্থ দাসের ১ লাখ টাকা, আঙ্গুরা খাতুনের ৫ লাখ টাকা, রেজিয়া খাতুনের ৫ লাখ টাকা এফডিআর হিসেবে রেখেছিলেন।
গ্রাহকরা তাদের জমানো মেয়াদ শেষে টাকা তুলতে এসে দেখেন লেজার বইয়ে টাকা জমা করা নাই। তখন বিষয়টি জানাজানি হয়ে পড়ে। ওই সময় পোস্ট অফিসের উর্বধতন কর্মকর্তারা গ্রাহকের টাকা ফেরত দেয়ার আশ্বাষ দেয়ার ১৫ মাস পেরিয়ে গেলেও টাকা ফেরৎ দেয়া হয়নি। দীর্ঘ ১৫ মাসেও কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেয়ার কোন ব্যবস্থা গ্রহন না করার গ্রাহকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী গ্রাহকরা বলছেন, আমাদের জমানো টাকা ফেরত দেয়ার ব্যবস্থা না নিলে কঠোর আন্দোলন করার হুসিয়ারী দেন তারা।
এবিষয়ে বর্তমানে কর্মরত তানোর পোস্ট অফিসের পোস্ট মাস্টার আব্দুল মালেক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আদালত থেকে মুক্তি পাওয়ার পর বরখাস্ত হওয়া পোস্ট মাস্টার মোখছেদ আলী আত্মগোপনে রয়েছেন। আপনারা রাজশাহী বিভাগীয় পোস্ট মাস্টার ডেপুটি জেনারেল রাকিব বিশ্বাস সারের সঙ্গে কথা বলেন।
তানোর উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিয়াকত সালমান বলেন, সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন ডাক বিভাগকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে।
টিপু সুলতান/শামি