সর্বশেষ সংবাদ :

রাজশাহীতে চোখ রাঙাচ্ছে করোনা

সবুজ ইসলাম: রাজশাহীতে চলতি বছরের মে মাসে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সনাক্ত হয়। এর পর থেকে সক্রামণের হার উদ্ধমুর্খী। প্রথমদিকে আক্রান্ত অধিকাংশই চিকিৎসক ছিলেন। এখন ধীরে ধীরে তা ছড়িয়ে পড়ছে কমিউনিটিতে। মে মাসের ২৭ তারিখ থেকে শনিবার (১৪ জুন) পর্যন্ত ১৮ দিনে ১৬৭ জন ব্যক্তির নমুনা পরীক্ষা করে ৪২ জনের করোনা সনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তের হার ২৫ শতাংশ । গড়ে প্রতি ৪ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১ জনের করোনা শনাক্ত হচ্ছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, চিন্তিত না হয়ে সমাজের প্রতিটি মানুষকে সচেতন হতে হবে। তবেই করোনা প্রতিরোধ সম্ভব।
রবিবার (১৫ জুন) সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে থেকে জানা যায়, গত মে মাসের ২৭ তারিখ থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৮ দিনে ১৬৭ জন ব্যক্তির নমুনা পরীক্ষা করে ৪২ জনের করোনা সনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তের হার ২৫ শতাংশ। গড়ে প্রতি ৪ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১ জনের করোনা শনাক্ত হচ্ছে। তবে, রবিবার সন্ধ্যায় সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী এ দিনে ৩১ জন রোগির করোনা টেস্ট করা হয়। এরমধ্যে ৯ জনের করোনা পজিটিভ আসে। ৪২ জন রোগি শনাক্ত হলেও হাসপাতালে কাউকে ভর্তি হতে দেখা যায়নি। তাদের ভেতরে কয়েকজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে নিজ বাসাতে অবস্থান করছে বলে জানা যায়।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মাইক্রেবায়োলজী বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডাঃ মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, ইনফ্লুয়েঞ্জা যেমন একটি রোগ যেটি এখনো সম্পূর্ণ নিরাময় হয়নি, ঠিক তেমনি কোভিড কখনো সম্পুর্ণ নিরাময় হবে না। এটি থাকবেই। তবে আমাদের সচেতনতার কোন বিকল্প নেই। দেশে আগে কোভিডের ২ থেকে ৩টা ওয়েভ পার হয়েছে। সবাই ভ্যকসিন গ্রহণ করেছে। এখন রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়েছে। আমাদের মনে রাখতে হবে কোভিডে মৃত্যুহার কম। তাই প্যানিক না হয়ে সচেতন হই, সবাই মাস্ক ব্যবহার করি।
এইদিকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে রামেক হাসপাতাল। করোনা আক্রান্ত রোগিদের জন্য রামেক হাসপাতালটিতে পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড খোলা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র শংকর কে বিশ্বাস বলেন, বর্তমানে হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত কোন রোগি ভর্তি নেই। তারপরও প্রস্তুতি হিসেবে চিকিৎসক-নার্সদের টিম গঠন করা আছে। ২৫ শয্যার আইসোলেশন ওয়ার্ডও আছে। সবার উচিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। বাইরে গেলে মাস্ক পরতে হবে, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হবে এবং বারবার হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। আমরা প্রস্ততি নিয়েই আছি।
রাজশাহী জেলার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মাহবুবা খাতুন জানান, করোনা মোকাবিলায় অক্সিজেন ও আইসোলেশনের কোনও ঘাটতি নেই। রাজশাহীর সব উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, তারাও প্রস্তুত রয়েছে। সবার সাথে যোগাযোগ রাখছি। আশা করছি কোন সমস্যা হবে না।


প্রকাশিত: June 16, 2025 | সময়: 5:50 am | সুমন শেখ